ঢাকা, ১৮ মে ২০২৪, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিঃ

শেষের পাতা

ফের জমজমাট ধানমণ্ডির রেস্তরাঁপাড়া!

শরিফ রুবেল
১৮ এপ্রিল ২০২৪, বৃহস্পতিবার
mzamin

বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। ভবনে ছিল না ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা। ভেতরে রাখা হয়নি ফায়ার এক্সটিংগুইশার। জরুরি বহির্গমন সিঁড়িতে ছিল ত্রুটি।  কোনো কোনো ভবনে জরুরি সিঁড়িই নেই। আবাসিক ভবনের অনুমতি নিয়ে তৈরি করা হয় ক্যাফে, হোটেল ও রেস্তরাঁ। অনেকের রাজউক ও ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রও ছিল না। অরক্ষিত রেস্তরাঁয় ব্যবহার হতো গ্যাস সিলিন্ডার। এমন সব অভিযোগে গত ৩রা মার্চ রাজধানী জুড়ে রেস্তরাঁয় সাঁড়াশি অভিযান চালায় রাজউক। অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার কারণে ধানমণ্ডি ও বেইলি রোডের অন্তত ১২০টি হোটেল ও রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
জরিমানার সঙ্গে এসব রেস্তরাঁ সিলগালাও করে দেন রাজউক। তবে অভিযানের এক মাস না পেরোতেই আবারো চালু করা হয় ধানমণ্ডি ও বেইলি রোডের রেস্তরাঁগুলো। জানা গেছে, ১৩ই মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে খুলে যায় ধানমণ্ডির বন্ধ রেস্তরাঁগুলো। ঈদের আগেই আশপাশের সব রেস্তরাঁ সচল হয়। কিছু কিছু রেস্তরাঁয় রমজানের অর্ধেক সময় জুড়ে সেহরি ও ইফতার পার্টি চলে। এই এলাকায় ফের ভোজনরসিকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।  রেস্তরাঁর সিঁড়ি ও লিফটের সামনে লম্বা লাইন। ভেতরে চলছে হই-হুল্লোড়। 

এতকিছুর পরেও বহাল তবিয়তেই চলছে ধানমণ্ডির ৫টি ভবনের প্রায় শতাধিক রেস্টুরেন্ট। কেয়ারী ক্রিসেন্ট টাওয়ার, ইম্পেরিয়াল আমিন আহমেদ সেন্টার, কেবি স্কয়ার, রূপায়ণ জেডআর প্লাজা, ইউনিমার্ট ভবনের  রেস্তরাঁগুলো ঈদের আগে থেকেই বেশ জমজমাট ছিল। বন্ধ করে দেয়া  বেইলি রোডে নবীন ভোজ ও সুলতান ডাইন রেস্তরাঁও পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে কি শর্তে এই রেস্তরাঁগুলো খুলে দেয়া হয়েছে তার কোনো সদুত্তর মেলেনি। কয়েকটি ভবনের ম্যানেজারদের কাছে জানতে চাইলে তারাও কোনো জবাব দিতে পারেনি। কেউ কেউ বলেছে, এই বিষয়ে মালিকপক্ষ বলতে পারবেন। তাদের আপাতত কিছু জানা নেই। তবে অনেকে বলেছে, রাজউকের শর্ত পূরণ করেই রেস্তরাঁ চালু করা হয়েছে। সরজমিন ঘুরে কেয়ারী ক্রিসেন্ট, কেবি স্কয়ার, ইউনিমার্ট ভবন, ইম্পেরিয়াল ভবনে গিয়ে অগ্নি নির্বাপণের বাড়তি কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। বন্ধ হওয়ার আগে যে অবস্থা ছিল সেই অবস্থা নিয়েই চলছে রেস্তরাঁগুলো। শুধু ঝুলে আছে নোটিশ। ফায়ার সার্ভিসের নকশা অনুযায়ী সিঁড়ি, ফায়ার ফাইটিং, ফায়ার এক্সিট, ব্যবহারের ধরন, অকুপেন্সি সার্টিফিকেট কিছুই এখনো সংগ্রহ করা হয়নি। তবুও নির্বিঘ্নে চলছে, লোকজন আসছে।  জানা গেছে, এফ-১ অনুমোদন নিয়ে এফ-২ সুবিধা নিয়েই চলছে এসব ভবনের রেস্তরাঁগুলো। ইম্পেরিয়াল ভবনে দ্যা গ্রিন লাউঞ্জ কিচেনে রান্নাবান্না চলছে। এখানে আসা মানুষের মধ্যেও তেমন কোনো ভ্রূক্ষেপ দেখা যায়নি। কারও মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ইম্পেরিয়াল ভবনের লিফটের সামনে কথা হয় শারমিন আক্তার নামের এক নারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, রেস্টুরেন্ট বন্ধ হলে আমাদের বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। বাসায় রান্না হয় না। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে আসি, খেয়ে চলে যাই। বেইলি রোডের থেকে শিক্ষা নিয়ে রেস্টুরেন্ট মালিকদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। কাস্টমারদের নিরাপত্তার কথা ভাবা উচিত। সচেতন হলে বেইলি রোডের মতো ঘটনা আর ঘটবে না। এতে আমাদের মতো মানুষের ঝুঁকি কমবে। 

