ঢাকা, ২ জুলাই ২০২২, শনিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১ জিলহজ্জ ১৪৪৩ হিঃ

দেশ বিদেশ

বাহুবলে দিশাহারা বানভাসি মানুষ, ত্রাণের অপেক্ষা বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

নূরুল ইসলাম মনি, বাহুবল (হবিগঞ্জ) থেকে
২৪ জুন ২০২২, শুক্রবার

বাহুবলে বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। এ অবস্থায় মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। উপজেলার স্নানঘাট, সাতকাপন ও লামাতাশি ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামই পানিতে ভাসছে। অমৃতা, খাগাউড়া, কালাপুর, মুদাহরপুর, বাগদাইর, নিধনপুর, লালপুর, হোসেনপুর, শ্যামপুর, গোয়ালবাধা, ফতেহপুর, চকহায়দর, স্নানঘাট, স্বস্তিপুর, বক্তারপুর, সারংপুর, সোয়াইয়া, তারাপাশা, হাজীপুর, চানপুর, ধনিয়াখালী, লামা নোয়াগাঁও, কাজীহাটা গ্রামগুলো বানের জলে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও বাহুবল সদর ও ভাদেশ্বর ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে করাঙ্গী নদীর পানি প্রবেশ করেছে। সব মিলিয়ে উপজেলার শতাধিক গ্রামই এখন কমবেশি বন্যা উপদ্রুত। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি স্নানঘাট ইউনিয়নে। সেখানে কয়েকশ’ পরিবার পানিবন্দি। ভেসে গেছে কয়েকশ’ পুকুর ও মাছের ঘের। তলিয়ে গেছে কয়েকশ’  হেক্টর ফসলি জমি ও বিস্তীর্ণ সবজির মাঠ।

বিজ্ঞাপন
এতে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এ ইউনিয়নের সিংহভাগ গ্রামের ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশু, ধানচাল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক পরিবার স্নানঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে সরকারি ত্রাণ তৎপরতা চালানো হলেও সেটা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে, বন্যায় উপজেলার ভাটি অঞ্চলের প্রায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পানি ঢুকে পড়েছে। 

স্নানঘাট ইউনিয়নের ফতেহপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, সাতকাপন ইউনিয়নের রাসুলপুর সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসা ও সদর ইউনিয়নের দীননাথ ইনস্টিটিউশন সাতকাপন সরকারি হাইস্কুলে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তাছাড়া খাড়াউড়া, অমৃতা, মুদাহরপুর, স্নানঘাট, স্বস্তিপুর, হোসেনপুর, চকহায়দর, বক্তারপুর, মানিকপুর, জগতপুর, অলুয়া, পনারব্দা, হাবিজপুর, হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হাবিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা নূরুল আমীন বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয় তথা নিম্নাঞ্চলের সব কয়টি বিদ্যালয়ে হাঁটু পানি। কোনো কোনোটিতে কোমর পানি।’ স্বস্তিপুর গ্রামের নূর উদ্দিন জানান, ‘বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করায় জরুরি মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। হাওরে গত কয়দিনে পানি বৃদ্ধির ফলে সব ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় যতটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম এখন ঘরে পানি প্রবেশ করায় পুরোপুরি দিশাহারা হয়ে পড়েছি। সবচেয়ে বেশি বিপদে আছি গবাদিপশু নিয়ে। গবাদিপশু রাখা ও তাদের খাবার জোগান দেয়া মারাত্মক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল জানান, ‘উপজেলার নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ করে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ৮৫০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। 

এ পানি আগামী ৩-৪ দিন পর্যন্ত অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকলে ফসলি জমিগুলো শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল বলেন, ‘উপজেলার দুই শতাধিক পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তার ধারণা করা হচ্ছে।’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মহুয়া শারমিন ফাতেমা বলেন, ‘উপজেলার হাওড়াঞ্চলের প্রায় গ্রামই বন্যাকবলিত। গত ক’দিন ধরে স্নানঘাট ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে বন্যাদুর্গতদের মাঝে দুই শতাধিক প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি। এছাড়াও স্নানঘাট ইউনিয়ন পরিষদে দুই টন চাল বরাদ্দ দিয়েছি। এদিকে, বুধবার বিকালে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিজেন ব্যানার্জী উপজেলার স্নানঘাট ইউনিয়নের খাগাউড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ও অমৃতা গ্রাম পরিদর্শন করে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন।

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com