ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

সাক্ষাৎকার

এবার সাজানো নির্বাচন করা সহজ হবে না

তারিক চয়ন
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার

দেশ শ্রীলঙ্কার দিকে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে  দেয়া যায় না। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত এবং অস্থিতিশীল। সামনের দিনগুলোতে শঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দেশ চালাচ্ছে কর্তৃত্ববাদী সরকার। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। সরকারবিরোধী বক্তব্যকে রাষ্ট্রবিরোধী তকমা দেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে এদেশকে এখন আর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ বলা যায় না। এ অবস্থায় সাধারণ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কোনো ব্যক্তি বা দলের পরিবর্তন নয়, গোটা শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি। জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এবং সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমনটাই মনে করেন।

বিজ্ঞাপন
মানবজমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তথ্য-উপাত্ত, পরিসংখ্যান দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে দুর্নীতি এবং অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, সরকার সব ঠিক আছে বলে মানুষকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। আসলে দেশ ভালোভাবে চলছে না। টাকার মান কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি,  অতিরিক্ত দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুতের ঘাটতি ইত্যাদি দিয়ে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ধসে পড়া শুরু হয়েছিল। আমাদের দেশেও সেসব দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের কথায় বুঝি শ্রীলঙ্কার ওই পর্যায়ে যাওয়ার পেছনে যে বড় কারণ সেটার সঙ্গে আমাদের মিল আছে। সেটা হলো কর্তৃত্ববাদী শাসন। সেখানে এক পরিবারের কথায় সব চলছিল। রাজনীতিবিদ এবং আমলাদের পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি বা অনিয়মের মাধ্যমে যেসব মেগা প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে খরচ যেমন বেশি হয়েছে, তেমনি সেগুলো থেকে আশানুরূপ রিটার্ন আসেনি। আমাদের দেশেও মেগা প্রজেক্টের বেশিরভাগেরই সঠিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত এগুলোর ‘রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্ট’ হয়তো সেভাবে হবে না। বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে মন্তব্য করে জিএম কাদের বলেন- ‘প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও জনগণের কাছে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। টেন্ডার ছাড়া বেশি ক্যাপাসিটির বিদ্যুৎকেন্দ্র অনভিজ্ঞ লোকদেরও দেওয়া হয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বসিয়ে রাখা হলেও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বড় অংকের টাকা দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। শুনেছি, প্রতি মাসে ২০০০ কোটি টাকা করে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে।  

সামাজিক ক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতা বিশেষ করে মানুষে মানুষে বৈষম্যও দেশে মহাসংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাড়ছে। ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে। এমন সমাজে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে কোনো সময় অস্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে।  বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন হয়েছিল উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, ‘দেশটার নাম কিন্তু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। কথা ছিল, প্রজারা দেশ চালাবে, পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। কিন্তু, এখন প্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের কথা শোনে না। তারা যে প্রতিনিধি নির্বাচন করবে সেটাও পারছে না। প্রজারা বাস্তবিক অর্থে প্রজাই হয়ে গেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সংসদের মাধ্যমে যে মানুষ প্রত্যাশা বা দুঃখ কষ্টের কথা জানাবে, সেটাও তারা শুনছেন না। প্রতিবাদ করার যে অধিকার তাও দেওয়া হচ্ছে না। সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং, মানববন্ধন করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবাদ করলেই সরকার রাষ্ট্রবিরোধী বলছে। 

