ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ রজব ১৪৪৪ হিঃ

রাজনীতি

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই গণতন্ত্রকে হত্যা করে: মঈন খান

স্টাফ রিপোর্টার

(২ সপ্তাহ আগে) ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার, ২:৩৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

mzamin

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন,  আওয়ামী লীগ নিজেদের গণতান্ত্রিক দল বলে জাহির করার চেষ্টা করলেও এরা ক্ষমতায় এসেই গণতন্ত্রকে হত্যা করে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জিয়া প্রজন্মদল আয়োজিত "রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট" শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ৭ কোটি মানুষের মধ্যে কতজন বিরোধিতা করেছিলো? সে অজুহাত দিয়ে দেশকে আজ বিভক্ত করা হচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগের কি উদ্দেশ্য? বিভক্ত করে রাষ্ট্রকে অস্থির করতে চায়, আর সুযোগে তারা দেশের টাকা লুন্ঠন করছে, হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করছে। 

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ আওয়ামী লীগের কি ভূমিকা ছিলো। তাদের কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিলো না, পালিয়ে গিয়েছিলো। সেদিন যদি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন তাহলে দেশে মুক্তিযুদ্ধ হতো না, হতো গৃহযুদ্ধ। জিয়া জাতির ক্রান্তিলগ্নে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে চলে যাননি। সম্মুখ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। 

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে রাজনীতির রেশ বলতে কিছু নেই। ৭২ থেকে ৭৫ সালে লিখিত বাকশাল ছিলো এখন অলিখিত বাকশাল কায়েম করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ যা হুকুম করে তা জনগণকে মানতে বাধ্য করে। ক্ষমতাসীনদের অস্বাভাবিক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। মানুষকে চিন্তার স্বাধীনতা দিতে হবে। 

মঈন খান বলেন, পাকিস্তান আমলে ছিলো ২২ পরিবার।

বিজ্ঞাপন
এখন এই আওয়ামী লীগই ২২০ পরিবার সৃষ্টি করেছে। অথচ এরা দীর্ঘবছর ক্ষমতায় থেকেও দেশের মানুষের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। এ ধারা থেকে বের হতে না পারলে এই স্বাধীনতা অর্থহীন। 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বললে রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলা হয়। কিন্তু বিএনপিতো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলে না। যারা রাষ্ট্রকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে, রাষ্ট্রের অর্থ লুটপাট করছে, জনগণের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। আর এ অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কথার অপরাধেই আমাদের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক মামলা ৩৫ লক্ষ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। 

সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, দেশের মানুষ অসহায় অবস্থায় আছে। দিনমজুর, শ্রমিক এবং কর্মী থেকে নেতা সবাই আজ উদ্বিগ্ন। আওয়ামী লীগ ষখনই ক্ষমতায় জাতি অস্থিরতায় থাকে। 
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বাইরে কি স্বাধীনতার জন্য কেউ রক্ত দেয়নি? শ্রমিক, ছাত্র ও মেহনতী মানুষ সে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। শুধু একটি পতাকার জন্য কি আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি? যে গণতন্ত্র ও স্বাধীকারের জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি, আওয়ামী লীগ সে রক্তের সাথে বেঈমানী করেছে। স্বাধীনতার পর এই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই গণতন্ত্রকে বস্তাবন্দি করে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিলো।

বরতক উল্লাহ বুলু তার বক্তব্যে বলেন, সংসদ আজ আওয়ামী ক্লাবে পরিণত হয়েছে। এমপিরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না, শুধু শেখ হাসিনার বন্দনা। এমপিরা আজ বলছেন-শেখ হাসিনাকে দেশের মানুষ আজীবনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। প্রধানমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দিতে চাই-যারা আপনার পিতার বেশি বন্দনা করেছিলো তারা তার মৃত্যুর পর লাশটিও দেখতে যায়নি। 

৭২'থেকে ৭৫-এর মতো দেশ এখন এক ব্যক্তির শাসন ও নির্দেশে চলছে । ইউএনও, এসপি ও সরকারী সকল কর্মকর্তার নিয়োগ, বদলী সব এক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে, বলেন তিনি।

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান শাহীনুুর মল্লিক জীবনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন রুবেলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, কেন্দ্রীয়  নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

রাজনীতি সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: news@emanabzamin.com
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status