শরীর ও মন
রোজায় এনাল ফিসার রোগ ও করণীয়
অধ্যাপক ডা. এসএমএ এরফান
২০ মার্চ ২০২৫, বৃহস্পতিবারপ্রতিটি ব্যক্তিই চায় প্রতিটি রোজা যেন সুস্থ ও সবল থেকে পালন করতে। রোজা থেকে কিছুটা শারীরিক দুর্বলতা আসতে পারে তা রোজাদাররা সহজেই মানিয়ে নেয়। কিন্তু হঠাৎই খাওয়া-দাওয়া ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের ফলে কারও কারও কিছু অসুখ-বিসুখ দেখা দেয়। আবার কারও কারও অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া খাওয়ার ফলে কলোরেকটাল রোগ দেখা দেয়। তাই চেষ্টা করতে হবে যেসব খাবারে সমস্যা হয় তা পরিত্যাগ করতে। সাধারণত রোজায় অতিরিক্ত বা যাচাই-বাছাই করে না খাওয়ার ফলে রোজাদাররা যে বিষয়টিতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে সেটি হলো পায়ুপথের রোগ এনাল ফিসার। এনাল ফিসারকে সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, পায়ুপথ ছিঁড়ে যাওয়া। দেখা যায় মল শক্ত হলে বা অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগ করলে বা অনেক সময় ডায়রিয়া হলেও এনাল ফিসার হতে পারে। এনাল ফিসার হলে মলত্যাগের সময় মলদ্বারে তীব্র ব্যথা হয়। এই ব্যথা কয়েক ঘণ্টা এমন কি সারাদিন থাকতে পারে, রোগী মলত্যাগ করতে ভয় পায়, ফলে মল আরও কষা হয় এবং চক্রাকারে এই প্রক্রিয়া চলতে পারে। মাঝে-মধ্যে মলের সঙ্গে রক্ত যায়, তবে অল্প। ক্রমান্বয়ে মলদ্বার সংকুচিত হয়ে মলত্যাগ সব সময়ের জন্য কঠিন হতে পারে। প্রশ্ন হলো- এনাল ফিসারের সঙ্গে রমজানের সম্পর্ক কি? রমজানে আমরা সারা দিন সিয়াম সাধনার পর ইফতারের সময় খাই ভাজা-ভুজি, রাতে অনেকে মাছ মাংস সংবলিত উচ্চ ক্যালরি যুক্ত খাবার খেয়ে থাকেন। যেহেতু সারাদিন পানাহার বন্ধ থাকে সেহেতু ইফতারের সময় উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারই কাম্য, সেহ্রির সময়ও একই ধরনের খাবারই আমাদের খেতে হয়। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি জোগান দেয় সত্য, কিন্তু অবধারিতভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। যখন এই শক্ত কোষ্ঠ পরিষ্কার করতে হয় তখন প্রায়ই দেখা দেয় বিপত্তি। যাদের আগে থেকে মলদ্বারে এনাল ফিসার আছে বা মলদ্বার বংশগতভাবে একটু সরু, তাদের এই সময়ে এনাল ফিসার-এর প্রকোপ নতুন করে দেখা দেয়, শুরু হয় ব্যথা আর মাঝে মাঝে রক্ত যাওয়া। প্রচণ্ড ব্যথার কারণে রোগী রোজা রাখতে পারেন না। এনাল ফিসারের কারণে রমজানের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু একটু চেষ্টা করলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
চিকিৎসা:
যাদের এনাল ফিসার বা এ জাতীয় পায়ুপথের সমস্যা আছে তাদের রমজানের আগেই এর চিকিৎসা করিয়ে নেয়া প্রয়োজন। আর যাদের তাতেও কাজ হয় না তাদের একটি অপারেশন করা প্রয়োজন। পায়ুপথের এই অপারেশনের নাম ষধঃবৎধষ রহঃবৎহধষ ংঢ়যরহপঃবৎড়ঃড়সু (ষরং). এটি এখন আমরা লেজার দিয়ে করছি। যেখানে কোনো কাটাছেঁড়া, ক্ষত বা সেলাই থাকে না। কোনো রকম ড্রেসিং-এরও প্রয়োজন পড়ে না। রোগী একদিনেই বাসায় চলে যান এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেন। অপারেশনের দুইদিন পর থেকেই রোগী রোজা রাখতে পারবেন। যাদের পায়ুপথে এই জাতীয় সমস্যা আছে এবং যে কারণে রোজা রাখতে সমস্যা হয় বা রোজা রাখতে কষ্ট হয় তাদের জন্য এটি আশীর্বাদস্বরূপ।
তাই বলি চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন। রোজায় নিয়মিত প্রতিটি মুসলমান উপভোগ করুক এই প্রার্থনা করি।
চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি. (শ্যামলী শাখা), মিরপুর রোড, মোহাম্মদপুর (কিডনি হাসপাতালের বিপরীতে)।
হেল্পলাইন: ০১৮৬৫-৫৫৫৫১১, ০১৮৬৫-৫৫৫৫০০।