ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৩ শাওয়াল ১৪৪৬ হিঃ

মত-মতান্তর

বাংলাদেশে ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’-এর প্রাসঙ্গিকতা

ড. তারেক ফজল

(২ সপ্তাহ আগে) ১৭ মার্চ ২০২৫, সোমবার, ১২:১৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:১০ পূর্বাহ্ন

mzamin

বাংলাদেশে ‘নিজ ইতিহাসের’ ‘নতুন অধ্যায়ে’ এগুচ্ছে। মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার শ্বাসরুদ্ধকর দেড় দশকের অবসান ঘটে ৫ আগস্ট ২০২৪-এ। ছাত্র-জনতার হাজারো জীবন এবং নানা মাত্রার ১৪ হাজার জখমের বিনিময়ে এ অর্জন। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষায়, ‘প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি ও নৈতিকতা ধ্বংসে’র ‘গাজার প্রাণ ও কাঠামোগত ধ্বংসের’ নমুনা হয় এ বাংলাদেশ। এই ধ্বংসস্তুপ থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনার চেষ্টা চলছে। দেশটিকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশকে সম্ভাব্য ‘ভালো চেহারায়’ গড়ে তোলার একটি পরিকল্পনা হলো দেশটিকে ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ উন্নীত করা। বাংলাদেশকে দ্বিতীয় রিপাবলিককে উন্নীত করার ‘ধারণা’ বিষয়ে অনেকের অস্পষ্টতা আছে। তাই তারা এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন। প্রশ্নগুলো প্রাসঙ্গিক বটে। প্রশ্ন এসেছে: ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ কেন? ‘প্রথম বিপাবলিক’ আদৌও গঠিত হয়েছিলো? এই ‘রিপাবলিক’নামের গুরুত্ব কী, তাৎপর্য কী (‘নামে কি-বা আসে যায়’)? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় নামের ‘বাংলায়’ পরিবর্তন কেন চাই? ‘রিপাবলিক’-এর সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক কী? ইত্যাদি। বর্তমান নিবন্ধে এ প্রশ্নগুলোর সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হবে।

‘রিপাবলিক’-এর ধারা

রাজনীতি চিন্তার অন্যতম জনক প্লেটো ‘দ্য রিপাবলিক’ নামে স্মরণীয় বই লিখেছেন। তাতে ‘রাজামুক্ত শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে ‘রিপাবলিক’-এর অনুমান করা চলে।

প্রাচীন ও মধ্যযুগ পেরিয়ে পশ্চিমা রাজনীতি চিন্তার আধুনিক যুগে ‘রাজামুক্ত শাসনের’ ধারণা ক্রমশ শক্তিমান হয়েছে। ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে ‘মার্কিন জনগণ’ (১৩টি রাজ্যের) ‘রাজাহীন ঐক্যবদ্ধ শাসন’ প্রতিষ্ঠা করে ১৭৮৯ সালে। মার্কিনীরা নির্দিষ্টভাবে ‘রিপাবলিক’ ধারণাকে ‘খুব উচ্চকিত করে নি’, উচ্চকিত করেছে অধিকারও স্বাধীনতার ধারণা। সেই ১৭৮৯ সালে ফরাসী জনগণ, এবং নির্দিষ্টভাবে প্যারিসের জনতা, ১৪ জুলাই তারিখে ‘বাস্তিল দূর্গ’ দখল করার মাধ্যমে একটি বিপ্লব প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়ার শুরুতেই ‘ফরাসী রাজতন্ত্র’ অথবা রাজার ‘অবসান’ ঘটেনি। ফরাসী রাজতন্ত্রের ‘আপাত-অবসান’ ঘটে ২১ মার্চ ১৭৯২ সালে। প্রতিষ্ঠিত হয় ‘প্রথম ফরাসী রিপাবলিক’। ‘রিপাবলিক’ মানে গণতন্ত্র নয়, কিন্তু এর মাধ্যমে ফ্রান্সে ‘গণতন্ত্রের যাত্রা’ ঘটেনি, প্রতিষ্ঠিত হয় ‘অথরিটারিয়ান’ বা কর্তৃত্ববাদী শাসন। তা চলে ১৮ মে ১৮০৪ পর্যন্ত। আবারও, এই ‘কর্তৃত্ববাদী’ শাসনের অবসান হলেও ‘গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, ফিরে এসেছে ‘রাজতন্ত্র’, ‘মহারাজতন্ত্র’ বা ‘সাম্রাজ্যবাদ’ হিসেবে। প্রতিষ্ঠিত হয় নেপোলিয়ান বোনাপার্টের ‘সম্রাটত্ব’ (এম্পেররশিপ)। ‘সম্রাট নেপোলিয়নের’ সাম্রাজ্য বিস্তারের উচ্চাভিলাষী ও অবিবেচক ‘ঝটিকা যাত্রার’ অবসান ঘটে, প্রথমে ৩০.৫.১৮১৮ তারিখে এবং চূড়ান্তভাবে, ‘ওয়াটার লু’ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ৭ জুলাই ১৮১৫ সালে। কিন্তু তাতেও ফ্রান্সে গণতন্ত্র ফেরেনি, ফিরেছিলো আবারো ‘বুর্বন রাজবংশের’ রাজতন্ত্র, লুই ১৮-র হাত ধরে, ৩ মে ১৮১৪ (এবং শতদিবসের নেপোলিয়নিক শাসনের পরে ৮ জুলাই ১৮১৫ সালে। এরপর বুর্বন রাজবংশের ‘রক্তের ধারা’ পেরিয়ে ‘অর্লিয়েন্স বংশের’ ‘উত্তরাধিকার ধারায়’ ফ্রান্সে রাজতন্ত্র অব্যাহত থাকে ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৪৮ সাল পর্যন্ত। এই ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৪৮ সালে সকালে ‘বিপ্লবী জনতার হর্ষধ্বনির মধ্যে প্যারিসের সিটি হল ‘ড্য ভিল’-এর ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ‘লা মার্টিন’ নামের এক ‘ডেপুটি (ফরাসী আইনসভার সদস্য)’ ‘দ্বিতীয় ফ্রেঞ্চ রিপাবলিক’-এর প্রক্লেমেশন বা ঘোষণা উচ্চারণ করেন। জনতার স্লোগানে ছিলো ‘স্বাধীনতা-সাম্য-ভ্রাতৃত্বে’র আওয়াজ।

