ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৫, রবিবার, ২৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ শাওয়াল ১৪৪৬ হিঃ

শেষের পাতা

জেপি মর্গ্যানের পূর্বাভাস

চলতি বছরেই মন্দার মুখে পড়তে পারে মার্কিন অর্থনীতি

মানবজমিন ডিজিটাল
৬ এপ্রিল ২০২৫, রবিবার

মার্কিন অর্থনীতি সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন অর্থনৈতিক সংস্থা জেপি মর্গ্যান এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। জেপি মর্গ্যানের প্রধান অর্থনীতিবিদ মাইকেল ফেরোলি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে আমেরিকার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্টস বা জিডিপি) সংকুচিত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির কারণেই এই সমস্যার সম্মুখীন হতে চলেছে মার্কিন অর্থনীতি। যদি আমেরিকায় মন্দা হয়, সে ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। সারা বিশ্বে মন্দার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ, জানিয়েছে জেপি মর্গ্যান।

ব্লুমবার্গ  ফেরোলিকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ‘শুল্কের চাপে আমাদের জিডিপি সংকুচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। গত বছর আমাদের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ১.৩ শতাংশ। চলতি বছরে আমরা ০.৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি আশা করছি না। যা আগের বছরের তুলনায় বেশ খানিকটা কম।’
ফেরোলি ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে দুই-চতুর্থাংশ মন্দার পূর্বাভাস দিচ্ছেন, তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি ১% এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ০.৫% হ্রাস পাবে। মাত্র কয়েকদিন আগে, ট্রাম্প তার নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেছিলেন- সমস্ত আমদানির ওপর ১০% বেস শুল্ক, মেক্সিকো এবং কানাডার মতো  অংশীদারদের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে বলে জানান তিনি। 

শুক্রবারই ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ২,২৩১ পয়েন্ট কমেছে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে মহামারি বিপর্যয়ের পর সবচেয়ে খারাপ দিন। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কমেছে ৬%  এবং ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক নাসডাক ফিউচার্সের পতন হয়েছে ৫.৮% কমেছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য যুদ্ধকে উস্কে দিয়েছে। চীন ইতিমধ্যেই পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে, মার্কিন পণ্যের ওপর ৩৪% পারস্পরিক কর আরোপ করেছে। অন্যান্য দেশও একই পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। ফেরোলি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, অর্থনৈতিক মন্দা আমেরিকান কর্মীদের জন্য বেদনাদায়ক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্বের হার ৫.৩ শতাংশে পৌঁছবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। মার্চ মাসে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত ৪.২% বেকারত্বের হারের তুলনায় এটি আরও বাড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন এই অর্থনীতিবিদ। 
মুদ্রাস্ফীতিও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফেরোলির কথায় ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ধীরগতির প্রবৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে। জে.পি. মরগান একা নয়  যারা এই আশঙ্কাজনক  পূর্বাভাস কমিয়েছেন। বার্কলেসও আগামী বছর সংকোচনের আশঙ্কা করছে। সিটি মাত্র ০.১% প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে, অন্যদিকে ইউবিএস তাদের পূর্বাভাস কমিয়ে ০.৪% করেছে। ইউবিএসের প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ জোনাথন পিঙ্গেল এর বিস্তৃত প্রভাব উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আমরা ধারণা করছি বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে মার্কিন আমদানি আমাদের পূর্বাভাসের চেয়ে ২০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পাবে। যার ফলে জিডিপি’র অংশ হিসেবে আমদানি ১৯৮৬ সালের পূর্ববর্তী সময়ে ফিরে যাবে।’
ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি মিত্র, ভোক্তা এবং বিনিয়োগকারী সবাইকেই হতাশ করেছে, তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি অস্থির অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে যা প্রবৃদ্ধি দ্বারা নয়, বরং পশ্চাদপসরণের দ্বারা সংজ্ঞায়িত হবে।
সূত্র: ইকোনোমিক টাইমস

 

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

   
Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status