ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

সিরাজুস সালেকিন
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চতুর্মুখী চাপে পড়বে কৃষিখাত। একই সঙ্গে সার ও ডিজেলের দাম বাড়ায় কৃষিজ উৎপাদনকারী তথা কৃষকদের পড়তে হবে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে। গত শুক্রবার রাতে ডিজেলসহ সকল ধরনের জ্বালানি  তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে ডিজেলের দাম বেড়েছে লিটারে প্রায় ৪২.৫ শতাংশ। এর ঠিক তিন দিন আগে ইউরিয়া সারের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বন্যার ধকল সামলাতে না সামলাতে হঠাৎ করে সার ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষক। বিশেষত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ধান উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার ও ডিজেলের দাম বাড়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্ষুদ্র কৃষক। বাড়তি খরচ জোগাড় করতে অনেকেই ঋণের ফাঁদে পড়তে পারে। কমতে পারে ধানের উৎপাদন।

বিজ্ঞাপন
তবে এ আশংকা নাকচ করে দিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, উৎপাদন ব্যাহত হবে না। তবে কৃষকদের লাভ কম হতে পারে। কৃষিখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শুধু সেচের খরচই বাড়বে না। উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল খাতেরই খরচ বাড়বে। ধান উৎপাদনের জন্য দুই পর্যায়ে চাষের প্রয়োজন হয়। 

বীজতলা তৈরি ও পরবর্তীতে চারা রোপণের জন্য পাওয়ার টিলারের মাধ্যমে চাষ দিতে হয়। ডিজেলের দাম বাড়ায় পাওয়ার টিলারের খরচ বেড়ে যাবে। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে যন্ত্র ব্যবহার হলে সেখানেও ডিজেল বা পেট্রোলের ব্যবহার রয়েছে। চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কারসহ নানা কাজে প্রয়োজনীয় শ্রমিকদের মজুরিও বাড়বে। পরিবহন খরচ বাড়ায় কীটনাশক ও বালাইনাশকের খরচ বাড়বে। চলতি আমন মৌসুম থেকেই এ বাড়তি বোঝা টানতে হবে কৃষকদের। বোরো মৌসুমে বেশি পরিমাণে সেচ প্রয়োজন হওয়ায় এই খরচ আরও বাড়বে। একটি বেসরকারি সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, বোরো মৌসুমে এক কেজি ধান উৎপাদনে যে খরচ হতো  সার ও ডিজেলের দাম বাড়ায় সেই খরচ কেজিপ্রতি ৭ টাকা বাড়বে। পূর্বে ডিজেল ব্যবহারকারী কৃষকদের প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে খরচ হতো প্রায় ২১ টাকা। বাড়তি দামে সার ও ডিজেল কেনার কারণে তাদের প্রতিকেজি ধান উৎপাদনে খরচ পড়বে ২৮ টাকা ২০ পয়সা। বিদ্যুৎ চালিত সেচযন্ত্র ব্যবহারকারী কৃষকদের পূর্বে এক কেজি ধান উৎপাদনে খরচ হতো ২০ টাকা ৪০ পয়সা। সারের দাম ও অন্যান্য খরচ বাড়ায় তাদের প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে খরচ হবে ২৬ টাকা ৯০ পয়সা।

 কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মহাপরিচালক ড. বেনজীর আলম মনে করেন সার ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে খুব বেশি ক্ষতি হবে না কৃষকদের। তাদের খরচ সামান্য পরিমাণে বাড়তে পারে। সারের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি  বলেন, যে ইউরিয়া সারের দাম বাড়ানো হয়েছে তা ডিএপি সারেই রয়েছে। ডিএপি সারের দাম বাড়ানো হয়নি। তাই ইউরিয়ার ব্যবহারের মাত্রা ঠিক থাকলে খরচ বাড়বে না। ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে কৃষকের সামান্য খরচ বাড়তে পারে দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প রয়েছে, যার মাধ্যমে চারা লাগানো থেকে শুরু করে ধান বস্তাবন্দি করা পর্যন্ত যন্ত্রের ব্যবহার হয়। এতে শ্রমিকের মাধ্যমে কাজ করানোর থেকে খরচ অনেক কম হয়। এ ছাড়া আমরা উচ্চফলনশীল ধান উৎপাদনে উৎসাহিত করছি। এতে কৃষকরা যে সামান্য ক্ষতির মুখোমুখি হতো তা কাটিয়ে উঠতে পারবে তারা। বগুড়া থেকে প্রতিনিধি জানান, সার ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বগুড়ার কৃষকরা। সদর উপজেলার চকঝপু গ্রামের চাষি মানিক হোসেন, কৃষি কাজ করে আমরা বরাবরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। লাভবান হওয়ার রাস্তা আমরা কোনো দিনই খুঁজে পাই না। হঠাৎ তেল আর সারের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। আমরা কীভাবে চাষাবাদ করবো ভেবে পাচ্ছি না। 