ফ্রান্সে এরপর আরো দু’রার ‘রিপাবলিক’-এর অবসান ঘটে এবং বর্তমান পঞ্চম ফরাসী রিপাবলিক সক্রিয় আছে ৮ জানুয়ারি ১৯৫৯ সাল থেকে। সেই রিপাবলিক-এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন জেনারেল চালর্স দ্য গল। এখানে উপস্থাপিত ‘ফরাসী বিপ্লব থেকে দ্বিতীয় রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা ‘এক নজরে’ শিরোনামের সারণিতে ‘বাস্তিল দূর্গ ঝড়’ থেকে দ্বিতীয় ফরাসী রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত প্রায় ষাট বছরের ফরাসী রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন রয়েছে।

বাংলাদেশে দ্বিতীয় রিপাবলিক ধারণা অনুধাবনে এটি সহায়ক হতে পারে। যথেষ্ট শ্রম ও মনোযোগ সাধ্য হলেও ‘গবেষণার স্তর’ হিসেবে এটি ৩য় স্তরভুক্ত। এর নাম দিয়েছি ‘জ্ঞানের পুনরুৎপাদন’ উচ্চতর দুই স্তরের নাম দিয়েছি ‘জ্ঞানের পুনর্দার’ ও ‘জ্ঞানসৃষ্টি’।

তার মানে, ‘রিপাবলিক’ ধারণার প্রধান বার্তা হলো: একটি রাষ্ট্রের ‘সম্পদসমূহের মালিকানা’ ‘রাজার’ বা ‘সম্রাটের’ বা ‘কোনো ব্যক্তির’ নয়, সেই ‘মালিকানা জনগণের’, এই বাস্তবতা নিশ্চিত করা। ‘সম্পদসমূহ বা ‘এস্টেইটস’ ধারণা থেকেই সংবাদপত্র (বা ‘প্রেস’) ‘ফোর্স এস্টেইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলো। রাজার প্রথম ‘তিন এস্টেইট’ হলো: যাজকগণ (ক্লারিকস্) অভিজাতগণ (বা ‘ফিউডালস’-জমিদার, ‘নোবিলিটি’) এবং ‘সাধারণগণ’ (বা ‘কমনার্স’, ব্যবসায়ী-বুর্জোয়া-মধ্যবিত্তসহ অন্য সব নাগরিক-ভোটার। এই ‘ভোটার’ হবার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘ট্যাক্স’ দিতে হতো)।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনায় ‘রাজা খেদানো’ আছে বটে। তবে তা ‘ঔপনিবেশিক কর্তৃত্বের’ রূপে রাজা। তারা ‘স্বাধীন’ হতে চেয়েছিলো, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা। ফ্রান্সের বেলায় ‘রাষ্ট্রের মালিকানা’ ‘রাজা খেদিয়ে’ জনগণের হাতে’ নেয়া হয়,  প্রত্যেকে ‘জন’ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেন।

