ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৯ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

বিশ্বজমিন

শ্রীলঙ্কা

দেহব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩০ ভাগ, খাদ্য অনিরাপত্তায় ৬৩ লাখ মানুষ

মানবজমিন ডেস্ক

(২ সপ্তাহ আগে) ৩১ জুলাই ২০২২, রবিবার, ১০:২২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৩ অপরাহ্ন

অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কায়। এই সংকট নিয়ে প্রতিক্ষণ, প্রতিটি সেক্টর যুদ্ধ করছে। এর ফল হিসেবে নতুন এক সংকট দেখা দিয়েছে সেখানে। তাহলো বস্ত্রখাতে চাকরি হারিয়েছেন বিপুল পরিমাণ নারী। তারা জীবনজীবিকার তাগিদে যৌনকর্ম বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মিরর। 

এতে বলা হয়, দেশটি অপ্রত্যাশিত সংকটে ভুগছে। দুই কোটি ২০ লাখ মানুষের এই দেশটি ভয়াবহ সংকটে। দারিদ্র্যে চলে যাচ্ছে বহু পরিবার। দেশটির বর্তমান অবস্থা অসংখ্য পরিবারকে শেষ প্রান্তসীমায় পৌঁছে দিয়েছে। তারা সংসার চালাতে গিয়ে অসীম জটিলতার মুখোমুখি।

বিজ্ঞাপন
পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার এবং অত্যাবশ্যক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে যুদ্ধ করছেন। 

যৌনকর্মীদের অধিকার বিষয়ক গ্রæপ স্ট্যান্ড-আপ মুভমেন্ট লঙ্কা (এসইউএমএল)-এর তথ্যমতে, এই কঠিন পরিণতিতে সারাদেশে অস্থায়ী ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে নিষিদ্ধ পল্লী। কয়েক মাসে পতিতাবৃত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৩০ ভাগ। কারণ, জীবিকা নির্বাহের তাগিদে অধিক থেকে অধিক নারী যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এসব নিষিদ্ধপল্লীর কিছু গড়ে উঠেছে স্পা এবং সুস্থ থাকার সেন্টার হিসেবে। অনেক নারী বলেছেন, তাদের পরিবারের মুখে তিন বেলা খাবার জোটাতে একটিই মাত্র উপায় আছে। 

এসইউএমএল-এর নির্বাহী পরিচালক আশিলা ডানদিনিয়া বলেছেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বহু নারী শ্রমিককে বস্ত্রখাতের কাজ থেকে ছাঁটাই দেয়া হয়েছে। তারা যৌনকর্ম বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে আমরা দেখতে পেয়েছি, অধিক হারে নারী যৌনকর্মী হিসেবে পেশা শুরু করেছেন। তাদের বেশির ভাগই এসেছেন বস্ত্র খাত থেকে। করোনা মহামারির পরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বস্ত্রখাত। বহু নারী কাজ হারিয়েছেন। আর বর্তমান কঠিন অবস্থা তাদেরকে জীবিকা নির্বাহের জন্য ঠেলে দিয়েছে যৌনকর্মে। 

২১ বছর বয়সী রেহানা (পরিবর্তিত নাম)। তিনি সংবাদ মাধ্যম এএনআইয়ের সঙ্গে তার কাহিনী শেয়ার করেছেন। জানিয়েছেন কেন তিনি বস্ত্রখাত থেকে যৌনকর্মী হয়ে উঠেছেন। সাত মাস আগে তিনি কাজ হারিয়েছেন। তারপর কয়েক মাস অসহায়ের মতো ঘুরেছেন। কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পতিতাবৃত্তিতে নেমেছেন। 

রেহানা বলেন, গত বছর ডিসেম্বরে আমি বস্ত্রখাত থেকে কাজ হারাই। তারপর দিনভিত্তিক আরেকটি কাজ পাই। তাও যখন কর্মী সংখ্যা কম হতো, তখনই আমাকে ডাকা হতো। তখনই আমি কাজ করার সুযোগ পেতাম। কিন্তু আমার নিয়মিত উপার্জন হয় এমন একটা কাজের দরকার, যা দিয়ে আমি আমার ও পরিবারের চাহিদার কিছুটা হলেও সামাল দিতে পারবো। তারপর আমি একটি স্পা’র মালিকের কাছে গেলাম। সেখানে বর্তমান সংকটের প্রেক্ষিতে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এই প্রস্তাব মেনে নিতে সায় দিচ্ছিল না আমার মন। কিন্তু পরিবারের জন্য টাকার খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। তাই আমাকে এটাই বেছে নিতে হয়। 