চাষিদের উৎপাদিত ফসলের দাম বাড়ে না। কিন্তু ফসল উৎপাদনের উপকরণের দাম সরকার নিজের মর্জিমতো যখন-তখন বৃদ্ধি করছে। আমরা কষ্ট করে আবাদ করি আর লাভবান হন অন্য কেউ। তিনি আরও বলেন, আমাদের জমির ফসল যখন কর্তন করা হয় তখন ফসলের দাম তলানীতে থাকে। আবাদ খরচের টাকা সংগ্রহ করতে আমাদের বাধ্য হয়েই ভরা মৌসুমে ফসল বিক্রি করতে হয়। দুই মাস পর যখন কৃষকের ঘরে ফসল থাকে না তখন হঠাৎ করেই দাম বৃদ্ধি পায়। সেই লাভ কিন্তু কৃষক পায় না।  স্যুট টাই পরা এসি রুমে বসে থাকা ব্যবসায়ীরাই লাভবান হন।  বগুড়া সদরের ক্ষিদ্রধামা এলাকার কৃষক জয়নাল মানবজমিনকে বলেন, যারা নিজেরা শ্রম দিয়ে চাষাবাদ করছেন তারা কিছুটা রেহাই পাচ্ছেন। কিন্তু যাদের দশ বিশ বিঘা আবাদ করতে হয় শ্রমিক দিয়ে তাদের লালবাতি জ্বলবে। সার, তেল ও কীটনাশক কিনবে, না শ্রমিকের দাম দেবে? এমন চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেক চাষি। কিছুদিন আগেও এব বিঘা জমি চাষ করতে  ১৬০ টাকা খরচ হতো। তেলের দাম বৃদ্ধির পরেই প্রতিবিঘা জমিতে এক চাষ দিতে গুনতে হচ্ছে ২৮০ টাকা। এ ভাবে চাষাবাদের খরচ বাড়লে কৃষকদের আত্মহত্যা করতে হবে। বগুড়ার শিবগঞ্জের উথুলি গ্রামের চাষি ছামু মিয়া মানবজমিনকে বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আস্তে আস্তে চাষাবাদ ছেড়ে দিবো। 

গতবারের চেয়ে এবার অর্ধেক জমিতে ধান লাগাবো। যেভাবে সরকার কৃষকদের গলাটিপে ধরছে তাতে আমাদের চাষাবাদ ছেড়ে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ইউসুফ রানা মণ্ডল বলেন, বর্তমানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই বৃষ্টির পানিতেই চলতি মৌসুমের ধানচাষ হয়ে যাবে। শেষের দিকে দুই এক বার হয়তো পানি সেচ দিতে হবে। তেলের যে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে কৃষিতে তেমন প্রভাব পড়বে না। সারের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কৃষকদের ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহারের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করি। ইউরিয়ার বেশি ব্যবহারে ফসলে পোকার আক্রমণ বেশি হয়। তাছাড়া যে পরিমাণ সারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে কৃষকদের কিনতে সমস্যা হবে না বলে তিনি মনে করেন।  দিনাজপুর সংবাদদাতা জানান, চলতি আমন মৌসুমের শুরুতেই ইউরিয়া সারের মূল্যবৃদ্ধির পর ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধিতে চরম দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছে কৃষিনির্ভর দিনাজপুরের কৃষক। ইউরিয়ার দাম প্রতি কেজিতে ৬ টাকা বৃদ্ধিতে সার প্রয়োগে প্রতি একরে ৬০০ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। এখন ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচেও খরচ বৃদ্ধি পাবে কমপক্ষে ৮০০ টাকা আর হালচাষে হ্যারো বা হারভেস্টার মেশিনে খরচ হবে অতিরিক্ত ৮০০ টাকা। 