বাংলাদেশের প্রথম রিপাবলিক

বাংলাদেশের ঘটনায় আসি। এখানে ‘রাষ্ট্রীয় নামের বাংলা’ বদলের দরকার কোথায়? ইংলিশ ‘পিপল’স রিপাবলিক’ ধারণা হিসেবে ঠিক আছে। তবে শুরুর ‘পিপল’স’ অনিবার্য ‘পরিভাষা’ নয়। এটা চায়নাকে দেখে ‘অনুকরণ’ করা হয়ে থাকতে পারে। অনিবার্য পরিভাষা ‘রিপাবলিক’। এর বাংলা করা হয়েছিলো ‘প্রজাতন্ত্র’। ‘রিপাবলিক’-এর মূল অংশ ‘পাবলিক’-এর বাংলা ‘প্রজা’ করা, বলা, ভাবা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। ফরাসীরা ‘রাজা খেদানোর’ বিপ্লব করেছিলো নিজেদের আবার ‘প্রজা’ হিসেবে ভাবার বা দেখার জন্য নয় নিশ্চয়ই। একজন পণ্ডিত এ পর্যায়ে যুক্তি দিয়েছেন, এই ‘প্রজা’ ‘রাজার প্রজা’ নয়, ‘আইনের প্রজা’। আমি বলি, ‘স্বাধীন ব্যক্তিগণ’ ‘আইনের প্রজা’ নন। তারা ‘আইন বানান’ এবং তাদের ‘যৌথ সুবিধা-সহজতার’ জন্য তারা সবাই সেই আইন ‘কার্যকর রাখেন’ এবং প্রয়োজনে, ফের যৌথ সম্মতিতে, সেই আইন ‘বদলান’ও। তাই ‘স্বাধীন ব্যক্তিগণ’ ‘আইনের প্রজা’ নন। প্রাসঙ্গিক বটে, আমাদের পণ্ডিতজন এই ‘আইনের প্রজা’ বিষয়ক ‘তাফসির’ কোন সূত্রে পেলেন? ফরাসীরা তা বলেছেন? জানা দরকার। বাহ্যতও (এবং মর্মগতও) ‘প্রজা’ ধারণার সাথে ‘রাজা’র অস্তিত্ব’ অনিবার্য হয়ে থাকে। ইংলিশ ‘পাবলিক’-এর বাংলা ‘প্রজা’ করা বিভ্রান্তিকর, তাই ত্যাজ্য।

তাহলে ‘পিপল’স’ বাদ দিয়ে আমরা বাংলাদেশের নাম ‘রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ বলতে পারি, সহজেই। আর বাংলা বলতে পারি ‘জনতন্ত্রী বাংলাদেশ’ (আশা করি এই উচ্চারণ ‘কষ্টকর’ হবে না)। ‘নামে কিবা আসে যায়’?

হ্যাঁ, নামে ‘বহুকিছু’ আসে যায়। বাংলাদেশের নাম যদি রাখা হতো ‘রাজতন্ত্রী শেখের বাংলাদেশ’, তাহলে আপনি দাবিকৃত ফ্যাসিস্ট মাফিয়া শেখ হাসিনার পরোক্ষে উচ্চারিত ‘দেশটা আমার বাবার’ বলাকে বাধা দিতে পারতেন না। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো দেশে যেমন ‘বাধা দেয়া’ যায় না। তাই, আপনার দেশের নাম যখন ‘রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ হয়, তাখন আপনি বলতে পারেন ‘দেশটা কারো বাপের না’।

‘প্রথম রিপাবলিক’ হয়েছিলো?