রেহানার মতো একই পেশা বেছে নিয়েছেন ৪২ বছর বয়সী রোজী (পরিবর্তিত নাম)। তিনি সাত বছর বয়সী একটি সন্তানের মা। বিচ্ছেদ হয়েছে তার বৈবাহিক সম্পর্কের। তার ওই সন্তানের শিক্ষা ও ঘরভাড়া মেটাতে অর্থ প্রয়োজন। রোজী বলেন, সংকটের তুলনায় আয় পর্যাপ্ত নয়। পরিবার চালাতে যে অর্থের প্রয়োজন, তা যোগান দিতে পারছিলাম না। তাই আমাকে অন্য পথ বেছে নিতে হয়েছে। আমি একটি দোকান চালাই। তা সচল রাখতে চাই। এসব কারণে আমার অর্থের প্রয়োজন। তাই এখন দেহব্যবসাকে বেছে নিতে হয়েছে। 

শ্রীলঙ্কায় নতুন করে এই যে নারীরা যৌনকর্মে লিপ্ত হচ্ছেন তারা মাসে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার রুপি আয় করতেন বস্ত্রখাতে চাকরি করে। আর এখন দিনে দেহব্যবসা করে আয় করছেন ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার রুপি। কিন্তু এই আয় করতে গিয়ে তাদেরকে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। 
এসইউএমএলের নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, এসব যৌনকর্মী পিতামাতাকে নিয়ে একই বাসায় বসবাস করেন। আর্থিক সংকটে পার্টনার তাদেরকে ছেড়ে চলে গেছে। এরই মধ্যে তাদের অনেকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এমন দুটি মেয়ের সন্ধান পেয়েছি আমরা। তাদের দেখাশোনা করছি। কারো কাছ থেকে, এমন কি সরকারের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোনো সাহায্য পাচ্ছি না। 

এর আগে এএনআইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূটির কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুর রহিম সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, দেশে বর্তমানে খাদ্য অনিরাপত্তায় ভুগছে ৬৩ লাখ মানুষ। স্বাধীনতার পর দেশ সবচেয়ে কঠিন খাদ্য সংকটে ভুগছে। আগামী কয়েক মাসে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জুনে খাদ্যে মুল্যস্ফীতি শতকরা ৮০ ভাগের ওপরে। আগামী কয়েক মাসে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

পাঠকের মতামত

পারমানবিক বিদ্যুৎ সহ উচ্চাভিলাষী সব প্রজেক্টের ঋণের কারনে আমাদের দেশের এমন অবস্তথা হলে কেমন হবে ??

Nizam
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ২:৪১ পূর্বাহ্ন

নর পিচাশ রা মেয়েদের শরীর নিয়ে খেলা করে । যে নর পিচাশ ক্ষুধার্ত নারীর সম্ভ্রম হরন করে সেই সব চেয়ে নিৎকৃষ্ট মানুষ ।

Zakiul Islam
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ১:১৪ পূর্বাহ্ন

যারা লুটপাট ও দুর্নীতি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে একটা দেশ দেউলিয়া হলেও তাদের সমাস্যা নেই। তারা আমোদস্ফুর্তিও করে। যাঁরা জীবীকার তাগিদে পতিতাবৃত্তির পথে নামতে বাধ্য হয়েছে তাঁদের উচিত এসব দুর্নীতিবাজদের সম্পদের গুদামে হামলা করে সব ছিনিয়ে আনা।

আবুল কাসেম
৩১ জুলাই ২০২২, রবিবার, ৮:৫৬ অপরাহ্ন

আল্লাহ না করুন, আমাদের দেশের অবস্থা শ্রীলংকার মত হলে আমাদের পরিনতি আরও ভয়াবহ হতে পারে!! কারণ আমাদের টাকা তো বিদেশে পাচার হয়ে গেছে, তাই এই খাতে খরচ করার মত বেহায়া পুরুষতো সব বিভিন্ন দেশের বেগম পাড়াতে অবস্থান নিবে।

মোঃ আতাউর রহমান
৩১ জুলাই ২০২২, রবিবার, ৬:১৬ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রের ভুল পলিছি। তৎকালীন ক্ষমতাসীনদেরন উচ্চাভিলাষী কাজকর্ম দেশ এই অবস্থায় নিয়ে এসেছে।

[email protected]
৩১ জুলাই ২০২২, রবিবার, ৭:৪৫ পূর্বাহ্ন

এদের খদ্দেররা নিশ্চয়ই প্রচুর সম্পদশালী । দুর্নীতির টাকার মালিক। লুটপাটে শরিক অনেকেই।

Kazi
৩০ জুলাই ২০২২, শনিবার, ১০:৪০ অপরাহ্ন

বিশ্বজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বিশ্বজমিন থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশি আরও ৪ এজেন্সিকে অনুমোদনের সুপারিশ/ মালয়েশিয়ার মন্ত্রী বললেন- প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধেও কাজ হবে না

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status