সব মিলে আমন চাষে একর প্রতি কৃষকের অতিরিক্ত খরচ হবে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। আমনের পর বোরো আবাদে সেচ, সার বেশি পরিমাণ প্রয়োজন হওয়ায় এতে খরচের মাত্রা আরও বেশি হবে। শ্রমিকরা আগে যেখানে ৩০০-৪০০ টাকায় কাজ করতো, সেখানে এখন ৫০০-৬০০ টাকা করে নিচ্ছে। সব মিলে কৃষকের মাথায় হাত। কৃষকের প্রশ্ন- যেভাবে কৃষি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলো, ধানের দাম কি আমরা সেভাবে পাবো? অবশ্য দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে- ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কৃষিতে এখনই পড়বে না। তবে সারের দাম বৃদ্ধির ফলে জমিতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়ার ব্যবহার কিছুটা কমবে। যা জমির উর্বরতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। কম ইউরিয়া ব্যবহারে কৃষক লাভবান হবে। আমন আবাদের শুরুতে ডিজেল, সারের এই মূল্যবৃদ্ধি করায় উদ্বেগ জানিয়েছে দিনাজপুরের আমন চাষিরা। তারা বলছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে আমন আবাদে এখন তাদের বাড়তি টাকা গুনতে হবে। দিনাজপুর বোচাগঞ্জ উপজেলার তেতরা গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান জানান, প্রতি একর জমিতে সেচ দিতে জমির প্রকারভেদে ডিজেল দরকার হয় ২০ থেকে ২২ লিটার। আগে ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৭৬০ টাকা লাগতো। এখন তা ২ হাজার ২৮০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০৮ টাকা খরচ হবে। সে হিসেবে শুধুমাত্র সেচের জ্বালানিতেই ৬৮০ টাকা থেকে ৭৪৮ টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইভাবে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে হারভেস্টার মেশিনেও অনুরূপ অতিরিক্ত ৮০০ টাকা খরচ হবে। 

পাশাপাশি এক একর জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োজন হয় ৮০ থেকে ৯০ কেজি, টিএসপি ও পটাশ সার লাগে ২০ কেজি করে, জিংক ২ কেজি এবং সালফারের প্রয়োজন হয় ১ কেজি। আর কীটনাশক প্রয়োগ করতে খরচ হয় ৪ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা। জমিতে হাল চাষ, ধান রোপণ থেকে কর্তন পর্যন্ত সারসহ সব মিলিয়ে প্রতি একর জমিতে খরচ হয় ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা। আর ধান আবাদ হয় প্রতি একরে ৪০ থেকে ৪৫ মণ। তাই ধান বিক্রির অধিকাংশ টাকা উৎপাদন খরচেই ব্যয় হয়ে যায়। এ অবস্থায় ধানের দাম ভালো না পেলে নির্ঘাত লোকসান গুনতে হবে। এজন্য সরকারের প্রতি ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান। বিরল উপজেলার ভান্ডারা ইউপি’র বালান্দোর গ্রামের কৃষক চেহারু রায় জানান, এবার ডিজেল ও ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি চিন্তার বিষয়। ধানের দাম ভালো না পেলে কপালে হাত দেয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।

 তিনি বলেন, সরকার দাম নির্ধারণ করলেও সেই দামে আমরা সার পাই না। তিনি ন্যায্যমূল্যে সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। ডিজেল ও ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুজ্জামান বলেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি এই মুহূর্তে কৃষিতে প্রভাব পড়বে না। সেচের সময় এটির প্রভাব দেখা যাবে। আর সারের মূল্য বৃদ্ধিতেও কৃষকরা তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ, অনেক কৃষকই মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করেন। এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করার চেষ্টা করা হলেও তেমন ফল মেলেনি। এবার সারের দাম বৃদ্ধিতে ইউরিয়ার ব্যবহার কিছুটা কমবে। ফলে জমির উর্বরা শক্তি আর হ্রাস পাবে না। আমরা জমিতে জৈব সার ব্যবহারের দিকে চাষিদের উৎসাহিত করছি।

পাঠকের মতামত

দেশের কৃষকসমাজকে উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি আপনারা শুধু নিজেদের খোরাক বাদে এর বেশি উৎপাদনে যাবেন না। দেখি সরকার কিভাবে চালের যোগান দেয়।

Mosarof
১৫ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ৫:২৪ পূর্বাহ্ন

যারাই বলেন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা আমি একজন কৃষক হিসেবে মনে করি কৃষির উপর তাদের কোন জ্ঞান নেই।কিছু যদিও থাকে তবে প্রতারিত করছেন নিজেদের। ভেজাল ও নিম্ন মানের অথচ উচ্ছমূল্যের সার ও কীটনাশক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত কৃষক, এই বিষয়গুলো বিবেচিত নাহলে উৎপাদন বাড়বেনা, বাড়বে দুর্ভোগ।

Abdul Haque Mojumder
১০ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ১০:০৬ অপরাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status