ঢাকা, ২২ মে ২০২৪, বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিঃ

দেশ বিদেশ

কী করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নতুন দুই সংসদ সদস্য

জাবেদ রহিম বিজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে
২৩ মার্চ ২০২৪, শনিবার

এবারই প্রথম সংসদ সদস্য হলেন তারা। যদিও দু’জনেই নির্বাচনী লড়াই ও রাজনীতির পুরনো মুখ। একজন মো. মঈন উদ্দিন মঈন, আরেকজন সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান। দু’জনেই স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন। একরামুজ্জামান বিএনপি থেকে আর মঈন আওয়ামী লীগ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তাদের জয়ে আশার ফানুস উড়ছে নির্বাচনী ওই দুই এলাকায়। কী করছেন ভোটে কারিশমা দেখানো এই সংসদ সদস্য- এনিয়ে আছে  কৌতূহল। দু’জনেই জানান, এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করছেন। বানাচ্ছেন উন্নয়নের ছক। এরইমধ্যে টিআর, কাবিখা, কাবিটা বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্প তালিকা জমা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
এমপি’র নিজস্ব বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকার প্রকল্প তালিকাও প্রস্তুত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. মঈন উদ্দিন মঈন জানান, শপথ গ্রহণের পর থেকেই ছুটছেন মন্ত্রণালয়ে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় সব প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন। মেয়াদকালীন ৫ বছরে শর্ট-টাইমে অর্থাৎ আগামী এক বছরে কোন কাজগুলো করবেন, মাঝামাঝি সময়ে দুই-আড়াই বছরে কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন এবং দীর্ঘ সময়ে কোন কাজগুলো সম্পন্ন করবেন  সেভাবেই উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। স্বাধীনতার পর থেকেই অবহেলিত সরাইলের শাহজাদাপুর-মলাইশ রাস্তাটি তার উন্নয়ন পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছে। সহসাই এটির দরপত্র হবে বলে জানান তিনি। এরপর আজবপুর-রসুলপুর,পানিশ্বর-টিঘর এবং শাহবাজপুর-শাহজাদাপুর রাস্তার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে চান। নির্বাচনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্নস্থানে ১৩টি ব্রিজ করার জন্যে ডিও লেটার দিয়েছেন। সরাইলের পানিশ্বর থেকে আজবপুর পর্যন্ত নদীভাঙন রোধে ১৩শ’ মিটারের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলেও জানান সংসদ সদস্য। এরইমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি উচ্চপর্যায়ের দল তার নেতৃত্বে ওই এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। এমপি প্রজেক্টের ২৫ কোটি টাকার মধ্যে ১৫ কোটি টাকা সরাইল উপজেলার এবং ১০ কোটি টাকা আশুগঞ্জ উপজেলার রাস্তার কাজের জন্যে বরাদ্দ করে ডিও দিয়েছেন। যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। টিআর, কাবিখা ও কাবিটা খাতে প্রাপ্ত বরাদ্দ  ৮৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ৭৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকার প্রকল্প তালিকা চূড়ান্ত করে জমা দেয়া হয়েছে। যা স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার রাস্তা প্রশস্তকরণে ৮০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করার কথা জানিয়ে মঈন বলেন, যা এর আগে কখনো হয়নি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাভিত্তিক একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণে প্রচেষ্টা চালানোর কথাও জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য। এজন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সংসদ সদস্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর একটি ডিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে দেয়া হয়েছে। যদি এটি হয় তাহলে জেলার ৯ উপজেলার জন্যে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার মতো বরাদ্দ পাওয়া যেতে পারে। এতে তার নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলার রাস্তাঘাটের আর কোনো সমস্যাই থাকবে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) নির্বাচনী এলাকার সমস্যা নিরূপণ, উন্নয়ন কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও উপজেলা প্রকৌশলী নিয়োগ দিয়েছেন সংসদ সদস্য সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান। এ ছাড়াও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, সুবিধা-অসুবিধা ওয়াকিফহাল হওয়ার জন্যে একজন সমন্বয়কারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই লোকবলের বেতন দেয়া হচ্ছে সংসদ সদস্যের নিজ পকেট থেকে। একরামুজ্জামান জানান, চলমান যে কাজ আছে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমার প্রতিশ্রুত কাজ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অন্য আরও সমস্য চিহ্নিতকরণের কাজও চলছে। সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মো. এনামুল হুদা সুমন জানান, মাধবপুর-নাসিরনগর এবং নাসিরনগর-চাতলপাড় সড়কসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাজের দরপত্র হয়েছিল আগেই। কিন্তু কাজগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছিলো না। স্থবিরতা দূর করে সড়কগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ওই সড়ক দুটি ছাড়াও ১১ কোটি টাকার কুন্ডা-মহিষবেড় রাস্তার কাজের স্থবিরতা দূর করে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য। ৪ কোটি টাকার ভিটাডুবি থেকে গোয়ালনগর রাস্তার কাজও দ্রুত সম্পন্ন করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন ৪টি রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশস্তকরণ কাজের জন্যে ডিও দিয়েছেন সংসদ সদস্য। চাতলপাড়ে নদীভাঙন রোধেও ডিও দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া টিআর, কাবিখা ও কাবিটার ২ কোটি টাকার ১১৯টি প্রকল্প এবং ২৫ কোটি টাকার কাজের প্রকল্প তালিকাও দেয়া হয়েছে। একরামুজ্জামান সম্প্রতি ঢাকার বোট ক্লাবে তার এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। সে সময় তিনি নাসিরনগরে তার নিজ জায়গায় এবং নিজ খরচে শেখ কামালের নামে একটি বিশ্বমানের ১০ তলা  হাসপাতাল করার ঘোষণা দেন।

 

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

দেশ বিদেশ সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status