ধানমণ্ডির সব ভবনের রেস্টুরেন্ট চালু দেখা গেলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ধানমণ্ডি ১৫ নম্বরের আলোচিত গাউসিয়া টুইন পিক টাওয়ারে। এখনো বন্ধ আছে ভবনটির সব রেস্তরাঁ। এখনো সিলগালা অবস্থাতেই আছে। যেন আলোহীন ভুতুড়ে আবহ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি। রেস্টুরেন্টগুলোর মালিকরা প্রতিদিন ভবনের নিচে এসে ভিড় জমান। সকাল-সন্ধ্যা অপেক্ষা করে ফিরে যান। তবে কবে খুলে দেয়া হবে এই ভবনের রেস্তরাঁগুলো তা কেউ বলতে পারছেন না। গাউসিয়া টুইক পিক ভবনের ম্যানেজার মো. সাখাওয়াত হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ধানমণ্ডির অন্য ভবনগুলো খুলে দেয়া হলো। কিন্তু আমাদেরটা খুলতে পারছি না। আমাদের সঙ্গে দ্বিমুখী আচরণ করা হচ্ছে। আমরা সবকিছু মেনে বিল্ডিং করার পরেও আমাদের উপর খড়্‌গ নেমে আসলো। এই ভবনের ব্যবসায়ীরা পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অনেকে ধার-দেনা করে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তাদের অবস্থা খুবই করুণ। 

সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ঝিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের কেয়ারী ক্রিসেন্ট ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে ৮ তলা পর্যন্ত প্রতিটি রেস্তরাঁই চালু রয়েছে। একই অবস্থা ১৫ নম্বরের কেবি স্কয়ারেরও। ওয়েটাররা কাজে ব্যস্ত আছেন। কিচেনে খাবার তৈরি হচ্ছে। রেস্টুরেন্টে আগত মানুষজন খাবারের অপেক্ষায় বসে আছেন। কেউ কেউ আবার খাবার খাচ্ছেন। এই ভবনে ১০টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির কফি শপ ও রেস্তরাঁ আছে। কেয়ারী ক্রিসেন্টে ক্যাপিটাল লাউঞ্জ নামে একটি রেস্তরাঁর ভেতরে প্রবেশ করে ওয়েটারদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, ১০ রমজান থেকেই তাদের রেস্তরাঁ চালু করে দেয়া হয়েছে। বন্ধের ২০ দিন পরেই আবার খুলে দেয়া হয়। ভবনের মালিক রাজউক, সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস থেকে অনুমতি নিয়ে আমাদের সবাইকে ডেকে রেস্তরাঁ খুলতে বলেছে। একই চিত্র অন্য ভবনগুলোতেও। 

এদিকে মানবজমিনের হাতে আসা কেয়ারী ক্রিসেন্ট বিল্ডিংয়ের রেস্টুরেন্ট খোলার অনুমতির একটি নোটিশে দেখা গেছে, কেয়ারী ক্রিসেন্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের একটি প্যাডে দোকান খোলার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সম্মানিত দোকান ও ফ্লোর মালিকদের জানানো যাচ্ছে, ভবনে রাজউক, সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশ মোতাবেক সমস্ত কাজগুলো আগামী ১ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লিখিত স্বীকারোক্তির মাধ্যমে কেয়ারী ক্রিসেন্ট এসোসিয়েশনকে সকল রেস্তরাঁ খুলে দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। 

কেবি স্কয়ারের ম্যানেজার আক্তারুজ্জামান আক্তার মানবজমিনকে বলেন, খুলেছে অনেক আগেই। কোন শর্তে অনুমতি মিলেছে তা আমার জানা নেই। আমাদের তেমন কোনো ভুল ধরতে পারেনি। দু’ একটা রেস্টুরেন্টে একটু অসঙ্গতি ছিল, তাদের জরিমানা করেছে। ভবনের কোনো ত্রুটি ছিল না। আমরা অভিযানের সময় এবং পরে কয়েকদিন নিজের ইচ্ছায়ই বন্ধ রেখেছি। তারপরে তাদের অবহিত করেই আবার চালু করেছি। সব শর্ত মেনেই চালু করেছি। 
কেয়ারী ক্রিসেন্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদুল হক মানবজমিনকে বলেন, আমাদের যে শর্তগুলো দেয়া হয়েছিল আমরা সেগুলো মেনে রেস্তরাঁ খুলেছি। তারা ১ মাস সময় দিয়েছে। আমরা এর আগেই সব অব্যবস্থাপনা সমাধান করতে পেরেছি। 
 

পাঠকের মতামত

MONEY ? MONEY!!! WE HAVE NO GOD WE HAVE NO RELIGION SRTANGE !

Sami
১৮ এপ্রিল ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ৯:০১ পূর্বাহ্ন

Money talks!

Shakira Matin
১৮ এপ্রিল ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ৪:৫৫ পূর্বাহ্ন

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status