দেশ বিদেশ
ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব ভারত সাবধানতার সঙ্গে পরীক্ষা করছে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার
ভারতের উপর মার্কিন পারস্পরিক শুল্কের প্রভাব ভারত সাবধানতার সঙ্গে পরীক্ষা করছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে একথা জানিয়ে বলা হয়েছে, ভারতের শিল্পমহল এবং রপ্তানিকারকসহ সকল অংশীদারদের সঙ্গে এই বিষয়ে তাদের মতামত জানার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর বুধবার পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ঘোষণার প্রভাব ভারতের বাণিজ্য দপ্তর সাবধানতার সঙ্গে পরীক্ষা করছে বলে জানানো হয়েছে। আরও বলা হয়েছে যে, দ্রুত চুক্তির জন্য ভারত ও মার্কিন বাণিজ্য দলের মধ্যে আলোচনা এখনো চলছে। ইতিমধ্যেই ভারতের অলঙ্কার ও রত্ন ব্যবসায়ীরা প্রবল ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
শুল্ক নীতির ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রতিটা দেশকে কিছুটা ছাড় দেয়া হয়েছে। তাই একে ‘ছাড়যুক্ত পারস্পরিক শুল্ক’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। নতুন নিয়ম চালু করার ক্ষেত্রে আলাদা করে ভারতের কথা বলতে শোনা গেছে তাকে। ট্রাম্প বলেন, দিল্লির নীতি খুবই কঠিন। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখানে এসেছিলেন। তিনি আমার দুর্দান্ত বন্ধু। আমি তাকে বলি, বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও আপনি আমাদের সঙ্গে সঠিক ব্যবহার করছেন না। মার্কিন পণ্যের উপর ভারত ৫২ শতাংশ শুল্ক নিয়ে থাকে। আমরা সেখানে ২৬ শতাংশ নেবো, যা এক কথায় অর্ধেক। এটি আরোপ করার সময়ে তিনি বলেন, অনেকদিন ধরে অন্যান্য দেশ আমাদের দুর্বল নিয়ম-কানুনের সুযোগ নিয়ে আমেরিকাকে লুট করে চলেছে। কিন্তু আর নয়। ২রা এপ্রিল চিরকাল মুক্তি দিবস হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকবে।
বিশ্বের অন্তত ৬০টি দেশের পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক চাপানোর কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কারও উপর ২০, কারও উপর ২৫, আবার কারও উপর ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করেছে আমেরিকা, যার প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই শুল্কগুলো যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সমস্ত পণ্যের উপর ১০ শতাংশ বেস করের অতিরিক্ত হিসাবে ধার্য করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলাদা আলাদা শিল্পের ক্ষেত্রে কীভাবে ছাড়যুক্ত পারস্পরিক শুল্ক নীতি কার্যকর করবেন, তা স্পষ্ট করেননি।