ঢাকা, ২০ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১০ শাওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

প্রথম পাতা

গরুর মাংসের কেজি হঠাৎ ৮০০ টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, মঙ্গলবার
mzamin

রমজান মাস যত ঘনিয়ে আসছে মাংসের দর ততই বাড়ছে। এর মধ্যেই শবেবরাত উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংসের দাম বেড়ে এক লাফে ৮০০ টাকায় উঠেছে। গত কয়েকদিনে কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অধিকাংশ জায়গায় তা ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; কিছুটা ভালো মানের মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।

বাজারে সরবরাহের ঘাটতি থাকায় বেশি দাম দিয়ে গরু কিনতে হচ্ছে, এতে দাম বাড়তি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে জানান, প্রতিবছর পবিত্র শবেবরাত ও রমজান মাসের আগে গরুর মাংসের দাম বাড়ে, এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি।

প্রায় চার মাস আগে হঠাৎ করে ছন্দপতন ঘটে মাংসের বাজারে। কেজি নেমে আসে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। তখন ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নির্দেশে খামারি ও ব্যবসায়ীরা বৈঠক করে ডিসেম্বরের শুরুর দিকে প্রতি কেজি মাংসের দর ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বিক্রি হয় এ দরেই। নির্বাচনের দুই দিন পরই কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে দর ওঠে ৭০০ টাকায়।

বিজ্ঞাপন
এতদিন এ দর বা কিছুটা বেশিতে মাংস বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। গত বৃহস্পতিবারেও রাজধানীর বেশির ভাগ বাজারে ৭০০ টাকা দরে গরুর মাংস কেনা গেছে।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ও মহল্লায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ মাংস দোকান থেকে মূল্য তালিকা উধাও হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা কেজি বিক্রি করছেন ৭৫০ টাকা দরে। তবে এসব বাজারে কেজিতে আরও ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে কোথাও ৭৮০ আবার কোথাও ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
মিরপুর শাহআলী বাজার থেকে ৭৮০ টাকা দরে মাংস কেনেন তালেব। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ৬৫০ টাকা, দুই মাস না যেতেই কেজিতে দেড়শ’ টাকা বেড়ে গেল। তখন ৬৫০ টাকায় বিক্রি করলে এখন কেন পারেন না ব্যবসায়ীরা।

২০১৮ সালেও সিটি করপোরেশন নির্ধারিত ৪২০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসাবে পাঁচ বছরের ব্যবধানে দর বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
শাহআলী বাজারের মোল্লা গোস্তের স্বত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন বলেন, দুই সপ্তাহ আগে যে গরু কিনেছি ১ লাখে, একই ওজনের গরু কিনতে এখন লাগছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি। দাম না বাড়িয়ে উপায় নাই।

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মোর্তুজা মন্টু বলেন, গত এক সপ্তাহে প্রতিটি গরুর দাম অন্তত ১৫ হাজার টাকা বেড়েছে। গরুর দাম বাড়ার কারণে কেউ কেউ কেজি ৮০০ টাকায়ও বিক্রি করছে। তবে এর আগের দিন দুটি গরু জবাই করে কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি করে ৭ হাজার টাকা লোকসান দিয়েছি।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, শবেবরাতকে ঘিরে দাম বাড়ানোর কৌশল হিসেবে মাংস ব্যবসায়ীরা এসব অভিযোগ তুলছেন। মূলত উৎসবকে ঘিরে দাম বাড়ানোর কৌশল হিসেবে এসব অভিযোগ তুলছেন মাংস ব্যবসায়ীরা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, নানা জায়গায় ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযান ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। দাম সহনীয় রাখার যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে দেশে প্রতিবছর মাংসের উৎপাদন বাড়ছিল, কিন্তু গত অর্থবছরই প্রথম উৎপাদন কমেছে। উৎপাদন কমার আগের বছর (২০২১-২২) মাংসের উৎপাদন ছিল ৯২ লাখ ৬৫ হাজার টন; গত বছর তা কমে দাঁড়ায় ৮৭ লাখ ১০ হাজার টন। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগিসহ সব ধরনের মাংসের উৎপাদন কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

