ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

শেষের পাতা

বিদেশি ঋণের বোঝা জনগণের ওপর না চাপানোর দাবি টিআইবি’র

স্টাফ রিপোর্টার
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার

বিদেশি ঋণের বোঝা জনগণের ওপর না চাপিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে লেনদেনের   
স্বয়ংক্রিয় তথ্য আদান-প্রদান সহায়ক ‘কমন রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড’ বা সিআরএস অবলম্বন করার মাধ্যমে কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার রোধের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ দাবি জানায়। এতে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবিলায় আইএমএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেয়া স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হলেও, সুদসহ ঋণ পরিশোধের বোঝা পুরোটাই জনগণের ওপর পড়বে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় বিনা খরচে কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার রোধের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বৈদেশিক ঋণের বহুগুণ বেশি অর্থ বাৎসরিক ও টেকসইভাবে উপার্জন করার পথ সরকারের জন্য উন্মুক্ত আছে বলে মনে করছে টিআইবি।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবিলায় আইএমএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের উদ্যোগ স্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুদসহ এ ধরনের ঋণ পরিশোধের বোঝা পুরোটাই জনগণকে বইতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, আর্থিক সংকট, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার ক্রমবর্ধমান ঘাটতি মোকাবিলায় বৈদেশিক ঋণ সহায়তাসহ অন্যান্য চলমান উদ্যোগ জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে কিনা! অর্থাৎ জনগণের ওপর ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে বিকল্প উপায় অবলম্বনের পথ বিবেচনা করা রয়েছে কিনা!
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটির তথ্যানুযায়ী ২০০৮-১৫ মেয়াদে চালান জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ পাচার হওয়ার পরিমাণ বছরে ৮.২ বিলিয়ন ডলার, যা হালনাগাদ তথ্যপ্রাপ্তি সাপেক্ষে ইতিমধ্যে কমপক্ষে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে। ক্রমবর্ধমান অর্থ পাচার বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ যে আকাশচুম্বী, এ বিষয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। বাংলাদেশের অর্থ পাচারের সিংহভাগ আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে মিসইনভয়েসিং বা চালান জালিয়াতির মাধ্যমে হয়। ফলে একদিকে যেমন ব্যাপক কর ফাঁকি দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
সরকারকে মনে রাখতে হবে, চলমান সংকটের মতো পরিস্থিতিতে কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পায়। উল্লিখিত বিশাল মাত্রার অর্থ পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য কার্যকর সিআরএস অবলম্বন করা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য, আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। 
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের অর্থ পাচারের গন্তব্য দেশগুলো, এমনকি তথাকথিত কর-স্বর্গ দেশ বা অঞ্চলগুলোও ইতিমধ্যে সিআরএস’র আওতাভুক্ত হয়েছে এবং তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাংক-গোপনীয়তার জটিলতা থেকে মুক্তির উপায় এখন বাংলাদেশের নাগালের মধ্যে। সব প্রভাব, ভয়-করুণা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে থেকে স্বল্প মেয়াদে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় এবং মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসইভাবে কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে সিআরএস অবলম্বনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার উদাহরণ স্থাপনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকার জাতীয় পর্যায়ে প্রযোজ্য আইনি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ওইসিডির উদ্যোগে এবং ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দেশে-বিদেশে সব প্রকার লেনদেনের স্বয়ংক্রিয় তথ্য আদান-প্রদান সহায়ক সিআরএস’র মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিবেশী একাধিক দেশসহ বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশ সব প্রকার ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবীক্ষণ করছে। এতে দেশগুলোতে তথ্যের লেনদেনের মাধ্যমে একদিকে দেশে-বিদেশে কর ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আদায় এবং অন্যদিকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ, চিহ্নিতকরণ, উদ্ধারসহ জবাবদিহি নিশ্চিতের সুযোগ অবারিত হয়েছে।

 

পাঠকের মতামত

Demand of Tib is very appropriate & on time

Nannu chowhan
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৭:১৮ অপরাহ্ন

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

শেষের পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status