‘সংসদকে ঠুনকো’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘সংসদে কথা বলার তেমন একটা সুযোগ দেওয়া হয় না। বেশির ভাগই অবান্তর কথা হয়। নির্বাচন ব্যবস্থাকে পর্যুদস্ত মনে করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, মানুষ নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তারা আর ভোট দিতে যেতে চায় না। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলোও মানুষ পাচ্ছে না। দলগুলো আন্দোলনে গেলেও সেভাবে মানুষ পায় না। মানুষ ভাবে, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনেতো কোন কাজ হয় না, গিয়ে লাভ কি! ফলে, রাজনৈতিক দলগুলো ধীরে ধীরে মূল্য হারিয়ে ফেলছে। তারা দেখছে, নির্বাচনে গিয়েও কিছু করতে পারছি না। যদি এই প্রক্রিয়াই চলতে থাকে তাহলে সামনে বাংলাদেশ থেকে রাজনীতি-ই উঠে যাবে। সামনের নির্বাচনের পর প্র?্যাক্টিক্যালি কোনো ইফেক্টিভ রাজনৈতিক দল থাকবে না। আমরা সামনে বি-রাজনীতিকরণের দিকে চলে যাচ্ছি। এটা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। হয়তো সামনের নির্বাচনের পর পূর্ণতা পাবে। ফরমায়েশী কিছু রাজনৈতিক দলও হয়তো তৈরি হবে। কিছু লোক এনে তাদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে। তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে সরকারের ইচ্ছামতো চলবে? সুতরাং, সাজানো নির্বাচন যদি হয়ে যায় তাহলে আমাদের ‘গণপ্রজাতন্ত্রী্থ বাংলাদেশ-ই যে শুধু শেষ হয়ে যাবে তা নয়; জনগণও প্রজা হয়ে যাবে, ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে শোষিত হবে। সমস্যা আর সংকটের কথাতো বললেন, এ থেকে উত্তরণের উপায়? জিএম কাদের বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর এখনই এটা নিয়ে চিন্তা করার দরকার। সচেতন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সচেতন নাগরিক সবারই এটা বুঝা উচিত যে, আমরা ওইরকম একটা বিপর্যয়ের দিকে যেতে পারি। এজন্য একটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার। সেটা আমার পছন্দ হোক বা না হোক। আমি সেটাতে হারি কিংবা জিতি। নব্বইয়ের পর থেকে দেশে এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করেছি যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মানে হলো শত্রু এবং সম্ভব হলে সে শত্রুকে নির্বংশ করতে হবে। শুধু তার রাজনীতি নয়, তাকেও শেষ করতে হবে। এই প্রতিহিংসার রাজনীতি এখন এমন পর্যায়ে এসেছে যে সরকারের পক্ষেই এখন আর কোনো বিকল্প নেই। তাদের কাজকর্ম দেখে মনে হয়, তারা আশঙ্কা করছে যদি আমরা ক্ষমতায় থাকি তাহলেই বাঁচবো। ক্ষমতা হারালে শুধু দল বা রাজনীতি শেষ নয়, এর চেয়ে বেশি কিছুও হতে পারে। সরকারের বিপক্ষে যারা আছেন তারাও একই কথা ভাবছেন। আমরা একটা হিংসাত্মক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পৌঁছেছি যেখানে কেউ পরাজয় স্বীকার করতে চান না।  এই রাজনীতির পরিবর্তন দরকার। সব রাজনৈতিক দলগুলো, সবাই মিলে বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার যে আমরা পরস্পরের শত্রু হলে কেউই স্বাভাবিক রাজনীতি করতে পারবো না। আমাদেরকে তো একসঙ্গে বেঁচে থাকতে হবে। তবে কর্তৃত্ববাদী সরকারের আমলে এটা তারা মানতে চাইবেন না। সরকারই এখানে মেইন ফ্যাক্টর। সরকার না মানলে তো আমাদের কিছু করার থাকে না। এখানে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তাকেই সবার সঙ্গে বসতে হবে। খোলামনে আলাপ করতে হবে।  