পাঠকের মতামত

রোজা নিকটবর্তী হলেই মুসলমান ব্যবসায়ীদের চরিত্র হনন ঘটে । কিন্ত বিদেশে অমুসলিম দেশের অমুসলিম ব্যবসায়ীদের চরিত্র শুদ্ধ বানায় মূল্য হ্রাস করে মুসলমান কে আরাম দায়ক রোজা রাখার সুযোগ করে দিয়ে। বেহেস্ত কাদের জন্য আল্লাহ ই ভাল জানেন।

Kazi
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বুধবার, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

@Ashiq আমি গত দুই বৎসর যাবত গরুর মাংস কিনা বন্ধ করে দিয়েছি। তাতে কি কমেছে গরুর মাংসের দাম। আপনি কোন দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলে কিনা বন্ধ করে দিলে কি কমে যায় পৃথিবী'র কোন দেশে এমন নজির আছে? সরকারই তার পলিসি দিয়ে দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনবে পার্শ্ববর্তী ভারতেই দেখুন পিঁয়াজ থেকে সব নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এনেছে।

মিলন আজাদ
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, মঙ্গলবার, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

অবস্থা দৃষ্ট মনে হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্যই হচ্ছে গরুর মাংস,অথচ আমরা ছোটবেলায় দেখেছি অনেক বাসায় গরুর মাংস এইজন্যই আনা হতো না যে গরুর মাংস খেলে নাকি এলার্জি হয়,আর এখন দেখছি গরুর মাংসের জন্য মাতম শুরু হয়ে গেছে হায় গরুর গোস্ত হাই গরুর গোস্ত|দেশের জনগণের এই হুজুগে পড়ার জন্যই অসাধু গরু ব্যবসায়ী ও কসাইরা তাদের ঠকবাজের ধান্দা শুরু করে দিয়েছে|এই অসাধু গরু ব্যবসায়ী ও কসাইদের পথে আনতে হলে একমাত্র নিদান হলো গরুর মাংস বর্জন করা,মাত্র দু এক মাস আমরা যদি গরুর গোশত বর্জন করি তাহলে দেখতে পাবেন যেই অসাধু ব্যবসায়ীরা রাস্তায় বসে আহাজারী করছে|তারপরেই দেখা যাবে যে বর্তমান মাংসের মূল্যের আদা মূল্যে ওই মাংসই পাওয়া যাচ্ছে|

Babul H Azam
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার, ১১:০৬ অপরাহ্ন

যারা বর্তমান বাজারে গরুর মাংসের নিয়মিত ক্রেতা তাদের শা-ন, মা-ন ও ইজ্জত রক্ষার্থে প্রতি কেজির দাম 5000/ টাকা করা হউক!!!

MD HUMAYUN KABIR
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার, ১০:১০ অপরাহ্ন

রোজার মধ্যে গোসত কেনা বন্ধ করে দেন দাম আবার কমে যাবে।

Ashiq
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার, ৯:৫৭ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে সারা বৎসর হাঁড়যুক্ত মাংস ৮০০৳ হাঁড় ছাড়া মাংস ৯০০৳ আশাকরি রমজানে ১০০০৳ হবে।

মিলন আজাদ
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার, ৮:৪৮ অপরাহ্ন

দাম বাড়াটা যেহেতু সরকার বিরোধীদের ষড়যন্ত্র, সেহেতু সরকারের এখানে করার কিছুই নেই। বড়জোর বিরোধী দের কে গ্রেফতার করা যায়।

parvez
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার, ৮:৩৭ অপরাহ্ন

ইলেকশনের আগেই মন্তব্য করিয়াছি যে ইলেকশনের পরে ৮০০ শত এবং ঈদের সময়ম ৯০০-১০০০ টাকায় কিনতে হবে। যতক্ষন বিচার বিভাগ স্বাধীন ও সৎ না হবে।

মোঃ আবু হানিফ
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার, ৮:১১ অপরাহ্ন

যারা বর্তমান বাজারে গরুর মাংসের নিয়মিত ক্রেতা তাদের শা-ন, মা-ন ও ইজ্জত রক্ষার্থে প্রতি কেজির দাম ২৫০০/ টাকা করা হউক!!!

বোদাই
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার, ৬:৫৩ অপরাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

   

প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status