ঢাকা, ২ জুলাই ২০২২, শনিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২ জিলহজ্জ ১৪৪৩ হিঃ

দেশ বিদেশ

জনতার চোখ

‘নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে’

২৪ জুন ২০২২, শুক্রবার

রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন। দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের। এতে দেশের শিল্প, পর্যটন, কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হবে। কর্মসংস্থানের গতি বাড়ার পাশাপাশি আয় বৈষম্যও কমবে- এমনটাই প্রত্যাশা। দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা দূরত্ব নয় বরং পদ্মাপাড়ের ভোগান্তিকে বড় বাধা বলেই মনে করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। সেতু উদ্বোধনে তাদের এই বাধা কেটে যাবে। তাই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পদ্মা সেতুকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত। সাধারণ মানুষের এই ভাবনাকে উপজীব্য করেই এই প্রতিবেদন। লিখেছেন-  নাইম হাসান

 

দখিনা দুয়ার খুলছে এই সেতুর শুভ উদ্বোধনে।

বিজ্ঞাপন
এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলাকে যুক্ত করছে পদ্মা সেতু। সেতুর অভাবে এতদিন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বড় কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। এসব জেলার পর্যটন খাতও বেশ পিছিয়ে। পদ্মা সেতুর মধ্যদিয়ে দক্ষিণ উপকূলের কৃষি, পর্যটন ও শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা দেখছেন এ অঞ্চলের মানুষ। যোগাযোগের ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় সুফল মিলবে সামগ্রিক অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায়…

 

নাজমুল করিম, ব্যবসায়ী 

পদ্মা সেতু হওয়ার পর যোগাযোগ দ্রুত হবে ফলে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে। পদ্মা সেতু তৈরির পর আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও পদ্মা সেতু তৈরির উপকরণ এবং ইঞ্জিনিয়ার বেশির ভাগই বিদেশি, তারপরও এতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ভাত ছিটালে কাকের অভাব হয় না।  

নাহিন বিন মাহমুদ- শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

২০১৪ সাল থেকে পদ্মা সেতু তৈরি হওয়া আমরা দেখেই যাচ্ছিলাম। আল্লাহ্‌র অশেষ রহমত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কারণে, বিভিন্ন দুর্নীতি ও অভিযোগ সত্ত্বেও আমরা পদ্মা সেতু দেখতে পেলাম। ভালোই লাগছে। এতে নাকি দেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। দেশের ২১টি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সুবিধাজনক হবে। আমাদের দেশের মানুষ ঐতিহাসিকভাবে অনেক বেশি উৎসুক।   

তানভীর আনজুম তুষার, সমাজকর্মী ও সংগঠক 

২৫শে জুন উদ্বোধন হচ্ছে গণমানুষের বহুল প্রত্যাশিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করেছে এই সেতু। এই সেতুটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে অভাবনীয় অবদান রাখবে। দেশের সর্বস্তরের মানুষের জীবনের গতির ইতিবাচক পরিবর্তনের বাহক হিসেবে এই সেতু কাজ করবে। দেশের জনগণের ভাগ্যবদলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে সেতুটি। পদ্মা সেতুকে ঘিরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা বাড়বে। কুয়াকাটা, সুন্দরবনসহ এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে বিপ্লব নিয়ে আসবে সেতুটি। পদ্মা সেতু একই সঙ্গে আমাদের আত্মমর্যাদা, সম্মান ও উন্নয়নের প্রতীক।  

 

 

আবু বক্কার সিদ্দিক, গণমাধ্যমকর্মী 

দখিনা দুয়ার খুলছে এই সেতুর শুভ উদ্বোধনে। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলাকে যুক্ত করছে পদ্মা সেতু। সেতুর অভাবে এতদিন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বড় কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। এসব জেলার পর্যটন খাতও বেশ পিছিয়ে। পদ্মা সেতুর মধ্যদিয়ে দক্ষিণ উপকূলের কৃষি, পর্যটন ও শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা দেখছেন এ অঞ্চলের মানুষ। যোগাযোগের ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় সুফল মিলবে সামগ্রিক অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায়। তিনি বলেন, বর্তমানে পদ্মা নদী পার হতে ফেরির তুলনায় অতি উচ্চ হারে টোল নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উচ্চ টোলের কারণে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে মানুষের যে আর্থিক সাশ্রয় পাবার কথা সেটা পুরোপুরি নাও হতে পারে। সেতুর সংযোগকারী জেলা থেকে দেশের অন্যপ্রান্তে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খরচ বাড়লে দক্ষিণের জেলায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য কিংবা সেবা দেশের অন্য অঞ্চলের সঙ্গে মূল্য সক্ষমতায় পাল্লা দিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। দক্ষিণাঞ্চলের সক্ষমতা এগিয়ে রাখাতে অর্থনীতিবান্ধব টোলব্যবস্থা সাজানো দরকার। যেখানে ভারী গাড়ি বেশি টোল দেবে, খালি কিংবা হালকা গাড়ি টোল কম দেবে। পাশাপাশি কৃষিসেবা ও শিল্পের খাতভিত্তিক সাশ্রয়ী টোল হারের বিবেচনা দরকার। 