আপনি বলেছেন, ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি ধাক্কা খেয়েছিল। আবার ২০১৮ সালের নির্বাচনকে দেখিয়ে বলেছেন, ২০২৩ সালে এমন নির্বাচন আর হবে না। ১৪’তে ধাক্কা খেয়ে তাহলে কেন ১৮’র নির্বাচনে গেলেন? সামনেই বা কেমন নির্বাচন হবে? জিএম কাদের বলেন, আমি বিস্তারিত বলবো না। দেশবাসী সবাই এসব জানে। এটা আমাদের দলের মধ্যে একটা  ‘সেনসিটিভ ইস্যু’। কাজেই এ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারবো না। ব্যক্তিগতভাবে আমার বিবেক যেটা বলেছে, আমি সেটাই করেছি। আমি বিবেকের বাইরে যাইনি। মনে হচ্ছে, এবার বিদেশিরা শুধু আমাদের জন্যই নয়, তাদের নিজেদের স্বার্থেই চাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত হোক এবং সেটা তারা তাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী নিশ্চিত করবে। আমাদের দেশে তারা জোর করে কিছু করবে না। হয়তো তারা আমাদের কাছে কিছু চাইবে, বা কোনো কিছু দেওয়ার কথা সেটা তারা দেবে না অথবা তারা ব্যবসা যেভাবে করার কথা সেভাবে করবে না। এভাবে তারা চাপ প্রয়োগ করতে পারে।’ বিদেশি বলতে আপনি নির্দিষ্ট কোন দেশকে বোঝাচ্ছেন? জিএম কাদের, ‘না, পুরো আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে। আমি যাদের সঙ্গে কথা বলি, সবারই কথা হলো, তোমাদের দেশের সব ক্ষেত্রেই এখন জবাবদিহিতা নেই। এ কারণেই সব অনিয়ম আর সমস্যা। মূল কারণ, তোমার দেশে একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হচ্ছে না। সেটা হলেই জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আর জবাবদিহিতা থাকলে অনিয়ম-দুর্নীতি কিছু থাকবে না। ওদের ইন্টারেস্ট, ওরা এখানে ব্যবসা করতে চায়। কোনো কোনো দেশের এখানে সিকিউরিটি কনসার্ন আছে। তারা চায় না এদেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ  তৈরি হোক। এখানে মিলিট্যান্সি রাইজ করুক। অন্যথায় একটা জাতি নিজেকে যেমন বিপন্ন করে, আশপাশে অন্যদেরও বিপন্ন করে। সবমিলিয়ে তারা চাইবেন, দেশে একটা স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হোক। সেজন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে তারা প্রাইম ফ্যাক্টর মনে করেন। তারা সরকার ছাড়াও বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন। নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন, আমাদেরকেও জানাচ্ছেন যাতে সবাইকে নিয়েই নির্বাচনটা ইনক্লুসিভ এবং সঠিক হয়।’ 

নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে মনে করেন না জিএম কাদের। তিনি বলেন, কমিশনের ওপর শুধু আমারই নয়, সারা দেশবাসীরই আস্থার অভাব রয়েছে। ইভিএম নিয়ে তারা কতগুলো বিতর্কিত কাজ করেছেন, তাদের একটি কথাও বাস্তবসম্মত নয়। কোন দলকে আনা, না আনার দায়িত্ব কমিশনের নয়; এটা ঠিক না। ইভিএম-এ কোনো কারচুপি করা যায় না বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি কেউ; এটাও ঠিক নয়। প্রমাণ দেখানো হয়েছে। সাবমিটও করা হয়েছে। বদিউল আলম মজুমদার সাহেব আমাকে পরিষ্কার বলেছেন, পেপারও দিয়েছেন। এমনকি গ্রামের সাধারণ ভোটাররাও বলছেন- ইভিএম-এ ভোট হয় না, কারচুপি হয়। বসে বসে সব নিজেদের লোককে ভোট দিয়ে দেয়। কমিশন বলেছে, সবাই চাইলে তারা ব্যালটে ভোট করবেন। সবাইতো চাইবে না! সরকারতো বলেই দিয়েছে তারা ইভিএম চায়। কমিশনের বলা উচিত ছিল, সবাই চাইলে আমরা ইভিএম-এ করবো। একজন বাধা দিলেও সেটা করা উচিত হবে না। তারপরও তারা যখন এটা নিয়ে মাতামাতি করছেন, তখন আমার মনে হচ্ছে, সাজানো ছকে তারা নির্বাচন করবেন এবং সেক্ষেত্রে ইভিএম বড় ভূমিকা পালন করবে, যে কোন প্রকারেই সরকার নিজেকে জয়ী ঘোষণা করবে। হয়তো কিছু এদিক-ওদিক থাকবে। কিন্তু, অন্তত নিজেদের মেজরিটি তারা ঘোষণা করবেন। সেক্ষেত্রে সমস্যাটা হবে, বিভিন্ন দেশ যদি নির্বাচনকে গ্রহণ না করে, তখন অনেক দেশ থেকে চাপ আসতে পারে। তারা হয়তো ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে, কেউ হয়তো অন্যকিছু করবে। আর তাই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে কাজ করতে হবে। সেজন্যই আমি বলছি, নির্বাচন সুষ্ঠু না করাটা সহজ হবে না। কারণ, পরিবেশ আর আগের মতো নেই। বিশ্বের অনেক দেশই এখন বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত। সরকার চাচ্ছে একটা সাজানো নির্বাচন করতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত করতে পারবে কিনা বা করে সেটাকে টেকাতে পারবে কিনা সেটা নিশ্চিত নই।’ ‘সাজানো’ নির্বাচন করে সরকার টিকতে পারবে কিনা সেটা দেখতে চাচ্ছেন, জিএম কাদের: ‘না, তা না। আমাদের কাছে বিকল্পই বা কি আছে? এখন তো দেশবাসীর হাতে কিছুই নেই। যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, আমরা কি করতে পারি? নিয়মের বাইরে গিয়েতো কিছু করতে পারবো না।  বিরোধী রাজনৈতিক দল বা জোটগুলো যে সরকার পতনের ডাক দিচ্ছে, আপনারা কি তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন? দিলে কোন পর্যায়ে? জিএম কাদের বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব একটা অস্তিত্ব আছে, নিজস্ব রাজনীতি আছে, নিজস্ব চিন্তাধারা আছে। নব্বইয়ের পর থেকে যে দু’টি দল দেশ চালিয়েছে মোটামুটিভাবে তারা উভয়ই কিন্তু স্বভাবচরিত্রে কাছাকাছি। আমরা চাচ্ছি, একটা পরিবর্তিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি। আমরা চাই না- আওয়ামী লীগ বিরাজনীতিকরণ, দুর্নীতি ইত্যাদি যেসব জায়গায় নিয়ে গেছে; অন্য কেউ এসে সেসবই আবার চালিয়ে যাবে। আমরা অপেক্ষা করছি। যথাসম্ভব আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। আমরা দলীয়ভাবে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো কী করলে ভালো হয়। কোনটা হলে ‘মন্দের ভালো হয়’ সেটাও হয়তো আমাদের বিবেচনা করতে হবে।’ 

জাতীয় পার্টির কর্তৃত্ব নিয়ে নানা কানাঘুষা আছে। রওশন, বিদিশাকেন্দ্রিক নানা কথাও শোনা যায়। আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে যেমন কর্তৃত্ব কারো হাতে, তেমনি জাতীয় পার্টির কর্তৃত্ব কার হাতে? জবাবে জিএম কাদের সাফ জানান, জাতীয় পার্টির গঠনগতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম পাওয়ার তার কাছেই। তিনি বলেন, ‘তাছাড়া, চেয়ারম্যানকে অতিরিক্ত ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশের সকল সংগঠন গণতান্ত্রিকভাবে চলবে এটা কোথাও সম্ভব নয়। তারপরও গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলগুলো চেষ্টা করে সেভাবে চলতে, সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিতে। সেনাবাহিনীতেও অনেক সময় একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেয়। তারপরও যুদ্ধের ময়দানে সেনাপতি বলে একটা কথা আছে। ‘ফাইনাল’ বক্তব্য তার মুখেই বের হয়। আমাদের এখানে এটা যেমন চেয়ারম্যানের হাতে। গণতান্ত্রিকভাবেই আমরা কমিটি গঠন থেকে শুরু করে সবকিছু করার চেষ্টা করি। কাউন্সিল করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করি। এটাও গণতান্ত্রিকভাবে করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু, একবার চেয়ারম্যান হয়ে গেলে তাকে দল চালানোর জন্য কিছু কিছু জায়গায় বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়। এটার দরকারও আছে। সব দলেই এটা আছে, আমাদের দলেও আছে। চেয়ারম্যান যেকোনো জায়গায় যে কাউকে বসাতে পারবেন, বরখাস্ত করতে পারবেন। 

