ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৫ শাওয়াল ১৪৪৬ হিঃ

অনলাইন

সহযোগীদের খবর

দিল্লির উদ্বেগের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি ঢাকার

অনলাইন ডেস্ক

(১৭ ঘন্টা আগে) ৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৪ পূর্বাহ্ন

mzamin

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘দিল্লির উদ্বেগের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি ঢাকার’। খবরে বলা হয়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক নেই দিল্লির। যদিও ঢাকা একাধিকবার বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা দিয়ে এসেছে। তবু অস্বস্তি কাটেনি। এমন পটভূমিতে আজ শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে সহাবস্থান ও বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে গেছে ঢাকা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ নিয়ে দিল্লির প্রশ্নের যৌক্তিক জবাবের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। আজ বিমসটেক সম্মেলনের পরে সাইডলাইনে বৈঠক করবেন বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারপ্রধান। যদিও ভারতের তরফ থেকে এ বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। আজই প্রধান উপদেষ্টার ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।

গত বুধবার ব্যাংককে পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকের জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। আশা করছি, বৈঠকটি হবে। এদিকে বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমানও বলেছেন, আমরা এই বৈঠকের জন্য সরকারিভাবে অনুরোধ করেছি। বৈঠকটি হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।

গত ২৮ মার্চ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩ থেকে ৬ এপ্রিল থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা সফর করবেন নরেন্দ্র মোদি। এ সময় ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মোদি থাই প্রধানমন্ত্রী এবং কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ৫ আগস্ট পরবর্তী ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লিকে একাধিকবার বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়া হয়। তার পরও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নালিশ, আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলা, সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, দেশটির গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে দিল্লি। এ ছাড়া দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বাংলাদেশকে খাটো করতে সরব। এমনকি গতকাল বিমসটেকের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর প্রধান উপদেষ্টার 'সাত অঙ্গরাজ্য' নিয়ে চীনে করা মন্তব্যের পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন।

সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলেন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য এখনও স্থলবেষ্টিত, সমুদ্রের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। ফলে এদিকে বাংলাদেশ এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক বলে মন্তব্য করেন ড. ইউনূস।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ৫ আগস্টের পর ঢাকা-দিল্লির যে সম্পর্ক, তাতে বৈঠকে যে কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বৈঠকটি যে আন্তরিক হবে, এর সুস্পষ্ট বার্তা এই মুহূর্তে নেই। ফলে ভারত তাদের নেরেটিভঅনুযায়ী প্রশ্ন করবে, উস্কানি দেবে, উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। ফলে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি রাখছে ঢাকা। যেমন তারা যদি 'সাত অঙ্গরাজ্য' নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাহলে বাংলাদেশ জবাব দেবে-এ কথা ভারতে দাঁড়িয়ে ২০২৩ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলে গেছেন। যদি সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বলে, তাহলে প্রতিটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা তুলে ধরা হবে।

তবে ভিন্ন প্রস্তুতি ও মনোভাব নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ঢাকা ছেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিস্কার বন্ধুত্বের বার্তা দিতে চায়। সেটি হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন মেনে সুপ্রতিবেশী হিসেবে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও মর্যাদা বজায় রেখে বন্ধুত্বের বার্তা দিতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এখন পরিস্থিতি নির্ভর করছে দিল্লির ওপর, তারা বৈঠকটি কোন দিকে নিয়ে যায়।

প্রথম আলো

দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে পণ্য রপ্তানিতে বড় ধাক্কার শঙ্কা’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন করে ৩৭ শতাংশ রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এত দিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। নতুন শুল্কের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বড় বাজারটিতে পণ্য রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকেরা। বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির ১৮ শতাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক বসিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সূচকের পতন ঘটেছে বিশ্বের প্রায় সব শেয়ারবাজারে। সোনার দামেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। মোদ্দাকথা, ট্রাম্পের এই পাল্টা শুল্ক বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের গতি–প্রকৃতি অনেকটাই বদলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা নিয়ে বিবিসি, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমসসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশ্বনেতাদের ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা। অস্ট্রেলিয়া বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বন্ধুসুলভ নয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নিঃসন্দেহে এই ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভূত হবে। চীন বলেছে, তারা এই ঘটনার প্রতিশোধ নেবে। অর্থাৎ ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের জবাবে তারাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করে দিলেন।

