দেশ বিদেশ
ঈদযাত্রা: কেউ ফিরছেন ঢাকায়, কেউ ছাড়ছেন
স্টাফ রিপোর্টার
৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবারবুধবার ঈদের তৃতীয়দিন। এবার ঘরমুখো মানুষের ফেরার পালা নিজ কর্মস্থলে। সরকারি-বেরসরকারি প্রতিষ্ঠানে লম্বা ছুটি বিধায় স্বস্তিতে রাজধানীতে ফিরছেন মানুষজন। ঈদযাত্রায় বাড়ি ফিরতেও বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। ৯ দিনের লম্বা ছুটিতে আলাদা আলাদা সময়ে বাড়ি ফিরেছেন মানুষ। তাই একসঙ্গে ভিড় জমেনি বাস কিংবা রেলস্টেশনে। ঈদে বড় অংশই নিজ নিজ বাড়িতে ঈদ করতে চলে গেলেও কর্মজীবীদের কেউ কেউ ঈদের তৃতীয়দিনেও ফিরছেন বাড়ি। কেউ পরিবার নিয়ে ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন।
বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে দেখা যায়, ইতিমধ্যেই ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে ঈদে বাড়ি যাওয়া মানুষজন। অনেকে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে যাচ্ছেন রাজধানীর বাইরে। বাড়ির পথে যাওয়া মানুষদের অধিকাংশই হয়তো ঈদে ছুটি পাননি, কিংবা বিশেষ কারণে যেতে পারেননি বাড়ি। একটি পোশাকের শো-রুমে বিক্রয়কর্মী আসমা আক্তার বলেন, ঈদের আগেরদিন রাতে কাজ করতে হয়েছে। ফলে ঈদে গ্রামে পরিবারের কাছে যেতে পারিনি। তাই মাঝখানে একদিন বিশ্রাম নিয়ে আজ গ্রামে ফিরছি। ঢাকায় সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদ করেছি। ঈদের পর থেকে ছুটি পেয়েছি।
এক সপ্তাহের জন্য গ্রামে যাচ্ছি। সায়েদাবাদে বাস কাউন্টারে সুমন নামের এক যাত্রী বলেন, ব্যবসা করি ঢাকায়। পরিবার নিয়ে সাতক্ষীরার যাচ্ছি সেখান থেকে যাবো সুন্দরবনে। ঈদের ছুটিতে ব্যবসা ভালো চলে না, তাই ভাবলাম পরিবার নিয়ে একটু ঘুরে আসি। সে কারণে সুন্দরবনে যাচ্ছি।
আবার, বুধবার ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকাগামী ট্রেন ছেড়ে আসতে শুরু করেছে। এদিন দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ফিরতি যাত্রার যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরেছে ৮টি আন্তঃনগর ট্রেন। ঢাকা ছাড়ার সময়ের মতোই ফিরতি ট্রেনে যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই। কোনো শিডিউল বিপর্যয়ও ছিল না। এতে ঢাকায় ফিরতেও স্বস্তি পাচ্ছেন যাত্রীরা। বাস মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন ঈদ করতে গ্রামে যাওয়া নগরবাসী। আগামী কয়েক দিন এ ধারা অব্যাহত থাকবে। যাত্রী ফেরা শুরু হওয়ায় কোনো কোনো রুটের বাস অনেকটা খালি অবস্থায় ঢাকা ছাড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু আন্তঃনগর ট্রেন মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা রাত থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে এসেছিল। সেগুলো ভোরের দিকে পৌঁছেছে। এখনো যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই। ট্রেনের বগিতে তেমন ঠেলাঠেলি বা গাদাগাদি নেই। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন বলেন, এবার ঈদযাত্রা একেবারেই ভোগান্তিহীন হয়েছে। ফিরতি যাত্রাও আশা করি স্বস্তিদায়কই হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যাত্রীরা যাতে নিরাপদে ও স্বস্তিতে ফিরতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করাইÑ আমাদের লক্ষ্য।
সংবাদকর্মী সাব্বির বলেন, ঈদে সাংবাদিকদের ছুটি তিনদিন। ছুটি শেষ, তাই আজকেই ফিরতে হচ্ছে ঢাকায়। জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী তাইজুল ইসলাম বলেন, ঈদের কয়েকদিন বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভালো সময় কাটিয়েছি। সবাইকে ছেড়ে ঢাকায় আসায় একটু খারাপ লাগছে। কিন্তু আসতেই হলো ঢাকায়। সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে শরিফুল ইসলাম নামের আরেকজন যাত্রী তিনি বলেন, গ্রামে বাবা-মায়ের সঙ্গে সপরিবারে ঈদ করতে গিয়েছিলাম। একটি ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে কাজ করি। কাল থেকে আমার অফিস খুলছে। তাই আজকেই চলে আসতে হলো।