ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০২২, সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

বিএনপি-জামায়াত দূরত্ব আরও বাড়ছে

নূরে আলম জিকু
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো এক বছরের বেশি সময় বাকি। এরইমধ্যে রাজপথে সক্রিয় হয়ে উঠছে রাজনৈতিক দলগুলো। ঢাকাসহ সারা দেশে নিয়মিতই সভা-সমাবেশ করে আসছে বিএনপি  অন্যদিকে বিএনপি’র সঙ্গে প্রায় দুই যুগের সন্ধি ভেঙে আলাদা চিন্তা-ভাবনা করছে জামায়াত। জামায়াত আমীরের একটি বক্তব্য প্রচারের পর দল দুটির আলাদা অবস্থানের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। অনেকে এটিকে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব তৈরি বলে প্রচার করেন। সম্প্রতি এই দূরত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দল দুটির নেতাদের বক্তব্যেই তা অনেকটা স্পষ্ট হচ্ছে। যদিও বলা হচ্ছে জোটগত ঐক্য না থাকলেও আগামী নির্বাচনের আগে যুগপৎ আন্দোলন করবে উভয় দল।  এক মাস আগে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান অনলাইনে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিএনপি জোটের সঙ্গে তারা আর নেই। তবে বিএনপি’র সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
জামায়াত জোটে না থাকার জন্য বিএনপিকেই অনেকটা দায়ী করেছেন তিনি।

 যা পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তখন জামায়াত নেতারা দাবি করেন, ডা. শফিকুর রহমান অনলাইনে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ওই কথা বলেছেন। জোট ছাড়ার কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। বা আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। যদিও বিএনপি বা ২০ দলের সঙ্গে জামায়াতের এখন কোনো যোগাযোগ প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।  জামায়াত আমীরের বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সবাই এখন যুগপৎ আন্দোলন হিসেবে শুরুটা করতে চায়। এখানে ২০ দল মুখ্য নয় ঐক্যফ্রন্ট মুখ্য নয়। জোটের কথা চিন্তা করছে অনেকেই, এটাও মুখ্য নয়। মুখ্য একটাই- উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্দোলন। সেটা এ সরকারের পতনের আন্দোলন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি’র কিন্তু কোনো আদর্শিক সম্পর্ক নেই। আমাদের ২০ দলের তারা অংশীদার ছিল, এখনো আছে। জামায়াত এখন তাদের সিদ্ধান্ত তারা নেবে। আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা নেবো।  এদিকে সম্প্রতি সময়ে জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ বেড়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদের। গত ১৫ই সেপ্টেম্বর এক আলোচনা সভায় জামায়াত নেতা আবদুল হালিমকে পাশে বসিয়ে বক্তব্য দেন তিনি। তখন তিনি নাগরিক ঐক্য ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগকে ‘জান বাঁচানোর’ হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, আমার পাশে জামায়াত বসে আছে। 

এখন যদি বিএনপি পাশে বসে, তাহলে আওয়ামী লীগ জান বাঁচানোর রাস্তা খুঁজে পাবে না। যদিও হঠাৎ জামায়াতের সঙ্গে কর্নেল অলির সম্পর্ককে খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি বিএনপি।  ১৯৯৯ সালের ৬ই জানুয়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জামায়াতের তৎকালীন আমীর গোলাম আযম এবং ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আজিজুল হককে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে ২০ দলীয় জোট গঠন করা হয়। জোটে জামায়াতে ইসলামী সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। দশম জাতীয় নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে নিয়মিত বৈঠকে অংশ নিতো দলটি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দল দুটির মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়।  গত ২৬শে সেপ্টেম্বর জামায়াত নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পরকীয়া চলছে। আওয়ামী-জামায়াত হবে, বিএনপি-জামায়াত আর হবে না। তার এমন বক্তব্যে বিএনপি জামায়াতের ভেতর চলছে ব্যাপক তোলপাড়। জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অনেকটাই ক্ষুব্ধ ও হতাশ। টুকুর বক্তব্যকে ‘অশালীন’ উল্লেখ করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত স্বয়ং বিএনপি’র হাইকমান্ডও। এ নিয়ে গত কয়েকদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