আপনার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ আছে? জিএম কাদের, ‘হ্যাঁ, আছে। আমি কিন্তু বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মেজরিটি সাপোর্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু, আমি উনাকে (রওশন) সম্মানজনক পদটা দিয়েছিলাম। কারণ, কয়েকজন আমার বিরোধিতা করেছিল। তাই, আমি বলেছিলাম, এমন কেন হবে? আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ, এরশাদ সাহেবের পর যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, আমরা মিলেমিশে একসাথে না থাকলে দলটা আর থাকবে না। তখন আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু, এখন যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে উনি অসুস্থ এবং সেটার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ ওই পদের অপব্যবহার করতে চাচ্ছে, তাই পার্লামেন্টারি পার্টির সকল সদস্য উনার জায়গায় আমাকে কাজ করতে বলেছেন, উনাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। এই কথাটা আমাদের প্রেসিডিয়াম কমিটির মিটিং এ আলাপ করা হলে, সেখানেও কেউই এটার বিপক্ষে যাননি। সুতরাং, পার্লামেন্টারি পার্টির সকল সদস্য যদি একমত হন, প্রেসিডিয়াম কমিটির সকল সদস্য যদি একমত হন, তাহলে আমাদের দলে দ্বিমতটা কোথায়? বিভাজনটা কোথায়? আমি ভয়ের তো কোনো কারণ দেখি না। কিছু সমস্যা প্রতিপক্ষ করতে পারে, অনেক জায়গা থেকে আসতে পারে, তাদের উস্কানিতে হতে পারে। ক্ষমতা থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার অনেকেই করতে পারেন। আমরা সেজন্য প্রস্তুত আছি। 

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব ঘোচাতে বা বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণে কোনো সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগের বিষয়ে জিএম কাদেরের মত- সরকার উদ্যোগ না নিলে বাকি কোনোকিছুই সফল হবে না। তিনি বলেন, উদ্যোগটা মিনিংফুল হতে হবে। সমাধানের জন্য সদিচ্ছা থাকতে হবে। না হয় লোক দেখানো আলাপ-আলোচনায় ফল আসবে না। পরিকল্পনামাফিক ‘ব্যর্থ হয়েছে’ এমন আলোচনা আয়োজনের কোনো মানে নেই। সত্যিকার অর্থে চাইলে নিশ্চয়ই সমস্যার সমাধান হবে।

পাঠকের মতামত

জনগন আশা করে জাতীয় পার্টি ভোটাধিকার পূনঃউদ্ধারে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা রাখবে।

S.M. Rafiqul Islam
২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:০৮ অপরাহ্ন

মরহুম মাওলানা ভাসানী বলেছিলেন, হাতির দু’ধরনের দাঁত আছে। প্রথমটি বাইরের আর দ্বিতীয়টি ভেতরের। রাজনীতিবিদদেরও তেমন আছে। সুতরাং তোমরা বাইরেরগুলো দেখে বিভ্রান্ত হয়ো না। ভেতরেরগুলোই আসল।

গোলাম রব্বানী
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, শনিবার, ৪:১৫ পূর্বাহ্ন

তিনি আগেই বলেছেন 'রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কোন কথা নেই। সুতরাং এসব কথা উনার শেষ কথা বা আসল কথা নয়।

