ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, রবিবার, ৯ আশ্বিন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫ হিঃ

দেশ বিদেশ

ট্র্যাভেল পাস পাচ্ছেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কূটনৈতিক রিপোর্টার
৯ জুন ২০২৩, শুক্রবারmzamin

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতের আসাম থেকে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী দেশে ফিরতে পারবেন। বাংলাদেশি পাসপোর্ট সঙ্গে না থাকায় সীমান্ত পাড়ি দেয়ার জন্য তাকে অস্থায়ী ভ্রমণ কার্ড ট্র্যাভেল পাস দেয়া হবে। সালাহউদ্দিনের অনুকূলে ট্র্যাভেল পাস ইস্যু করতে ইতিমধ্যে গৌহাটির বাংলাদেশ মিশনকে সরকারের তরফে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (৮ই জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক সেহেলি সাবরীন দেশের বাইরে অবস্থান করায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মহাপরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আলম ব্রিফ করেন। বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেয়ে আমাদের গৌহাটি মিশনকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে ট্র্যাভেল পাস ইস্যু করাসহ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। সালাহউদ্দিন এখন বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন জানিয়ে সেগুনবাগিচার মুখপাত্র বলেন, তিনি কবে ফিরবেন তা তার নিজের ওপর নির্ভর করছে। এর আগে দেশে ফিরতে ট্র্যাভেল পাস চান সালাহউদ্দিন। 

গৌহাটি মিশন সেই আবেদন ঢাকায় পাঠায় সরকারের মতামতের জন্য। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১১ই মে থেকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে আছেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ। আর তার আগের দুই মাস দেশের ভেতরেই নিখোঁজ ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
২০১৫ সালের মার্চে যখন সালাহউদ্দিন নিখোঁজ হন, ওই সময়ে বিএনপি পুরোদমে আন্দোলনে। তখন দলের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করছিলেন সালাহউদ্দিন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে অজ্ঞাত জায়গা থেকে প্রতিদিন দলের কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের কাছে শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা গণমাধ্যমে পাঠানোর কাজটি করতেন তিনি। দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ, ২০১৫ সালের ১০ই মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি ফ্ল্যাট থেকে র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সালাহউদ্দিনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর দুই মাস পর ভারতের আসাম রাজ্যে পাওয়া যায় তাকে। উদ্ধারের পর সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে দেশটিতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা হয়। প্রায় সাড়ে তিন বছর মামলার কার্যক্রম চলার পর ২০১৮ সালের ১৩ই আগস্ট বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়। ওই বছরের ২৬শে অক্টোবর আদালতের রায়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে করা মামলায় নির্দোষ হিসেবে রায় পান সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে আবার সরকারপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। আদালত পরে তাকে বেকসুর খালাস দেয়। ২৮শে ফেব্রুয়ারি ভারতের শিলংয়ের জজ কোর্টের রায়ে তিনি বেকসুর খালাস পান বলে গণমাধ্যমকে নিজেই জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ।

‘অখণ্ড ভারত’ মানচিত্রের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে নয়াদিল্লি: এদিকে দিল্লির নতুন সংসদ ভবনে স্থাপিত ‘অখণ্ড ভারত’ মানচিত্রের ম্যুরাল বিষয়ে ভারতের কাছে জানতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। এর উত্তরে ভারত জানিয়েছে, ওই ম্যুরালটিতে সম্রাট অশোকের রাজত্বকালকে দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, ভারতের নতুন সংসদ ভবনে একটি ম্যুরাল স্থাপিত হয়েছে, যেখানে একটি মানচিত্র রয়েছে বলে আমরা অবহিত হয়েছি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রাথমিক মন্তব্য করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এর ধারাবাহিকতায় আমরা ভারতের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যা জানতে পেরেছি সেটি হলো- সম্রাট অশোকের রাজ্যের ব্যাপ্তি এবং সে সময় সম্রাট অশোকের নেতৃত্বে সংঘটিত জবাবদিহিমূলক এবং মানুষের উন্নয়নকেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতীকী হিসেবে আলোচিত ম্যুরালটি স্থাপতি হয়েছে। মোহাম্মদ রফিকুল আলম  জানান, ওই ম্যুরাল স্থাপনের মূল ভাবনা ছিল ঐতিহাসিক প্রাচীন ভারত বিশেষত সম্রাট অশোকের রাজত্বকে ফুটিয়ে তোলা। আমরা এই মর্মে অবহিত হয়েছি যে, ম্যুরালটিতে সম্রাট অশোকের সাম্রাজ্য খচিত হয়েছে, যা সংবাদ মাধ্যমে ‘অখণ্ড ভারত’ নামে প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, অখণ্ড ভারত ম্যুরালে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলকে দেখানো হয়েছে।