 অনেকেই বলছেন- টুকুর এমন বক্তব্যে বিএনপি-জামায়াতের দূরত্বের বিষয়টি আবার সামনে এসেছে।  জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতির পর বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘সোমবার রাজধানীর হাজারীবাগে বিএনপি সমাবেশে আমার পুরো বক্তব্য ছিল আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে, জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে নয়। আমি জামায়াত নিয়ে কিছু বলিনি। বরং তাদের সাপোর্ট করেছি। এ নিয়ে জামায়াত বিবৃতি দিলে তারা অপরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছে’।  জামায়াতের একাধিক নেতা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী’র কোনো সম্পর্ক নেই। গত কয়েক বছর বিএনপি’র সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ থাকার পরেও বিএনপি জোট ছাড়েনি জামায়াত। এখনো ২০ দলীয় জোটে রয়েছে জামায়াত। তবে সম্প্রতি সময়ে জামায়াত নিয়ে বিএনপি’র নেতাদের বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এতে দুই দলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করবে। দূরত্ব বাড়াবে। জামায়াত নিয়ে যথাযথ তথ্য প্রমাণ ছাড়া মন্তব্য করা বিএনপি নেতাদের সমীচীন নয়।  জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ গতকাল মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর যারা জুলুম করেছে সেই দলের সঙ্গে যোগাযোগের প্রশ্নই আসে না। 

এই বিষয়ে বলাটা শিষ্টাচার বহির্ভূত। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য এভাবে কথা বলতে পারেন না। তিনি অপরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন। তার সততার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী কখনো কোনো আপস, গোপন ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। জামায়াতে ইসলামী বিএনপি জোটের সঙ্গে আছে। আগামীতেও থাকবে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর আবোল-তাবোল কথা বলার কারণে জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।  ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান মানবজমিনকে বলেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তার নিজস্ব বক্তব্য দিয়েছেন। জামায়াতও তাদের মতো করে বিবৃতি দিয়েছে। যা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তবে এসব বিষয় নিয়ে আমাদের জোটে কোনো আলাপ আলোচনা হয়নি।  

পাঠকের মতামত

জামাত আর থাকবেনা তাদের রাজনীতি বাংলাদেশে শেষ

সালমান তালুকদার
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ১২:১৭ অপরাহ্ন

বসন্তের কোকিল বসন্তের আগমন বার্তা পাওয়া মাত্রই কুহু কুহু রবে গাছের ঘন ডাল পালা পত্র পল্লবের ফাক ফোকরে বসে গান শুরু করে।সারা বছর ব্যাপি যাদের বন-বাদারের কোথাও গান ত দূরের কথা উড়তেও দেখা মেলা ভার। বনের ঝোপ ঝাড়ে লুকিয়ে থেকে শুধু উদর পুর্তির তারনায় পোকা মাকড় আর খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত থাকে। তেমনি কিছু বসন্তের কোকিলে বিএনপি এখন মূখর কারণ সামনেই ত নির্বাচন, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক বসন্তকালের পূর্বাবাস। কোকিলরা তো দাপাদাপি করবেই। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তেমনি চকচকে ঝিলিক মারা কালো আলোর কোকিল। জামায়াতকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত গান গেয়ে মুগ্ধ করার রোমাঞ্চে বিভোর কোকিল দলের সদস্য এই ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

ডোরাকাটা
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ১২:০৮ অপরাহ্ন

২০১৪ সালের পর থেকে জনসমর্থনের ভাড়ে ন্যুজ বিএনপি বনের বাঘ থেকে কাগুজে বাঘে পরিণত হয়েছে। সরকার পতনে নানা রকম কাগুজে হুমকিকে খেলনা পিস্তলের গুলি ছোড়ার ধ্বণি মনে করে আওয়ামী সরকার বিএনপিকে আন্দোলনের মাঠে অবোধ শিশু খেলোয়ার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভোট যুদ্ধের তুখোড় খেলোয়ারকে অবোধ শিশু খেলোয়ারে পরিনত করার পেছনে যারা প্রশিক্ষক হিসাবে দায়ীত্ব পালন করেছে তাদের একজন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ হাতিয়ে নেওয়া আওয়ামী গুপ্তচর ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। জামায়াত কি বিএনপির পাকা ধানে মই দিয়েছিল যার কারণে জামায়াত আঃলীগকে এক ব্র্যাকেট বন্দি করে অশ্লীল শিষ্টাচার বহির্ভূত অশোভন অশালীন কুরুচিপূর্ণ অপবাদ দিতে হলো? এক মাঘে শীত যায় না সামনে আরো মাঘ আছে।কথাটা বিএনপির সম্মানীত নীতি নির্ধারকদেরও স্মরণ রাখা উচিত।

তাঁরকাটা
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলসমূহের ঐক্য জরুরী।

তাহমিদ
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status