মোঃ মুছলিম উদ্দিন
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

এরই নাম রাজনীতি,মুখে একটা অন্তরে আরেকটা, জাতীয় পার্টি চাইলেও তারা কোনোদিন সরকারী দলের মতের বাহিরে যেতে পারবেনা,তাদের রাজনীতি বন্ধক দেওয়া।বেশী উচ্চ বাচ্য করলে ধরে নিয়ে সিএম এইচ এ ভর্তি করে দিবে।এখন তারা শিখিয়ে দেওয়া বুলি বলতেছে, এই বলাতে সরকারের কোনে ক্ষতি হবেনা বা তারা কিছুই করতে পারবে না।তাদের ভাবখানা এমন যে আমরাই প্রকৃত বিরোধী দল,সাধারন মানুষ যেন মনে করে আমাদের কষ্টের কথাই তো তারা বলতেছে তাই ভোটটা যেন তাদেরই দেয়।মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে যথা নিত্য পন্য মূল্যের বৃদ্ধির প্রতিবাদ তথা --গ্যাস,বিদ্যুত,পানি,জালানি তেল,ভোজ্য তেল,চাল,ডাল,আটা,চিনি,ডিম,মুরগী,গরুর মাংস,খাসির মাংস,বাস ভাড়া,গাড়ি ভাড়া,বাড়ি ভাড়া অর্থাৎ এমন কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস নাই যার দাম বাড়ে নাই,মানুষের অবর্ননীয় দুঃখ কষ্ট লাঘবে এবং বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে পদত্যাগ করে দেখান তো।

nurumia
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ৭:২৬ পূর্বাহ্ন

দেশের আজ এই দুরবস্থার জন্যে জাতীয় পাটি ও সমান দায়ী, যদি তাদের লজ্জা থাকে যদি নিজেদের মধ্যে অনুতাপের জন্ম হয় তাহলে যেন এবার জনগণের সাথে বেইমানি না করে, এরশাদ সাহেব জাতীয় বেইমান হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন, আসা করবো GM কাদের সাহেব এই কলঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসবেন..

Jalal Ahmed
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

বাংলা প্রবাদ আছে "মেঘ যতো গর্জে ততো বর্ষেনা।" আওয়ামী লীগের পোষা বিরোধী দল জাপা। এইদলের দুআষলা বা দৈত চরিত্র দেশের মানুষের জানা হয়ে গেছে। কাজেই জিএম কাদের সাহেবের ঘনঘন মিডিয়া উপস্থিতি সহজেই তাদের অবস্থান জানান দেয়। প্রশ্ন করা হলো : বৃক্ষ তোমার নাম কি? উত্তর এলো : আমার ফলে পরিচয়।

আব্দুল মান্নান
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ৪:০০ পূর্বাহ্ন

আশাকরি জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের মানুষের সারথে আর বেইমানি করবে না। ধন্যবাদ।

S.M. Rafiqul Islam
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ২:৪২ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের জনগণ এরশাদ এরশাদের কোন পরিবারের লোক বা জাতীয় পার্টির কোন নেতা কে বিশ্বাস করে না এরা সব সময় হালুয়া রুটির পিছে পিছে ঘুরে এরা তাই করে যা আওয়ামী লীগ থেকে লিখে দেওয়া হয় এখন যা বলছে তা আওয়ামী লীগের লেখা নাটক মঞ্চায়ন করতেছে

Adv.N.I.Bhuiyan
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১:৫৫ পূর্বাহ্ন

ভোট দিতে পারলে ই হয়।

Mozammel
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১:২১ পূর্বাহ্ন

দামটা একটু বাড়ানোর প্রচেষ্টা এই আর কি? শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের সাথে যাবে এটা নিশ্চিত।

