বাংলারজমিন
কর্ণফুলীতে সংঘর্ষের ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিএনপি’র দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক আজাদীর (মাল্টিমিডিয়া) কর্ণফুলী প্রতিনিধি এবং কর্ণফুলী প্রেস ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক সাংবাদিক মো. মহিউদ্দিন। তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সহিংসতার ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। এ সময় হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কর্ণফুলীর বড়উঠান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকপাড়ায় জানাজার পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে কর্ণফুলী প্রেস ক্লাব এবং আনোয়ারা প্রেস ক্লাবসহ একাধিক সাংবাদিক সংগঠন। হামলার ঘটনায় কর্ণফুলী থানার ওসি আহত সাংবাদিকের বাসায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বিএনপি নেতা এহসান খানের মায়ের মৃত্যুতে সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম শোকাহত ব্যানার টাঙানো থেকে। পরে জানাজার পরে দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব লায়ন মো. হেলাল উদ্দিনের অনুসারী কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এসএম মামুন মিয়া ও হাজী ওসমানের নেতাকর্মীদের মধ্যে সরওয়ার গ্রুপের সংঘর্ষ চলে। দীর্ঘদিন ধরে দলে নেতৃত্ব নিয়ে উত্তেজনা ছিল, যার ফলস্বরূপ সংঘর্ষ বাঁধে। হামলার শিকার মহিউদ্দিন বলেন, সংর্ঘষের সময় তাদের আমি সাংবাদিক পরিচয় দিয়েও রক্ষা পাইনি। গাছের টুকরো দিয়ে মারধর করে কেড়ে নেয় মোবাইল ফোনও। আমার এলাকার লোকজন এগিয়ে এলে প্রাণে রক্ষা পাই। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে দেখতে যান কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব হাজী মুহাম্মদ ওসমান। এ সময় তিনি বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলা খু্বই দুঃখজনক। আমার দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোর্শেদুর রহমান নয়ন ও প্রথম আলোর সাংবাদিক মোরশেদ হোসেন বলেন, এসব হামলার বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
কর্ণফুলী থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফ বলেন, আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিনের বাসায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।