একজন পণ্ডিত বাহ্যত শুদ্ধভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বাংলাদেশের’ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংবিধান সভা গঠিত হয়েছিলো? এবং সেই সংবিধান সভা (কন্সটিটুয়েন্ট এসেম্বলি) বাংলাদেশকে ‘রিপাবলিক’ ঘোষণা করেছিলো? ‘প্রথম রিপাবলিক’ গড়া না হয়ে থাকলে ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ দাবির ভিত্তি কই? বলি, বাহ্যত এগুলো ন্যায্য প্রশ্ন। তবে এও সত্য বটে, ‘বাংলাদেশ অঞ্চলের’ জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হয়েছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানের ‘ন্যাশনাল এসেম্বলি’ (এনএ বা জাতীয় পরিষদ, তাই তাদের পরিচিতি ছিলো এমএনএ) এবং ‘ইস্ট পাকিস্তান প্রভিন্সিয়াল এসেম্বলি’ (পিএ পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ, সংক্ষেপে বলা হতো এমপিএ)-র সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমএনএগণ ‘পাকিস্তানের জন্য’ সংবিধান ‘বানাতেন’ এবং এমপিএগণ ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ জন্য সংবিধান ‘বানাবার জন্য’ ‘প্রস্তাবিত’ ছিলেন। মি. জুলফিকার আলী ভুট্টো ও মিলিটারী নেতৃত্বের ‘অসুরতায়’ সেটি ঘটেনি এবং ‘বাংলাদেশ’ ‘স্বাধীনতা অর্জন’ করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে ‘বাংলাদেশ অঞ্চলের’ জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমএনএ ও এমপিএ-দের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিলো গণপরিষদ (সংবিধানসভা-কন্সটিটুয়েন্ট এসেম্বলি) এবং ‘সংবিধান বানানো’ পর্যন্ত তারা ‘এমসিএ’ (‘মেম্বার অব কন্সটিটুয়েন্ট এসেম্বলি’) নামে সম্বোধিত হতেন। এগুলো প্রকাশ্য বাস্তবতা বা ফ্যাক্ট। এতে ‘আংশিক সমস্যা’ যা আছে তা হলো, ‘কিছুটা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে’ একটি ‘বাংলাদেশি কন্সটিটুয়েন্ট এসেম্বলি গঠন না করা। তা করা হলে, সম্ভবত, সেই সব ব্যক্তিরাই তার ‘সদস্য (এমসিএ) হতেন। যারা ১৯৭০ সালের ৭ ও ১৭ ডিসেম্বরে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই এমসিএগণ ‘স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য’ একটি সংবিধান বানিয়েছিলেন এবং নাম দিয়েছিলেন ‘পিপল’স রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’। তাই ‘প্রথম রিপাবলিক’-এর অস্তিত্ব নিয়ে তোলা প্রশ্নগুলো পর্যাপ্ত বিবেচনাসম্মত নয়।

‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ কেনো?

তার মানে, এখন ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’-এর ভাবনা প্রাসঙ্গিক। প্রশ্ন হলো, ‘প্রথম রিপাবলিক’ থেকে ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ কোন্ ক্ষেত্রে, কীভাবে ভিন্ন হবে?

এ পর্যায়ে নির্দিষ্টভাবে স্মরণ করা উচিৎ, ‘৩৬ জুলাই-র অর্জনের’ বছরাধিককাল আগে মি. তারেক রহমানের উদ্যোগে বিএনপি ‘৩১ দফার রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলো। তাতে বেশ কিছু ‘ইতিবাচক অর্জনের’ দাবি আছে,  তার বাইরে বিদ্যমান সংবিধান ‘চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি’-র দুটো  (সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) ‘পূর্ণত এবং একটি (বাঙালি জাতীয়তাবাদ) অংশত বদলে দেয়ার ‘জোর দাবি’ আছে ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ ধারণায়। ‘প্রধানমন্ত্রীর’ মেয়াদ ও রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধানমন্ত্রীর ‘দায়-ক্ষমতার ভারসাম্য’ একটি উল্লেখযোগ্য প্রসঙ্গ। জনতন্ত্রের (রিপাবলিক) সব ‘আয়োজনে’ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ও সব নাগরিকের জীব, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রসঙ্গগুলো ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক ধারণায়’ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার। চলমান জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের মাধ্যমে একটি কাঙ্ক্ষিত ‘জুলাই চার্টার প্রণয়ন করা এবং সম্ভাব্য সংস্কারগুলোর ‘অনিবার্য ও দ্রুত অর্জনযোগ্য অংশগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘দ্বিতীয় রিপাবলিকের’ দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রফেসর আলী রীয়াজের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যার ভিত্তিতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ‘দ্বিতীয় রিপাবলিকের গঠনতন্ত্র-কন্সটিটিউশন’ প্রণয়নের লক্ষ্যে ‘একটি সংবিধানসভা’ ও আইনসভা নিয়মিত দায় পালনের জন্য ‘জাতীয় সংস্কার’ গঠনের জন্য নির্বাচন যুগপৎভাবে আয়োজন করা সম্ভব এবং একটি ‘কার্যকর রিপাবলিকের’ সফল যাত্রায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

লেখক: ড. তারেক ফজল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর।

(লেখকের একান্ত নিজস্ব মত)

পাঠকের মতামত

গোলাপকে যে নামেই ডাকো - গোলাপ গোলাপ ই, বিপ্লবকে যে রূপেই দেখা হোক না কেন - সেটা জনআকাঙ্খার প্রতিমূর্তী| দেশের জন যত লাগুক ঘাম ঝরাবো, রক্ত দিবো - পরোয়া করি না - জিন্দাবাদ ইনকিলাব, জিন্দাবাদ বাংলাদেশ

জনতার আদালত
১৭ মার্চ ২০২৫, সোমবার, ১:৫৬ অপরাহ্ন

মত-মতান্তর থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

   
Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status