পাঠকের মতামত

অখন্ড ভারত প্রসংগে সিন্ধু সভ্যতা বা হরপ্পা সভ্যতার নাম আমরা শুনেছি। এটি পাকিস্তানে অবস্থিত অঞ্চল বিশেষ যেখানে ৩৩০০ – ১৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ; এবং পূর্ণবর্ধিত কাল ২৬০০ – ১৯০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ সময় সীমার মধ্যে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো। হরপ্পা সভ্যতার প্রথম দিকে আবিষ্কৃত মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা নগরটি সিন্ধু উপত্যাকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল। যার ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিকরা সিন্ধু নদীর নাম অনুযায়ী এই সংস্কৃতিকে সিন্ধু সভ্যতা নামকরণ করা হয়েছিল। মহেঞ্জোদারো অধুনা পাকিস্তান রাষ্ট্রের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় অবস্থিত। ২৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ নির্মিত এই শহরটি ছিল বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলির অন্যতম এবং প্রাচীন মিশর, মেসোপটেমিয়া ও ক্রিটের সভ্যতার সমসাময়িক। এই শহরের পুরাতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। আলোচ্য সভ্যতার নানা প্রত্নতাত্মিক প্রমাণ আমরা এখন দেখে থাকি এবং সেসব থেকে পরিস্কার বোঝা যায় যে আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে এসব অঞ্চলে একটি সুসভ্য জনপদ গড়ে উঠেছিলো। আমরা চৈনিক সভ্যতার নানা প্রমাণ পাচ্ছি চায়নার অলিতে গলিতে। আজ থেকে ৩ হাজার বছর আগের সেসব প্রত্নতাত্মিক বিষয়গুলো উপস্থিত। বিশেষ করে চায়নার গ্রেট ওয়াল দেখলে তা আরও পরিস্কার হয়ে উঠে সকলের কাছে। চৈনিক সভ্যতার প্রধান আকর্ষনই গ্রেট ওয়াল। এছাড়াও কুনমিং, চেংগু, গুয়াংঝু, স্যাংহাই, বেইজিং ইত্যাদি অঞ্চলে ওরকম হাজারো প্রমাণ দেখা যায়। আমরা কিন্তু মিশরীয় সভ্যতাকে সবচে বেশী গুরুত্ব প্রদান করি। মিশরের পিরামিড বা স্ফিংস এখন পুরো পৃথিবীর কাছে এক বিস্ময়। ফেরাউন, নমরুদের যুগে আমরা পৌছে যেতে পারি সেসব পিরামিডগুলো দেখলে! মিশরীয় সভ্যতা উত্তর আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলের একটি প্রাচীন সভ্যতা। নীল নদের নিম্নভূমি অঞ্চলে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে। বর্তমানে অঞ্চলটি মিশর রাষ্ট্রের অধিগত। খ্রিষ্টপূর্ব ৩১৫০ অব্দ নাগাদ প্রথম ফারাওয়ের অধীনে উচ্চ ও নিম্ন মিশরের রাজনৈতিক একীকরণের মাধ্যমে এই সভ্যতা এক সুসংহত রূপ লাভ করে। চাক্ষুষ এবং প্রত্নতাত্মিক প্রমাণ-ই আদতে যে-কোন সভ্যতা, সাংস্কৃতিকে ফুঁটিয়ে তুলে। সেখানে নতুন কিছু প্রমাণ আর কেউ চাইতে সাহস করে না। এছাড়া উত্তরপূর্ব মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার ক্যারিবিয়ান সাগর অঞ্চলে মায়ারা বসবাস করতে শুরু করেছিল একসময়। ৯২৫ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত