ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৫, রবিবার, ২৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ শাওয়াল ১৪৪৬ হিঃ

শেষের পাতা

ছুটি শেষ, স্টেশন টার্মিনালে ঢাকাফেরত মানুষের ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার
৬ এপ্রিল ২০২৫, রবিবারmzamin

গতকাল শেষ হয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঈদ ছুটি। বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও পেয়েছেন ৯ দিন ছুটি। সে হিসেবে গতকাল ছিল ফিরতি ঈদযাত্রার শেষ দিন। ঈদের ছুটি কাটিয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে রাজধানীতে ফিরছেন মানুষজন। আজ থেকে কর্মক্ষেত্রে যোগ দেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবীরা। ঈদযাত্রার শেষ দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দেখা গেছে যাত্রীদের তীব্র চাপ। ফিরতি যাত্রায় আসা বাসের যাত্রীদের মাঝেও ভোগান্তির কথা জানা গেছে। দিনের শুরুতে কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের তীব্র ভিড়, শিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার সকাল থেকে লঞ্চযোগে আসা মানুষের চাপ বেড়েছে সদরঘাটে।    

গতকাল দুপুরে সরজমিন সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘুরে দেখা গেছে, দেশের নানা প্রান্ত থেকে যাত্রীরা এসে ভিড় করছেন সায়েদাবাদ জনপদ মোড়ে। কেউ কেউ আরেকটু সামনে গিয়েও নামছেন। সায়েদাবাদ জনপদ মোড়ে গতকাল অন্যান্য দিনের তুলনায় ভিড় ছিল বেশি। তবে, সায়েদাবাদের বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, এখনো ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন  অসংখ্য মানুষ। অনেক কাউন্টারেই ঢাকা ছাড়ার টিকিট কিনতে যাত্রীদের ভিড় লেগে গেছে। গাবতলী  বাস টার্মিনালেও দূরপাল্লার পরিবহনগুলো যাত্রীবোঝাই করে ঢাকায় প্রবেশ করেছে। যাত্রীদের চাপ বেড়েছে শুক্রবার থেকেই। গাবতলী এলাকার একজন ট্রাফিক পুলিশ বলেন,  শুক্রবার এবং শনিবার কিছুটা চাপ বেড়েছে গাড়ির। প্রায় ২৪ ঘণ্টায় গাড়ির চাপ রয়েছে। আগামী দু-একদিন এই চাপ থাকবে।   
সায়েদাবাদে এশিয়া লাইনের যাত্রী  আরাফাত বলেন, ঢাকায় পড়াশোনা করি। একটা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবো, তাই আজকে চলে আসতে হলো। আমার আসার পথে ভোগান্তি বলতে আজকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ তীর্থ মহাষ্টমী স্নান উৎসব পালনের কারণে কুমিল্লাতে দেড় ঘণ্টা যানজটে পড়তে হয়েছে। একাধিক জায়গায় যানজটে পড়েছি। ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম হোসেন বলেন, বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে এসেছি। রাস্তায় সরাসরি কোনো ভোগান্তি হয়নি, ঢাকা শহরের নিয়মিত যানজট পেয়েছি ঢাকার প্রবেশমুখে। কিন্তু ভোগান্তি হলো টিকিট পাওয়া নিয়ে। টিকিট কাটতে গিয়ে দেখলাম আগামী ৯ তারিখ পর্যন্ত কোনো টিকিটই নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমার উপজেলা থেকে জেলা শহরে আসতে হয়েছে? সেখান থেকে টিকিট কাটলাম। অন্য সময় টাকা কিছু বাড়িয়ে দিলে হলেও টিকিট ব্যবস্থা করা যেতো, আজকে তাও সম্ভব হয়নি।   

শনিবার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে যাত্রীদের। বিশেষ করে চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, ভোলা ইত্যাদি এলাকা থেকে মানুষজন ছুটির শেষ দিনে ভিড় করেছেন লঞ্চে। শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৭০-৭৫টি লঞ্চ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ঢাকায় এসেছে। লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দু’দিনের চেয়ে শনিবার বেড়েছে ভিড়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, শনিবার ভোর থেকে লঞ্চগুলো যাত্রীবোঝাই হয়ে ঢাকায় আসতে শুরু করে। লম্বা ছুটি ছিল, এ কারণে মানুষ ধাপে ধাপে ফিরছে। গত দু’দিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ কিছুটা বেড়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীর অধিকাংশ মানুষ ফিরে আসবে।    

কমলাপুর রেলস্টেশনে দুপুরে যাত্রীদের আনাগোনা খুব একটা দেখা যায়নি। তবে দিনের শুরুতে ছিল ভিড়। বিশেষ করে স্টেশনে ট্রেন আসলে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে প্ল্যাটফরমগুলোতে। দিনের শুরুতে ট্রেনগুলো স্টেশনে ফিরতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দেরি করায় স্টেশন থেকে ছেড়েও যায় বিলম্বে। কোনো ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করে নিয়ে আসে। শনিবার পঞ্চগড় থেকে আসা একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের ছাদে যাত্রীসহ  প্রায় দেড় থেকে ২ হাজার মানুষ নিয়ে প্রবেশ করে ঢাকায়। সব আসন ছিল যাত্রীতে পূর্ণ। ট্রেনের ভেতরে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী রহমান বলেন, পঞ্চগড় থেকে ট্রেনের লোকসংখ্যা ভর্তি ছিল। প্রতিটি স্টেশনেই গাদাগাদি করে ট্রেনে লোক উঠেছে। পথে স্টেশনগুলোতে নির্ধারিত সময় থেকেও ৫-৭ মিনিট বেশি বিরতি দিয়েছে। ট্রেনের ভেতর যেন শ্বাস নেয়ার জায়গা ছিল না। অন্যদিকে, ফিরতি ট্রেনেও গতকাল শিডিউল জটিলতা দেখা দেয়। সকালের দিকে একাধিক ট্রেন ঢাকায় পৌঁছাতে বিলম্ব করে। তাই কমলাপুর থেকেও ছেড়ে যায় বিলম্বে। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ও রংপুর এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন বিলম্বে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছায় ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেন দু’টির যাত্রীরা। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় লালমনিরহাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা। রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ১০ মিনিটে রংপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার কথা। কিন্তু শনিবার স্টেশনের শিডিউল বোর্ডে বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রার সময় সাড়ে ৮টার পরিবর্তে  সকাল ১০টা ২০ মিনিট দেয়া হয়।

অন্যদিকে রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রার সময় ৯টা ১০ মিনিটের পরিবর্তে সম্ভাব্য সময় দেয়া হয়েছে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে। রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী সাজ্জাদ বলেন, সকাল আটটায় স্টেশনে এসেছি। ১০ মিনিট আগে জানালো ট্রেন ছাড়বে ৯টা ৫০ মিনিটে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিছু করার নেই। কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন এ বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, এখন বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি হয়নি।  ট্রেন আসছে, যাচ্ছে।  আজ দুইটা ট্রেন একটু দেরি করে ছেড়েছে। এর কারণ ট্রেনগুলো আসতেই দেরি হয়েছে।  তাই বিলম্ব হয়েছে। এখান থেকে ছাড়তে দেরি করেনি।

 

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

   
Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status