Rakib
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

প্রতিবেদনের শিরোনাম, 'এবার সাজানো নির্বাচন করা সহজ হবে না'। সহজ যদি না হয় কঠিন হবে, তাতে সমস্যা কি? কঠিন কাজও তো করা হয়। এমনতো নয় যে সহজ কাজগুলোই শুধু করা সম্ভব বা করা যায় বা করা হয়; আর কঠিন কাজগুলো করা অসম্ভব বা করা যায়না বা করা হয়না। সাজানো নির্বাচন সহজে করা না গেলে অ সহজে করা হবে। সেই অ সহজ কাজটির সহযোগী আপনারা কি সহজে নাকি অ সহজে হবেন তা এখনো খোলাসা করেননি। তবে শ্রীলঙ্কার বিপর্যয়কর পরিস্থিতি আলোচনায় আসার পর থেকে জি এম কাদের অনর্গল কথা বলে যাচ্ছেন দুর্নীতি, লুটপাট, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এবং গনতন্ত্র, সুশাসন, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথাও তিনি বলেছেন। বর্তমান সময়ে সরকারের সমালোচনায় তাঁকে মুখর বলা যায়। তবুও তাঁর বিরুদ্ধে সরকার টু শব্দটিও করছেনা। মির্জা ফখরুল ইসলাম যখন সরকারের সমালোচনা করে থাকেন তখন সরকারের প্রভাবশালী কেউ কেউ তাঁর কথার জবাব দিয়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু, জি এম কাদের সরকারের যতো সমালোচনা করছেন তাঁর কথার জবাব সরকারের কোনো মহল থেকে দিতে দেখা যায়না। তাই কারো কারো সন্দেহ অমূলক নাও হতে পারে যে, বিএনপি আগামী নির্বাচন বর্জন করলে বিরোধী দলের জায়গাটা জাতীয় পার্টি পূরণ করবে। সেজন্য আগে থেকে সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের অনুগত বিরোধী দলের বদনাম থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত হয়ে আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলে থাকার ফিল্ড তৈরীর কাজ করে যাচ্ছেন জনাব জি এম কাদের। যদি তা সঠিক হয় তাহলে এটাই তো হবে সবচেয়ে বড়ো 'সহজ সাজানো নির্বাচন'। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো জাতীয় পার্টির বিশাল জনসমর্থন নেই। তাই জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকায় নির্বাচনে গেলে সাজানো বা পাতানো বা আসন ভাগাভাগি করে ভোট করতে হবে। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সরকারের সঙ্গে আঁতাত করলে তাঁদের বদনাম আরো যোগ হবে। এমনিতেই তাঁদের ভাবমূর্তি তলানিতে। জি এম কাদেরের কথার সত্যতা প্রমাণ করার জন্য তাঁরা একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কিভাবে করা যায় তার একটা কৌশল দেখাতে পারেন। সাজানো ভোটের একটা সহজ উপায় হচ্ছে ইভিএম। সকল বিরোধী দল, জাতীয় পার্টি ও বিশিষ্টজনেরা ইভিএমের দুর্বল দিক তুলে ধরে তার বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন। ড. আকবর আলী খান, (আল্লাহ তাঁকে শান্তিতে রাখুন) ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ইভিএমের বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সহ মাত্র চারটি দল ইভিএমের পক্ষে। সরকারের ইচ্ছানুসারে নির্বাচন কমিশন ইভিএমে ভোট করার রোডম্যপ চূড়ান্ত করেছে। ইভিএমের বিরোধিতা করে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ভোট বর্জন করে নাকি অংশ নেয় তা সময়ে বুঝা যাবে। তাঁরা কথায় কাজে মিল না রাখলে তলানির বিশ্বাসযোগ্যতা আর কখনো ফিরে আসবেনা। সাজানো বা পাতানো নির্বাচন সহজে করার আয়োজনের দিকে নির্বাচন কমিশন অগ্রসর হচ্ছে। কী পরিমাণ মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে কমিশন একটি খবর পড়ে চোখ কপালে উঠে গেছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএমের বিপক্ষে মতামত দিয়েছে তা সবাই জানে। কিন্তু কমিশন ইভিএম জায়েজ করার জন্য বলছে অধিকাংশ দল নাকি ইভিএমের পক্ষে। প্রথম আলো এই খবরটির শিরোনাম করেছে, 'ইভিএম নিয়ে দলগুলোর বক্তব্য পাল্টে দিল ইসি'। প্রথম আলোর খবরে বলা হয়েছে, 'ইসির সঙ্গে জুলাই মাসে সংলাপে সরাসরি ইভিএমের পক্ষে বলেছিল মাত্র চারটি দল। কিন্তু কর্মপরিকল্পনায় ইসি বলেছে, পক্ষে ১৭টি দল। ইসি বলছে, জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নেওয়া ২৯টি দল ইভিএম নিয়ে মতামত দিয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি দল কোনো না কোনোভাবে ইভিএমের পক্ষে ছিল। যে ১৭টি দলকে ইভিএমের পক্ষে বলছে ইসি, তার মধ্যে তিনটি দল সরাসরি ইভিএমের বিপক্ষে। একটি দল ইভিএম নিয়ে মতামত দেয়নি। ৯টি দল ইভিএম নিয়ে বিভিন্ন শর্তের কথা বলেছে।' (রিয়াদুল করিম, প্রথম আলো ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২)। এমন ডাহা অসত্য কথা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপিয়ে দেয়া হলো। অথচ কারো পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা হলোনা। তাহলে তো বুঝতে বাকি থাকেনা, সাজানো নির্বাচন সহজেই হবে।

