ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০২২, সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই যুগপৎ আন্দোলন

স্টাফ রিপোর্টার
৪ অক্টোবর ২০২২, মঙ্গলবার

সরকার বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের ছক কষছে বিএনপি। বিরোধী দলগুলোকে এই আন্দোলনে  সম্পৃক্ত করতে ইতিমধ্যে তৎপর হয়েছে দলটি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রথম দফা সংলাপ শেষে এবার দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শুরু করেছে বিএনপি। আগে যেসব দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এর বাইরে থাকা দলগুলোকেও যুগপৎ আন্দোলনে শরিক করতে চায় দলটি। এই যুগপৎ আন্দোলনে কে নেতৃত্ব দেবেন এই প্রশ্ন অনেকের। গতকাল জাতীয় পার্টির (জাফর) সঙ্গে সংলাপ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যুগপৎ আন্দোলন হবে বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপ করেন বিএনপি নেতারা। 

সংলাপ শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের চলমান আন্দোলন চলা অবস্থাতেই সবার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ হয়েছে। আমাদের নেতৃত্ব বা নেতা আগেই ঘোষণা করেছি, খালেদা জিয়া আমাদের নেত্রী। তার অবর্তমানে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের নেতা। মির্জা ফখরুল জানান, সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ শেষ করে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলন শুরু করবে। 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার তার দলের ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন-  ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, প্রেসিডিয়াম সদস্য নওয়াব আলী আব্বাস, মাওলানা রুহুল আমীন, সেলিম মাস্টার, কেন্দ্রীয় নেতা হান্নান আহমেদ খান, এএসএম শামীম, কাজী মো. নজরুল ও গোলাম মোস্তফা। বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
সংলাপ শেষে বিএনপি মহাসচিব সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, আমরা দ্বিতীয় গণআন্দোলনের দফা নির্ধারণ করার বিষয় নিয়ে আজকে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের দাবিনামার মধ্যে যেটা কমন সেটা হচ্ছে এই সরকারের পদত্যাগ, পদত্যাগ করে সংসদ বাতিল করতে হবে এবং একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে তাদেরকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। এরপর একটা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের পর তার অধীনে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান, খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের মুক্তি। তিনি বলেন, আমরা একমত হয়েছি যে, এই দাবিগুলোতে আমরা যুগপৎ আন্দোলন শুরু করবো। সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ করেই এটা আমরা শুরু করবো।

মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এ টু জেড সব একত্রিত করা। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই পথে অনেকখানি অগ্রসর হয়েছি। আমরা আওয়ামী লীগ বিরোধী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় সফলকাম হয়েছি।  গত রোববার ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফা সংলাপ শুরু করে বিএনপি। গতকাল রাতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সঙ্গে সংলাপ করেন বিএনপি নেতারা।

 

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশে সুষ্টু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিরোধী দলগুলোকে একটি পয়েন্টে একমত হয়ে যৌথ স্বাক্ষরে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। সেই একটি পয়েন্ট হলো এই মধ্যরাতের ভোটে ক্ষমতায় আসীন সরকারের পতন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে নির্বাচন প্রত্যেকে একক বা জোটে করবেন। যারা ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হবেন তারা সরকার গঠন করবেন। কিম্তু এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সিদ্ধান্তে সকল দলকে ঐকমত্যে পৌছতে হবে। জেনারেল আইয়ূব খান ও জেনারেল এরশাদ এর পতন আন্দোলন থেকে সেই রূপরেখা নেয়া যায়। "সেনা শাসক আইয়ুব খান পতন আন্দোলনে বিরোধী দলগুলো ১৯৬৯ সালের ৮ জানুয়ারি একনায়কতন্ত্রের অবসান ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৮ দফার ভিত্তিতে Democratic Action Committee সংক্ষেপে DAC গঠন করেন। ডাকের ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন নিম্নলিখিত দলগুলোঃ ১. আমির হোসেন- ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ন্যাপ। ২. চৌধুরী মোহাম্মদ আলী-সভাপতি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৩. মুফতি মাহমুদ- জামায়াতে ওলামায়ে ইসলাম। ৪. মমতাজ মোহাম্মদ খান দৌলতানা- সভাপতি, পাকিস্তান মুসলিম লীগ। ৫. নবাবজাদা নসরুল্লাহ খান- সভাপতি, পাকিস্তান আওয়ামীলীগ। ৬. নুরুল আমীন, সভাপতি, এনডিএফ। ৭. সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ ৮. তোফায়েল মিয়া- ভারপ্রাপ্ত আমীর, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান। (Ref: প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, সিরাজ উদ্দিন" আহমেদ পৃষ্ঠা ২৩২-২৩৩)। ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে এরশাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণ-আন্দোলন শুরু হয়। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ৮ দল, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৭ দল, বামপন্থীদের ৫ দলীয় জোট, জামায়াতে ইসলামী একক এবং ছাত্রদের তীব্র আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৪ ডিসেম্বর রাতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। পরেরদিন সকল রাজনৈতিক দলের অনুরোধে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণে সম্মত হন। এই দুই স্বৈরশাসক এর পতন আন্দোলন যার একটির সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও অপরটির সাথে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এর ইতিহাস থেকে দীক্ষা নিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার হরণকারী সরকারের পতনে একদফা আন্দোলনে রূপরেখায় বিরোধীদলগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে নতুন আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি হবে এবং দেশের মানুষকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে ইন শা আল্লাহ। একটি দফায় একমত হয়ে আন্দোলন করলে হওয়ার ইতিহাস থেকে

ইয়াসীন খান
৪ অক্টোবর ২০২২, মঙ্গলবার, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

নেতা সর্বস্ব দল গুলোকে জোটে নয় বরং জোটের বাহিরে সহযোগী হিসাবে রাখাই ভাল। নিবন্ধিত অনিবন্ধিত ইসলামী সংগঠন গুলো এক প্রকার ভালই আছে, এরা বিএনপি আওয়ামী লীগের পা না চেটে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হাওয়ার চেষ্টা করছে।

শাজিদ
৩ অক্টোবর ২০২২, সোমবার, ৪:১০ অপরাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status