ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২৪, সোমবার, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ মহরম ১৪৪৬ হিঃ

প্রথম পাতা

ভাইয়ের সনদে ১৪ বছর ধরে ওয়ার্ড মাস্টার

শুভ্র দেব
২৫ জুন ২০২৪, মঙ্গলবারmzamin

বড় ভাইয়ের নাম, শিক্ষা সনদ ও এনআইডি জালিয়াতি করে ১৪ বছর ধরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ওয়ার্ডমাস্টারের চাকরি করছেন এক ব্যক্তি। রুহুল আমিন নামে চাকরি করলেও ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম আব্দুল বারিক জাম্বু। আদতে তার বড় ভাইয়ের নাম রুহুল আমিন। তারা দু’জনেই সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মো. আজিজুল হকের ছেলে। ছোট ভাই আব্দুল বারিক সার্টিফিকেট ও এনআইডি জালিয়াতি করে চাকরি করছেন জেনে অনেকবার প্রতিবাদও জানিয়েছেন রুহুল আমিন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। বরং উল্টো ভয়-ভীতি ও হুমকি-ধমকি পেয়েছেন ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে। এছাড়া তিনি নিজেও সরকারি কোনো চাকরিতে যোগদান করতে পারেননি। উপায়ন্তর না পেয়ে রুহুল আমিন তার সার্টিফিকেট বোর্ড থেকে তুলে নিয়েছেন। গতকাল তিনি বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
সেখানে তার ভাইয়ের স্থানে তাকে চাকরি করার সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেয়ে হাসপাতালের পরিচালক একই হাসপাতালের উপ- পরিচালক ডা. আইয়ুব আলীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এই কমিটি প্রতিবেদন জমা দিবে। 
হাসপাতাল সূত্র বলছে, রুহুল আমিন নামে যে ওয়ার্ডমাস্টার হাসপাতালে চাকরি করছেন তিনি মাস্টাররোলে ছোট পদে হাসপাতালে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরে তিনি ওয়ার্ডমাস্টার হিসেবে পদোন্নতি পান। যখন তিনি চাকরিতে প্রবেশ করেন তখন যে সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়েছেন সেটিতে লেখা ছিল রুহুল আমিন। বাবার নাম মো. আজিজুল হক। হাসপাতালের ফাইলেও এখনো সেগুলো আছে। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। কিন্তু ভেরিফিকেশনেও জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়েনি। এখন দু’জনই দাবি করছেন তাদের নাম রুহুল আমিন। তাদের বাবার নামও একই। এনআইডিও একই। 

লিখিত অভিযোগে প্রকৃত রুহুল আমিন বলেছেন, ২০০২ সালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের বিনসাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাস করেছেন। তার রোল ছিল-১২৭৫৭৫ ও রেজি: নং ৭১০৬৬৪/২০০০-০১। পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি আর লেখাপড়া করতে পারেননি। পরে তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। ওই পোশাক কারখানায় কাজ করা অবস্থায় অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকরির সুযোগ আসে। চাকরির জন্য তিনি বিনসাড়া হাইস্কুলে তার এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট তুলতে যান। সেখানে গিয়ে তার সার্টিফিকেট চাইলে প্রধান শিক্ষক জানান- ২০০৯ সালে তারই পরিবারের কিছু সদস্যের সহযোগিতায় তার ছোট ভাই আব্দুল বারিক জাম্বু স্কুল থেকে মূল সার্টিফিকেট তুলে নিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন তার ভাই ওই সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ঢাকা শিশু হাসপাতালে চাকরি করছেন। পরে তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সার্টিফিকেট ফেরত চান। কিন্তু তার ভাই সেটি দিতে অস্বীকার করেন এবং তাকে ভয়-ভীতি ও হুমকি দেন। বিভিন্ন সময় তিনি নিজের সার্টিফিকেট ফেরত চেয়ে ব্যর্থ হয়ে ২০২০ সালের ৩১শে জুলাই তাড়াশ থানায় সাধারণ ডায়েরি করে ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট তুলে নেন। অভিযোগে রুহুল আমিন আরও বলেন, তার এনআইডি কার্ড যার নম্বর-২৬৯৬৪০৫৪৩৯৩৫১ পরিবর্তন করে আব্দুল বারিক জাম্বু তার নিজের মতো করে সংশোধন করে নিয়েছে। এখন সব জায়গায় সে রুহুল আমিন নামে পরিচয় দিয়ে আসছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং অসত্য। তার আসল নাম মো. আব্দুল বারিক (জাম্বু)। নিজ এলাকা, পরিবার ও স্বজনরা তাকে জাম্বু নামে চিনে। সে কোনোদিন হাইস্কুলে যায় নাই এবং তেমন পড়ালেখা করে নাই। কিছুদিন পড়ালেখা করেছে কওমি মাদ্রাসায়।

অভিযুক্ত ওই ওয়ার্ডমাস্টারের বড় ভাই সফিকুল ইসলাম বলেন,  আমার ছোট ভাই যে কাজ করেছে সেটি পুরোপুরি সত্য। সে যা করেছে সেটি অন্যায় করেছে। আমার সঙ্গে কিছুদিন সম্পর্ক ভালো ছিল তখন বলেছিলাম রুহুলের সঙ্গে  যেন এমনটি না করে। কিন্তু সে শুনেনি। তাকে এও বলেছিলাম যা অন্যায় করার করছো। এখন রুহুল টাকা বা কোনো সহযোগিতা চাইলে যেন তাকে করে। অথচ সহযোগিতা করবে তো দূরের কথা, উল্টো তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। এখন যাচাই-বাছাই করার জন্য তদন্ত চলছে। তদন্তে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা দণ্ডনীয় অপরাধ।  কোনোভাবে ছাড় দেয়া হবে না।

 

পাঠকের মতামত

পত্রিকা খুললেই দুর্নীতির খবর, দুর্নীতি আগেও ছিল কিন্তু গত এক দশকে করা দুর্নীতির চিত্র এতোটাই অস্বাভাবিক, অকল্পনীয় এবং বৈচিত্র্যময় যে পূর্বের চার দশকে করা সকল ধরনের অপকর্ম, দুর্নীতি যেন এই সময়ে করা অপকর্ম, দুর্নীতির কাছে নাবালক শিশু।

দয়াল মাসুদ
২৫ জুন ২০২৪, মঙ্গলবার, ৯:০৩ পূর্বাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

   

প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status