অনলাইন
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বিশ্বব্যাপী শেয়ার বাজারে ধস, কমেছে ডলারের দাম
মানবজমিন ডিজিটাল
(১৮ ঘন্টা আগে) ৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

ডনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়ার পর বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমেছে। ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে পারস্পরিক কর। যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে। মার্কিন ডলার ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ধস নেমেছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব ধরনের বাজারেই প্রভাব পড়েছে। সোনার মূল্য বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রসহ চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশের শেয়ারবাজার বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার আগের দিন চাঙ্গা ছিল এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো। লাভের মুখ দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক সেনসেক্স ও নিফটি। বৃহস্পতিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার সূচক দ্রুত নামতে শুরু করে।
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক নাসডাক ফিউচার্সের পতন হয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। নাইকির শেয়ারের দাম ৭.৩%, এআই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম ৫.৬% এবং টেসলার শেয়ারের দাম ৮% এরও বেশি কমেছে। প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ ৭টি প্রতিষ্ঠানের বাজার মূলধন কমেছে ৭৬০ বিলিয়ন বা ৭৬ হাজার কোটি ডলার। অ্যাপলের আইফোনের সিংহভাগ উৎপাদিত হয় চীনে। ফলে অ্যাপলের শেয়ারের দাম কমেছে সবচেয়ে বেশি বা ৭ শতাংশ।
লন্ডনে এফটিএসএ ১০০- এর পতন হয়েছে ১.৫ %, জার্মানির ডাক্স ২.৩% এবং ফ্রান্সের সিএসি ২.৫% কমেছে। পাউন্ড সহ অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম প্রায় ২% কমেছে । ডয়চে ব্যাংক একটি নোট পাঠিয়ে ক্লায়েন্টদের ‘ডলারের আস্থা সংকট থেকে সাবধান থাকার’ জন্য সতর্ক করেছে। নীতিনির্ধারকরা বিশ্বব্যাপী মন্দা এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর উপর লন্ডন শহরের বিনিয়োগকারীরা বাজি ধরেছেন। মুদ্রা বাজার এখন ৯২% সম্ভাবনার দিকে মূল্য নির্ধারণ করছে যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই মাসের শেষের দিকে তাদের সভায় ইউরোজোনের সুদের হার কমাবে। মে মাসের শুরুতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাও বেড়ে ৭৭% হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার জেরে টোকিওর নিক্কেই (টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের স্টক মার্কেট সূচক) প্রাথমিকভাবে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়, যদিও পরে তা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। পতনের হার শেষমেশ ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়।
জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ এবং আমেরিকার অন্যতম ‘বন্ধু’ দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সে দেশের শেয়ারবাজারেও। হংকং ও সাংহাইয়ে একই প্রভাব পড়েছে। কোথাও পতনের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ, কোথাও আবার ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
জানুস হেন্ডারসন ইনভেস্টরসের পোর্টফোলিও ম্যানেজার অ্যাডাম হেটস বলেন, বাজার খুব শীঘ্রই শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, ‘দেশভেদে এই শুল্ক আরোপ আলোচনার পথ খোলা রাখার একটি কৌশল। সৌভাগ্যবশত এর অর্থ হল এখান থেকে কম শুল্কের জন্য যথেষ্ট সুযোগ আছে, যদিও ১০% বেসলাইন রয়েছে। আমরা দেখেছি যে বাজারের যন্ত্রণার প্রতি প্রশাসনের সহনশীলতা আশ্চর্যজনকভাবে বেশি, এখন বড় প্রশ্ন হল আলোচনা শুরু হওয়ার সাথে সাথে প্রকৃত অর্থনৈতিক যন্ত্রণার প্রতি তাদের কতটা সহনশীলতা রয়েছে।’
তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেল ৫.৮% কমে ৭০.৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, কারণ এই আশঙ্কায় যে অতিরিক্ত শুল্ক বিশ্বব্যাপী মন্দার কারণ হবে, যার ফলে জ্বালানির চাহিদা কমে যাবে। ইতিমধ্যে, বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো "নিরাপদ" সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন , যার দাম রাতারাতি ৩১৬৭.৫০ ডলার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
পাঠকের মতামত
একজন খাটি ব্যবসায়ী রাষ্ট্র নায়ক হলে এর চেয়ে আর কি ভালো হব? ট্রাম্প এর চেয়ে বড় উদাহরণ এ বিশ্বে নেই।
গরম আগুনের প্রথম অবস্থায় একটি প্রতিক্রিয়া আছে যে, প্রথম হিট খুব তাৎপর্যপূর্ণই হয় অর্থাৎ তিখর হয় পরে আস্তে আস্তে তাপমাত্রা সহ্য হয়ে যায় বা তাপমাত্রা নিম্নমুখী হয়। হয়তো ট্রাউম্পের আগুনের তাপমাত্রার পরিণতি ও সেই রকমই হবে।
পৃথিবীতে কেউ জন্মায় ধ্বংস করার জন্য। ট্রাম্প সেই ব্যক্তিদের একজন।