ঢাকা, ৩০ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

অনলাইন

বিচারের জন্য মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে

(৬ দিন আগে) ২৩ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৫:০৮ অপরাহ্ন

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চিকে বিচারের জন্য গোপন স্থান থেকে বুধবার দেশের রাজধানীর একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার নামে চলমান মামলাগুলোর বিচার এখন কারাগার থেকেই হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা। সু চিকে ২০২১ এর ১ ফেব্রুয়ারি, গ্রেপ্তার করা হয়, যখন সেনাবাহিনী তার নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করে নেয়। তাকে প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে তার বাসভবনে রাখা হয়েছিল, কিন্তু পরে তাকে অন্য একটি স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। প্রায় এক বছর ধরে রাজধানী নেপিইতাওতে একটি অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছিল সু চিকে, সাধারণত এটি একটি সামরিক ঘাঁটি ছিল বলে অনুমান। ২০২১ এর ২৪ মে শুনানি শুরু হওয়ার পর নেপিইতাও-এর  একটি বিশেষ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি সহ একাধিক অভিযোগ এনেছে। তিনি যে ১১ টি দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন তার প্রতিটির জন্য ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।অবৈধভাবে ওয়াকি-টকি আমদানি ও রাখার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে এবং করোনা মহামারীর সময়ে বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের জন্য ইতিমধ্যেই তাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।চলমান দুর্নীতির মামলা ছাড়াও, তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী জালিয়াতি এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে। সু চির সমর্থকরা বলছেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে রাজনীতিতে ফিরে আসা থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টা মাত্র। সেই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলকে বৈধ করার একটি প্রয়াস। এর আগে সু চি-র সরকার ও দলের অনেক সিনিয়র সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস হলো একটি বেসরকারি সংস্থা যারা সরকারি হত্যাকাণ্ড এবং গ্রেপ্তারের অনুসন্ধান করে। তাদের তথ্য অনুসারে, ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিল বর্তমানে ১১ হাজার ১৭৪ জনকে বন্দি করে রেখেছে। সু চি গত রবিবার ৭৭ বছর পূর্ণ করেছেন। পূর্ববর্তী সামরিক সরকারের অধীনে প্রায় ১৫ বছর দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে তার পারিবারিক বাড়িতে গৃহবন্দী ছিলেন। তিনজন আইনি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সু চির আইনজীবীদের জানানো হয়েছে যে রাজধানীর কারাগারে একটি নতুন ভবনের কাজ শেষ হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে সু চির বাকি সব শুনানি অনুষ্ঠিত হব।সুচির বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য কোনো সরকারি মুখপাত্র পাওয়া যায়নি। গত এক বছর ধরে তাকে যে গোপন স্থানে রাখা হয়েছিল সেটি ছিল একটি বাসভবন যেখানে তাকে সাহায্য করার জন্য নয়জন লোক ছিল, সাথে ছিল একটি কুকুর। অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিবিদ শন টার্নেল, যিনি সু চির উপদেষ্টা ছিলেন, তাকে একই কারাগারে রাখা হয়েছে। টার্নেল এবং সু চি-র অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে একই মামলায় বিচার করা হচ্ছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ ​​বছরের কারাদণ্ড। দুর্নীতির ১১ টি মামলা ছাড়াও, সু চি এবং বেশ কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে, যার শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড।

সূত্র : আরব নিউজ

পাঠকের মতামত

যারা তার বিচারের প্রহসন করছে একদিন তাদের ও বিচার হবে । তবে এই অপমান তার প্রাপ্য । রোহিঙ্গাদের গনহত্যার কথা অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক আদালতে সামরিক বাহিনীর সমর্থন করাই তার পাপ ছিল। সত্য অস্বীকার মহা পাপ।

Kazi
২৩ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com