ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

অনলাইন

গণতন্ত্র মঞ্চের সমাবেশে বক্তারা

বিভাজন নয় ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামুন

স্টাফ রিপোর্টার

(১ মাস আগে) ১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ২:২০ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:০০ পূর্বাহ্ন

বর্তমান সরকার এই দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে, তাই সরকারকে হটাতে হবে উল্লেখ করে দেশের সকল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার আহবান জানিয়েছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এ আহবান জানান। এদিন বেলা পৌনে বারোটায় এ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নবগঠিত এ জোটের নেতারা। মিছিলটি প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, পৃথিবীর কোথাও জ্বালানি তেলের দাম এমন বেড়েছে এমন উদাহরণ নেই। সারাদেশে হাহাকার চলছে। তাই এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে। আমরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই। দেশে সরকার নেই। দেশে আছে সার্কাস।

বিজ্ঞাপন
সরকার সিন্ডিকেটের হাতে বন্দী। সিন্ডিকেট যেদিকে সুইস দেয় সরকার সেভাবেই কাজ করে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চের কোন নেতার অতীতে আপোস করার কোন ইতিহাস নেই। আমাদের লড়াই গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই, আমাদের এই লড়াইয়ে জিততে হবে। এই সরকারকে যেতে হবে। আজকে দেশ শ্রীলঙ্কা হওয়ার পথে। এই সরকারের লোকদের বলবো আপনারা কিভাবে দেশ ছেড়ে পালাবেন সেই চিন্তা করুন।

রব আরও বলেন, আমাদের আজকের এই লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সরকার বলেছে, মরে গেলেও ক্ষমতা ছাড়বে না। আর আমরাও মরে গেলে কোন আপোষ করবো না। আমাদের সাত দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। রাস্তায় গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন নিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এখন যারা ক্ষমতায় আছে তারা চোর, ডাকাত, লুটেরা। আমরা দেশকে, দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য সরকারকে হটাতে চাই। আমরা শুধু সরকারের পদত্যাগই চাই না। আমরা চাই এই দেশের গঠনমূলক পরিবর্তন।

তিনি বলেন, সরকারের যেকোন মন্ত্রী ভোটে দাঁড়াবে আর আমাদের গণতন্ত্র মঞ্চের একজনকে সিলেক্ট করবো। তাহলে দেখা যাবে কি হয়? আওয়ামী লীগ দেশের একটি প্রবীন দল। কিন্তু দেশের জনগণ এখন তাদের ঘৃণা করে। তাই দেশের জনগণ আর তাদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চ নিয়ে সরকারের ভয় শুরু হয়েছে। আমাদের ভয় পাওয়ার কারণ হচ্ছে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলবে। আমরা শুরু থেকেই বলছি, এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। আর না হয় কঠিন থেকে কঠিনতর আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে হটানো হবে।

গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, আজকে একটা জরুরি অবস্থার মধ্যে আমরা বিক্ষোভ করছি। সরকার মধ্য রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এতে করে দেশের সাধারণ মানুষের অবস্থা নাকাল। আজকে আমাদের জোট গঠনের পরই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে হয়েছে। এটা আমাদের প্রথম কর্মসূচি। এই সরকারকে বিদায় করা না পর্যন্ত আমরা মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, আজকে মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সরকার চাপাবাজি করে বলছে, দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। সরকার বুঝতে পারছে, তারা বিদায় নিলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই তারা  মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। এই সরকারকে আর সুযোগ দেয়া যাবে না। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। আমাদের লক্ষ্য এক এই ফ্যাসিবাদ সরকারকে সরিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।

এ সময় ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পাঠকের মতামত

জোনায়েদ সাকি'র হেয়ার ড্রেসার এর নাম কি ?

mohd islam
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

Amra chai notun kono Sorkar asuk

A M
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

এটা পরিস্কার যে, খন্ডিত আন্দোলন করে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। এই সহজ ব্যাপারটা বুঝতে না পারলে, বাংলাদেশে রাজনীতি না করাই ভাল। এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে আওয়ামী লীগ সরকারের এবং প্রশাসনের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। গত দুটি জাতীয় নির্বাচনই তার সন্দেহাতীত প্রমাণ। এখন সকল বিরোধী দল জরুরি আলোচনায় বসে এক দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচী দিলেই শ্রীলঙ্কার মত গনজাগরণ শুরু হয়ে যাবে। আন্দোলন এক দফার। দুই দফা কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য। এক দফা হলো, জনসম্মতিহীন জবরদখলকারী সরকারের অপসারণ। প্রথম কর্মসূচীঃ নিরপেক্ষ নির্বাচন। দ্বিতীয় কর্মসূচীঃ গনতান্ত্রিক সরকার গঠন করে সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মেরামত। স্বৈরাচার পতনের এক দফার আন্দোলন এক মঞ্চে না এসেও যুগপৎ ভাবে নিজ নিজ অবস্থানে থেকেই করা যায়। এই এক দফার আন্দোলনে স্লোগান হতে পারেঃ দলীয় নয়, তত্বাবধায়ক সরকার। ইভিএম নয়, ব্যালট পেপার। তাবেদার নয়, সৎ নির্বাচন কমিশনার।

Mortuza Huq
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:৫২ পূর্বাহ্ন

গনতন্ত্রমঞ্চে যারা আছেন তারা পরিচিত বটে তবে সংখ্যায় সারে তিন জন তাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করলে যারা সংখ্যায় লক্ষ কোটি তাদের সমকক্ষ আন্দোলনকারী তো বলা যাবে।

শাজিদ
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:২০ পূর্বাহ্ন

পলটি মারবেন কখন,পুলিশ আসার আগে না পরে

Md Amlak Ali
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

আমরা চাই আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসুক।

Nobody
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৩:১৮ পূর্বাহ্ন

নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে, সরকারের যে কোন মন্ত্রী, যে কোন স্থান থেকেই ইলেকশন করুক না কেন, হিরো আলমের মত লোকের কাছেও হেরে যাবে।

আজিজ
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১:৫৬ পূর্বাহ্ন

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রায়শই মিলত ধর্ষণের হুমকি/ ‘গেট খুলে দেখি মেয়ে অর্ধ-উলঙ্গ এবং গলা কাটা’

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status