মায়া নগররাষ্ট্র চিচেন ইৎজা খুবই প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে। তারাই এই সময়ে মায়া সাম্রাজ্যের কার্যত রাজধানীতে রূপান্তরিত হয়ে আসে। পরবর্তী ২০০ বছর ধরে এটাই ছিল শ্রেষ্ঠতম মায়ান শহর। এসব প্রমাণসমূহ আমাদের চোখ খুলে দেয় - আমরা অনেক অজানা ইতিহাসের অলিতে গলিতে পৌছে যেতে পারি। এই ধরুন আগ্রার তাজমহল বা দিল্লীর লাল কেল্লা যা আরও কয়েক হাজার বছর পরও তাদের ইতিহাস বলে যাবে নিজেরাই, স্বগৌরবে। এভাবেই আমরা ইতিহাসের বিভিন্ন প্রমাণ পাই। সেসব প্রমাণ আমাদের বিস্ময়াভিত করে দেয়। সেসব ইতিহাস নিয়ে আমরা অনেক সময় গর্ব করি। আনন্দ পাই। কিন্তু এখন আমি যদি এখন আপনাদের কাছে এমন কোন গল্প শুনাই যে - ”আমার পূর্ব পুরুষরা এক সময় মঙ্গল গ্রহে বসবাস করতো, সেখানে আমাদের খন্দকার রাজত্ব নামে একটি সভ্যতা রয়েছে; আমি সেই মঙ্গল গ্রহের খন্দকার রাজ বংশের যুবরাজ! সেখানে বিশাল এক নগর তৈরী করেছিলাম আমরা, ৫০০ মিলিয়ন মানুষের বসবাস ছিলো সেখানে- সবাই ছিলো আমাদের প্রজা! আমরা উন্নত জীবন-যাপন করতাম; গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে মহাকাশ যান নিয়ে ঘুড়ে বেড়াতাম; ইত্যাদি এবং ইত্যাদি।” বলুন তো আমি যদি লেখাটা এখানে শেষ করে দিই - তাহলে আপনারা আমাকে কি বুঝবেন? কি মন্তব্য করবেন এই পোস্টে? প্রথমেই পাগল বলবেন, বলবেন মাথা খারাপ, উম্মাদ ইত্যাদি। কিন্তু গ্রেট ওয়াল দেখার পর চাইনিজ সভ্য, আগ্রার তাজমহল দেখার পর সম্রাট শাহজাহান ও তার স্ত্রী মমতাজ অথবা তাদের মুঘল সাম্রাজ্য কিংম্বা মিশরের পিরামিড দেখার পর নমরুদ বা ফেরাউনের সাম্রাজ্য দেখার পর তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে কি কোন নেগেটিভ মন্তব্য করতে পারবেন? বলতে পারবেন যে, এসব কিছুই ছিলো না। সবই ভুয়া! পারবেন বলতে? পারবেন না। শক্ত প্রমাণ ছাড়া কোন কথা বললে আমরা তাকে পাগল বা বদ্ধউম্মাদ বলে থাকি। এবার আসুন। ভারতের একদল লোক, সংগে কিছু বাংলাদেশী বেকুব মিল উইকিপিডিয়ায় লেখা লেখি করে গল্প জুড়ে দিচ্ছে যে, ’চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং পরবর্তীতে মৌর্য রাজবংশ দ্বারা শাসিত মৌর্য সাম্রাজ্য ৩২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বদিকে সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমভূমিতে অবস্থিত মগধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র।’ তারা হাতে আঁকা একটি কল্পিত অখন্ড ভারত এর মানচিত্র উপস্থান করছে এর প্রমাণ হিসাবে। অর্থাৎ আমিও যদি মঙ্গল গ্রহে আমাদের যে সাম্রাজ্য ছিলো তার একটি মানচিত্র তৈরী করে আপনাদের কাছে দিয়ে বলি - যে, এই তো আমাদের রাস্ট্রের মানচিত্রও আছে! বিশ্বাস করবেন? দেখুন আজ থেকে ২ হাজার ৩০০ বছর আগে তারা একটি দেশের গপ্প শুনাচ্ছে যেখানে একদিকে ছিলো ইরান অন্য দিকে বার্মা। এই বিশাল সাম্রাজ্য নাকি তৈরী করেছিলো মৌর্যরা। কিন্তু তাদের এসব বক্তব্যের পক্ষে কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই; নেই কোন প্রত্নত্মাত্রিক প্রমাণ। নেই কোন ধ্বংসাবশেষ যা দিয়ে তারা বলতে পারবে- এই দেখো গ্রেট ওয়াল বা পিরামিড অথবা কোন একটি বড় রাজবাড়ী যেখানে রাজারা বসবাস করেছে! তাদের কোন ঐতিহাসিক দলিল, কোন ঐতিহাসিক মুদ্রা, বার্মা থেকে অনন্তপক্ষে ইরান যাবার কোন ‘রাস্তা’ কিছুই নেই। আছে শুধুই কিছু টুনাটুনির গপ্প! তাদের হাতে ১টি কোন প্রমাণও নেই। তারা বলছে তাদের রাজধানী ছিলো না কি পাটলিপুত্র। যেটার বর্তমান নাম হচ্ছে পাটনা। কিন্তু সেখানেও কোন প্রমাণ নেই। আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে তারা নাকি শাসন করতো সেই বার্মা থেকে ইরান পর্যন্ত! ভাবুন। আমার বলা সেই মঙ্গল গ্রহের ১৩ হাজার বছর আগের খন্দকার সাম্রাজ্যের মতোই তাদের গল্প! এসব গল্প তৈরী করে তারা আবার দিল্লীর নতুন লোকসভা ভবনে তার একটি ছবিও ঝুলিয়ে দিয়েছে! অশিক্ষিত মুর্খ এক গোঁয়ার-সন্ত্রাসী ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদী যখন তার হিন্দুত্ববাদের দর্শন প্রতিষ্ঠা করতে চায় - তখন এমন গাঁজাখুড়ি গপ্প তৈরী ছাড়া হাতে আর কি উপায় থাকে বলূন? ভারত-বর্ষকে প্রথম কোন একক রাস্ট্রের মর্যাদা বা রূপদান করেছিলো মোঘল শাসকেরা। এরাই ছিলো ভারতের সবচে বড় ভূখন্ডের একক শাসক; তাও সেটা বার্মা বা ইরান পর্যন্ত ছিলো না - ছিলো বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত - তাও পুরো ভারতবর্ষ তা নয়। এর পূর্বে ভারতবর্ষ ছিলো শুধুই কিছু ছোট ছোট আঞ্চলিক ক্ষমতাশালী গোত্র বা জমিদারতন্ত্র মাত্র। তখন এক রাজার মেয়ের সংগে আরেক রাজার ছেলের বিবাহ হতো। কয়দিন পরপর রাজাদের বা জমিদার অথবা গোত্র প্রধানদের মধ্যে ‘মারামারি’ বা গন্ডগোল হতো এবং লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পরতো। তাদের না ছিলো ভালো তলোয়ার বা অন্য কিছু। শুধুমাত্র হাতে তৈরী বর্শা এবং বাশের লাঠিই ছিলো ভরসা! গো-মুত্রখোর ওসব ইতিহাসবিদেরা বলতে চায় ২৩০০ বছর আগে মৌর্য রাজারা হাতে বাশের লাঠি নিয়ে বার্মা থেকে বনজঙ্গলে ঘেরা বছর ১০শেকের রাস্তা দৌড়ে গিয়ে পাড় হয়ে ইরানে গিয়ে ’অখন্ড ভারত’ প্রতিষ্ঠা করেছিলো মৌর্য রাজারা! কি যুক্তি রে বাবা! বেকুব আর গাধারা যদি সকলকেই বেকুব মনে করে বসে থাকে - তাহলে তো চলবে না হে! ওসব গপ্প ত্যাগ করুন, সংগে ত্যাগ করুন গো-মুত্র খাওয়াও! বিশ্ব এখন আর সেই অবস্থায় নেই যে একটি গপ্প তৈরী করে দিয়েই সেটাকে সকলকে ট্যাবলেটের মতো খাইয়ে গিলিয়ে দিবেন! আগে হজম হবে কিনা সেটা তো ভাববেন!

Taufiqul Pius
৯ জুন ২০২৩, শুক্রবার, ১:২১ পূর্বাহ্ন

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

দেশ বিদেশ সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status