অনলাইন
কুমিল্লায় সাবেক রেলমন্ত্রীর গ্রামের বাড়িতে ভাংচুর, আগুন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে
(১৫ ঘন্টা আগে) ৫ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার, ১০:৪৫ অপরাহ্ন
সাবেক রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গ্রামের বাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাংচুর, আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকালে উপজেলার ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মুজিবুল হক কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের ৫ বারের এমপি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরে মন্ত্রী ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি স্বপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দুই শতাধিক লোকজনের সংঘবদ্ধ একটি দল শনিবার বিকালে সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হকের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা তিন তলা ভবনের নীচতলায় ও দোতলায় ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং ভবনে লুটপাট শেষে নীচতলার দরজা-জানালা ভাংচুরসহ রক্ষিত মালামাল আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়াও ওই বাড়িতে মন্ত্রী মুজিবুল হকের ভাই ও ভাতিজাদের বেশ কয়েকটি ঘরে একইভাবে লুটপাটসহ ভাংচুর করা হয়। এসময় তার এক ভাই আবদুল মতিনের ছেলে জজ আবদুস সালামের ঘরে ভাংচুর ও আগুন দেয়া হয়। মুজিবুল হকের ভাতিজা তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের দুই শতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তারা আমার চাচা মুজিবুল হকের ভবনসহ বাড়ির বেশ কয়েকটি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করে আগুন দিয়েছে। তারা দুইটি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এসময় বাড়ির লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে এ হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ভিডিও চিত্র ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এছাড়া সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এদিকে সূত্র জানায়, এর আগে মুজিবুল হকের এক ভাতিজা আহসান উল্লাহ স্থানীয় জামায়াতের এক নেতাকে গালমন্দসহ হুমকি ধমকি দেয়ার প্রতিবাদে শনিবার বিকালে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা উত্তর পদুয়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছিল। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মো. বেলাল হোসাইন জানান, মুজিবুল হকের ভাতিজা আহসান উল্লাহ ও তার সহযোগীরা শনিবার দুপুরের দিকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা জেলা ছাত্র শিবিরের নেতা মহিউদ্দিন রনিকে লাঞ্ছিত করেছে বলে জেনেছি। এর জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এতে দলীয় কোনো বিষয় নেই।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিসের লোকজনও আসে। এর আগে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয় এবং হামলাকারীরা চলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পাঠকের মতামত
মুজিবুল হক তো ছিলেন ভোট চোর এবং ভোট ডাকাত!!!
Right
জামায়াত করলে জায়েজ আছে সমস্যা নেই। যতসব সমস্যা শুধু বিএনপি কিছু করলে
উচিৎ শিক্ষা হয়েছে। দরকার ছিল বাড়িটি পুকুরে পরিণত করা।