জনি, ব্যাংকার 

পদ্মা সেতু অবশ্যই আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নতি আনবে। কানেকটিভিটি’র অবশ্যই দরকার আছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সেতু বানাতে কি আসলেই জনগণের টাকার যথাযথ ব্যয় হয়েছে?   

জিয়া উদ্দীন, ব্যবসায়ী 

কুয়াকাটা বা বরিশাল থেকে কোনো পণ্য আগে ঢাকা শহরে সহজে আনতে পারতো না। তা এখন আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় চলে আসবে। এর চাইতে আরো বড় সুবিধা আর কি হতে পারে! এটা বিশ্বের এক নাম্বার কাঠামোতে তৈরি করা হয়েছে। এই সেতু বাংলাদেশসহ বিশ্বের বড় ধরনের একটা স্থাপনা। পদ্মা সেতুর ফলে আমাদের জিডিপিতে ১.২ শতাংশ গ্রোথ হবে। যার ফলাফল আগামী দুই বছরের মধ্যে মানুষ পাবে। কাঁচামাল ও মাছের ব্যবসা সচল হবে। বিশেষ করে ওই পাড়ে দুইটা বন্দর আছে, যার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপরে চাপ অনেকটা কমবে। ২৫ তারিখের পরে দেখবেন পুরো সামাজিক কাঠামো পরিবর্তন হয়ে গেছে। 

কাউসার, দর্জি

সেতুর দরকার অবশ্যই ছিল। তবে টোল দেখা যাচ্ছে অনেক বেশি।  ফেরি ভাড়ার তুলনায় যা দ্বিগুণ। আমাদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়েই তো এই সেতুর নির্মাণ করা হয়েছে। এর থেকে আরও কম খরচে নির্মাণ করবে বলে আমরা আশা করেছিলাম।   

শেখ নওয়াজেস আলী রাজীব, ব্যবসায়ী 

পদ্মা সেতু আমাদের অর্থনীতিতে নিঃসন্দেহে বিরাট বড় প্রভাব ফেলবে। সেতুটি আরো আগে হওয়া উচিত ছিল, একটু দেরি হয়ে গেছে। এর খরচটা আমার কাছে অনেক বেশি হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে। আমার মনে হয়, সেতুর খরচটা আরেকটু হয়তো কমানো যেত। আমার বাসা দিনাজপুরে। যমুনা সেতু হওয়ার আগে আমাদের অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হতো। আমরা ঢাকাকেন্দ্রিক কাঁচামালের ব্যবসা করতে পারতাম না। এদিকের ব্যবসায়িক পরিধি আরও বেশি। যেমন- সুন্দরবন, কুয়াকাটা, বরিশাল আছে। এতে আমাদের পর্যটন খাতে অনেক বড় প্রভাব পরবে।   

সায়েদ সালমান সাকিব শিক্ষার্থী, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় পদ্মা সেতু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে একটা পরিবর্তন আসতে বাধ্য। যারা ঘুরতে যেতেন তারা অনেকে সাঁতার না পারার কারণে যেতে ভয় পেত। মানুষ খুব সহজে যাতায়াত করতে পারবে। এতে অর্থনীতির চাকা আরও সচল হবে। আগে অনেক সিরিয়াল পড়তো, এখন তাড়াতাড়ি পার হয়ে চলে যেত।   

সালাউদ্দীন, বেসরকারি কর্মকর্তা

আমার বাড়ি যশোর হওয়ায় আরিচা দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক ভোগান্তির শিকার হই। গত দুই-তিন বছর আমি এই কারণে বাড়ি যাইনি। এসবছরে গেলাম। ১৬ থেকে ১৬ ঘণ্টা আমি বাসে বসে ছিলাম। এই জন্য আমি পণ করেছি একবারে পদ্মা সেতু হলে আমি একবারে তখন ঈদ করতে যাবো। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে জানাই ধন্যবাদ।

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com