ঢাকা, ৪ অক্টোবর ২০২২, মঙ্গলবার, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

দেশ বিদেশ

‘মাইনসে খায় গোস্ত, হামরা খাই চামড়ি আর ঠ্যাং’

সিদ্দিক আলম দয়াল, গাইবান্ধা থেকে
১৫ আগস্ট ২০২২, সোমবার

‘হামরা খাই মুরগির ঠ্যাং আর চামড়া। খোস্ত খাওয়ার স্বাদ মেটাই চামড়ি আর ঠ্যাং দিয়া। দেশি ব্রয়লার আর সোনালী মুরগি কিনতে চাউলের দাম ফুড়ি যায়। সেই জন্যে গোস্ত খাওয়ার স্বাদ মেটাই ঠ্যাং আর চামড়ি দিয়া।’  গতকাল গাইবান্ধার মুরগির আড়তে গিয়ে এমন কথা শুনতে হয়েছে। শহরের মুন্সিপাড়ার প্রতিবন্ধী রোকেয়া বেগম। আগে কাজ করতেন বিভিন্ন মেস ও বাসাবাড়িতে। ষ্ট্রোক হওয়ার পর বেকার। নিজের কোনো জায়গা জমিও নেই। যখন হাত নেড়ে কাজ করতে পারতেন তখন অন্যের রান্না করে নিজের ভাগ্যেও দুই এক টুকরা জুটতো।  
রোকেয়া বেগম আফসোস করে বলেন, ‘অনেকদিন ধরে মাছ-গোস্ত জোটে না।

বিজ্ঞাপন
খুব ইচ্ছে করে দেশি মুরগির মাংশ খেতে। কিন্তু যে দাম বাবা। মুরগি আর গরুর গোস্ত বড় লোকের জন্য।  ছোট বোন যা দেয় তাই খাই। না দিলে নাই। তিনি বলেন, গত ঈদের দিন মাইনসের কাছে ভিক্ষা করি কয় টুকরা গোস্ত পাছোম। ওই খাওয়ায় হামার শেষ খাওয়া।’ মুরগি কাটার কারিগর জহুরুল আর জয়নাল বলেন, আগে বাজারে অনেক গরিব মানুষ চামড়া আর ঠ্যাং কেনার জন্য আসতো। দেখেন চাারিদিকে মুরগি আর মাংসহাটির চারদিকে গামলায় থরে থরে সাজানো মুরগির গিলা-কলিজা ,পা,গলা, চামরা, মাথা আর নাড়িভুরি। গরিব কাস্টমারও আসে কিন্তু দাম বৃদ্ধির কারণে কিনতে পারেনা। আফসোস করে ফিরে যায়। সবজির তো কাছেই যাওয়া যায়না। ব্রয়লার মুরগির দাম হাতের নাগালেই আছিল এখন দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় রোকেয়ার ভাত জোটে তো তরকারী জোটেনা। একই অবস্থা ময়না বেগম, ফুলুরানী, রেনুবালাসহ অনেক মানুষের। মুরগির ছেড়াকাটার কারিগর শামীম বলেন, ভাই কী যে হলো। মানুষ মুরগিও আর কিনতে পারছেনা। দিন আনা দিন খাওয়ার সংসারে এখন তারা মাছ-গোস্তের কথা ভাবতেই পারেনা। মুরগির দোকানি সোহেল মিয়া জানান, ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১শ ৪০ টাকা এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২শ’ টাকা। সোনালী মুরগির দাম ছিল ২শ’ ৪০ টাকা সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৮০ টাকা। দেশি মুরগি আর খাসি-গরুর মাংসের কথা বাদ। 
ফুলুরানী নিজের সন্তানদের মুখে একটু ভালো খাবার তুলে দিতে ২শ’ টাকা দেনা করে বাজারে এসেছিলেন। কিন্তু এ দামে কোনো মুরগি নাই। তাই বাধ্য হয়ে সস্তÍায় ১৫০ টাকা কেজিতে মুরগির চামড়া, পা ও গলা,গিলা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সেই গলাগিলা, পা ও চামড়ার দামও কেজিতে বেড়েছে ১শ’ টাকা। বেকায়দায় পড়েছেন চামড়া, ঠ্যাং আর গলা,গিলা  কিনতেও পারছেনা না অনেকেই। তারা এ দোকান সে দোকান ঘুরে ঘুরে দাম করছেন। রোকেয়া বেগমও গিয়েছিলেন মুরগির চামড়া, পা আর গলাগিলা কিনতে। এটাও কেনার সাধ্য তার নাই। তাই খালিহাতেই বাড়ি আসেন তিনি। বলেন, গোস্তাতো দূরের কথা, দেশি আর ব্রয়লার মুরগির মাংসতো দূরের কথা কয়দিন পর ভাতে জুটপে না। চমড়া ও ঠ্যাং বিক্রেতা জয়নাল মিয়া জানান, তারা প্রতিদিন মুরগির কাটাছেড়া করেন। তাতে তাদের ভালোই চলে। অতিরিক্ত লাভের মধ্যে গিলা কলিজা আর চামড়া বিক্রি।  

 

 

পাঠকের মতামত

যদিও এদের জন্য কিছু করতে পারলাম না তবে দুঃখ পাই শুনে যখন কেউ বলে আমরা বেহেশতে আছি ? আগে জানতাম মানুষের মৃত্যুর পর কৃতকর্মের ফলাফল হিসাবে বেহেশতে ও দোজগে স্থান হবে কিন্তু এখন দেখি সরকার মৃত্যুর আগেই আমাদের বাংলাদেশে বেহেশত বানিয়ে ফেলেছেন ? সবাই এখন নাকি বেহেশতে বসবাস করছে ! কিন্তু এরা করা যারা বেহেশতে বসেও মুরগির ঠাং, গিলা, কলিজা পাচ্ছে না ??

khokon
১৫ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ৬:৫১ পূর্বাহ্ন

বাঙালির আবার লজ্জা!!!

sharif
১৪ আগস্ট ২০২২, রবিবার, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

মনে করতে হবে বেহেশতে আছি

Ashraful Alam
১৪ আগস্ট ২০২২, রবিবার, ৭:৪৭ অপরাহ্ন

এটাই হল আধুনিক বেহেস্ত। মন্ত্রী এমপিরা গলাবাজি করতে লজ্জা করে না ?

Kazi
১৪ আগস্ট ২০২২, রবিবার, ৪:৩০ অপরাহ্ন

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status