আবুল কাসেম
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:১১ অপরাহ্ন

আপনারা যে শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের সাথে যাবেন এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। বতর্মান হাকডাক বাজারদর বাড়ানো ছাড়া কিছু নয়।

মো হেদায়েত উল্লাহ
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:৫১ অপরাহ্ন

পড়ে মনে হলো উনি প্রছন্ন ইঞ্গীত দিলেন এবার শুধু সংসদ সদস্য করলে হবে না পাওয়ার চাই।

Victoria
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:২৮ অপরাহ্ন

সহজ সরলভাবে সঠিক কথাগুলো তুলে ধরেছেন ।আশা করি জনগন বুঝতে পেরেছেন।

লুৎফর রহমান মিলটন
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৮:৫৫ অপরাহ্ন

পড়লাম বুঝলাম জানলাম। বিশাল সাক্ষাৎকার। জাতীয় পার্টির জি এম কাদেরের কিছু সোজা সাপটা কথা একেবারেই না বুঝার কোনো কারন নেই। ধন্যবাদ।

Anwarul Azam
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৬:১৩ অপরাহ্ন

বর্তমান সরকার আরো একবছর থাকছে। আশা করছি তাতে মন্ত্রীত্ব মিলবে। খাঁচার পাখির খাঁচা ছেড়ে বনের পাখিদের পাশে বসার ঠাঁই করে নেয়া বেশ কঠিন। তাই প্রার্থনা করি শীঘ্রই আবার সোনার খাঁচায় ঠাঁই মিলবে।

আনিস উল হক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৫:৫৭ অপরাহ্ন

It's sound good & the way you're talking as like you do pretty understand peoples feelings but some how we are doubting you before election you might turn to aowamilig .......

Nannu chowhan
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৫:০৪ অপরাহ্ন

এদের জন্য মনীষীগন এক কলম লিখে গেছেন, " অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃন সমদহে।" এদের জন্য মিঃ বিন,গোপাল ভাড় এখন আর কেউ দেখে না। এদের দিয়ে সেই অভাব পুরোন করে।

Mohiuddin molla
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৪:৫৯ অপরাহ্ন

এরা হচ্ছে জাতিয় গাদ্দার ।এখন নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসায় দর কষা কষির জন্য সরকার বিরোধি বকতব্য দিচ্ছে যাতে আওয়ামি লিগ আরো বেশি মন্ত্রিত্ব পরের একতরফা নির্বাচন করে জাতিয় গাদ্দার পার্টিকে দেয়।কাদের সাহেব যদি এত বুঝেন তা হলে সং এর সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন না কেন? সব ভাঁওতাবাজ ,ওরা জানে জনগনের মন রক্ষা করা ভালো ভালো কথা বললে লাইম লাইটে আসা যাবে। যত রাজনৈতিক পেইড আবর্জনা।

Mustafa Ahsan
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৪:২৬ অপরাহ্ন

আলহামদুলিল্লাহ সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে অল্প সময়ের মধ্যে জনাব জিএম কাদের যেভাবে সকলের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন আশা করি সেই জনপ্রিয়তা অব্যাহত রাখবেন এবং জাতীয় পার্টিকে জনগণের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন,

Md Alomgir Chowdhury
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ২:১০ অপরাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status