বাংলারজমিন
আমাকে যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়েছিল: জামায়াত আমীর
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাকে যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়েছিল। কুলাউড়ার অনেক মানুষকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কুলাউড়ার কোনো মানুষই সাক্ষী দেয়নি। যুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে ১২ বছর। জামায়াত বা শিবির করার আগে আমি যে ছাত্র সংগঠন করতাম এখন এই সংগঠনের নাম নিতে লজ্জা হয়। মঙ্গলবার বিকালে নিজ উপজেলা কুলাউড়া ডাকবাংলো মাঠে উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের আবালবৃদ্ধবনিতা সব জায়গায়, ঘরে, রাস্তায়, কর্মস্থলে নিরাপদ থাকবে এমন একটা দেশ গড়তে চাই। আমরা এমন একটা দেশ দেখতে চাই যেখানে চোর, ডাকাত, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের জ্বালায় মানুষ অতিষ্ঠ হবে না। আমরা দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ চাই। আল্লাহ যতদিন আমাদের তৌফিক দিবেন ততদিন আমরা লড়াই চালিয়ে যেতে চাই দেশকে এইভাবে দেখার জন্য। চা শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা শুরুতেই দাবি তুলেছিলাম চা শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির জন্য। যেখানে মালিক এবং শ্রমিক উভয়েই লাভবান হবে। শ্রমিক উপযুক্ত শ্রমের মূল্য পেয়ে আনন্দের সঙ্গে কাজ করবে। যার ফলে মালিক আরও লাভবান হবে।
জামায়াত আমীর বলেন, জুলাই বিপ্লবের আগে শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই ২৬ লাখ কোটি টাকা পাচার করে নিয়ে গেছে। দেশে তারা জমিদার ছিল আমরা প্রজা ছিলাম। এ সরকার কোনো দিনই মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করেনি।
উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল মুনতাজিমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরীর আমীর মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট আঞ্চলিক টিম সদস্য দেওয়ান সিরাজুল ইসলাম মতলিব, জেলার ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট আব্দুর রব, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মৌলভীবাজার সভাপতি আলাউদ্দিন শাহ, ঢাকা পল্টন থানা আমীর শাহীন আহমদ খান। এ ছাড়া ঈদ পুনর্মিলনী শেষে উপজেলার সুধী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান।