অনলাইন
মালয়েশিয়ার স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন-এর মার্কিন শুল্ক মোকাবেলায় আসিয়ান কাস্টমস ব্লক গঠনের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিনিধি , মালয়েশিয়া
(১৮ ঘন্টা আগে) ৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ঘোষিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক এশিয়ার বাণিজ্যে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রতি অবিলম্বে একটি কাস্টমস ব্লক বা শুল্ক ইউনিয়ন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়ার একটি ব্যবসায়িক সংগঠন।
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন (সামেনতা)-এর সভাপতি উইলিয়াম এনজি বলেন, ‘নতুন এই শুল্ক ব্যবস্থার কারণে আঞ্চলিক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাবে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ। আমরা এখন এক অনিশ্চিত সময়ের মুখোমুখি, যেখানে আসিয়ানসহ অন্যান্য প্রভাবিত অর্থনীতি তাদের কৌশল পুনর্বিন্যাসে ব্যস্ত থাকবে এই নতুন শুল্ক মোকাবেলায়।’
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডেকে উইলিয়াম আরও বলেন, ‘আগে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপের মতো বড় অর্থনীতিগুলোর উপর নির্ভর করতে পারতাম আমাদের রপ্তানির জন্য। কিন্তু এখন সময় এসেছে ‘প্রতিবেশীকে সমৃদ্ধ করো’ নীতিতে এগিয়ে যাওয়ার। আসিয়ানভুক্ত একটি একক বাজার গঠনের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে হবে। এর মাধ্যমে আমরা একটি শুল্ক ইউনিয়নের কাছাকাছি কিছু গঠন করতে পারি, যা আমাদেরকে একটি রপ্তানি ব্লক এবং বৃহৎ আঞ্চলিক বাজার—দুই দিক থেকেই উপকারে আনবে।’
উল্লেখযোগ্য শিল্পখাত যেমন ইলেকট্রনিক্স, পাম অয়েল ডেরিভেটিভস, রাবার পণ্য এবং গার্মেন্টস সেক্টর নতুন এই শুল্কের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেনও তিনি। তিনি বলেন, ‘শুধু রপ্তানি খাতই নয়, আমদানির খরচ বাড়ার ফলে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। সেইসাথে বৃহৎ উৎপাদক দেশগুলো অতিরিক্ত পণ্য স্টক নামাতে এই অঞ্চলে ‘ডাম্পিং’-এর আশ্রয় নিতে পারে। বিশেষ করে বড় উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে আসা ডাম্পিং আমাদের এসএমই খাতের জন্য সরাসরি শুল্কের চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে’ বলেন এনজি।।
এই সংকট মোকাবেলায় এসএমইগুলোকে তাদের সরবরাহকারী ও গ্রাহক নেটওয়ার্ক বৈচিত্র্যময় করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের ‘মেইড ইন মালয়েশিয়া’ ধারণা থেকে বের হয়ে ‘মেইড বাই মালয়েশিয়া’—এই ধারণায় যেতে হবে। অর্থাৎ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে কম খরচে উৎপাদন এবং দেশে গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “সঠিক কৌশলে স্থানীয় এসএমইরা এই পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি থেকে দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হতে পারে। আমরা সব এসএমই উদ্যোক্তাদের অনুরোধ করছি—এই পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন হোন, অভিযোজিত হোন এবং নতুন সুযোগ খুঁজে বের করুন।"