যুগান্তর

‘রপ্তানি খাতের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি’-এটি দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে আমাদানিকৃত পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার মধ্যরাতে নতুন রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ নীতির অংশ হিসাবে শুল্ক বৃদ্ধির এ ঘোষণা দেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০ ডলার মূল্যের একটি টি-শার্ট রপ্তানিতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের শুল্ক (১৫ শতাংশ হারে) গুনতে হতো দেড় ডলার। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে একই টি-শার্টে ৩ দশমিক ৭ ডলার শুল্ক গুনতে হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সেই টি-শার্টের দাম পড়বে ১৩ দশমিক ৭ ডলার। মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্রেতার চাহিদা কমে বাজার সংকুচিত হতে পারে। যার প্রভাবে দেশের রপ্তানি খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

নতুন শুল্ক আরোপের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার। রোববার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে এ বৈঠক হওয়ার কথা। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। যেহেতু এটি আলোচনাযোগ্য, তাই আমরা আলোচনা করব এবং আমি নিশ্চিত যে আমরা সর্বোত্তম সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

বৃহস্পতিবার ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অধ্যাপক ড. ইউনূসের বরাত দিয়ে এ কথা জানান। প্রেস সচিব বলেন, আমরা এমন কিছু করব যেন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে। এদিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, নতুন শুল্ক আরোপের প্রভাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

কালের কণ্ঠ

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘শুল্কের অস্ত্রে রপ্তানি বিপদে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এত দিন গড়ে এই হার ছিল ১৫ শতাংশ। নতুন করে এই শুল্ক আরোপের ফলে দেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত বুধবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং মার্কিন শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শুল্কহার বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের। তাই দেশটির ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ কমিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকদের।

তাঁরা বলছেন, বাংলাদেশের উচিত, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া বা শুল্ক কমিয়ে দেওয়া। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ এবং অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পরিবর্তন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এমন একটি অনিশ্চিত ব্যবস্থায় কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’

ইত্তেফাক

‘যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শঙ্কা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পালটা শুল্কের যে ঘোষণা দিলেন, তাতে রীতিমতো ঝড় বয়ে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এর প্রভাব শুধু বড় অর্থনীতির দেশগুলোতেই নয়, উন্নয়নশীল এমনকি ছোট অর্থনীতির দেশগুলোও পড়েছে। সবাই এখন হিসাব কষছে, এর প্রভাব কতটা পড়বে দেশগুলোতে। বিশ্বের শতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা এসেছে, তাতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ৩৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের মুখোমুখি হবে। এতদিন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ছিল গড়ে সাড়ে ১৫ শতাংশ, যা এখন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেল।

যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে, তার মধ্যে রয়েছে—স্ক্র্যাপ আয়রন, পেট্রোলিয়াম ও কটন বা তুলা। এছাড়া কৃষিপণ্য, যেমন—খাদ্যশস্য, বীজ, সয়াবিন, তুলা, গম এবং ভুট্টা আমদানি করে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে বছরে আড়াই বিলিয়ন ডলারের কম পণ্য বাংলাদেশে আমদানি হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে। অন্যদিকে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের (৮.৪ বিলিয়ন) পণ্য রপ্তানি করে, যার মধ্যে তৈরি পোশাকের পারিমাণ ৭৩৪ কোটি ডলার। নতুন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউজের প্রকাশিত তালিকায় বলা হচ্ছে—বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যের ওপর ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে। তবে এর মধ্যে শুল্ক ছাড়াও আরো কিছু বিষয়ে আমলে নেওয়া হয়েছে। যেমন মুদ্রার বিনিময় হার, অশুল্ক বাধা, সংশ্লিষ্ট দেশের বাণিজ্যনীতি ইত্যাদি। এর প্রতিক্রিয়ায় এখন থেকে বাংলাদেশি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৩৭ শতাংশ ‘হ্রাসকৃত সম্পূরক শুল্ক’ আরোপ করা হবে, যা ভারতের চেয়ে ১১ ও পাকিস্তানের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগীদের মধ্যে তুরস্কের ওপর ১০ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ৩০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ৪৪ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ ও কম্বোডিয়ার ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘হাসিনার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পেয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘পর্যাপ্ত’ সাক্ষ্যপ্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এ মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে।

যে কোনো সময় ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ তার (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে। এটা আদালতে আমরা প্রমাণ করব ইনশাআল্লাহ। সেটার ওপর বাকি তৎপরতা অব্যাহত আছে। আমরা অকাট্যভাবে প্রমাণ করব তার অপরাধ। তিনি বলেন, চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এখনো হাতে আসে নাই। চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে তাজুল ইসলাম জানান, তাদের বিরুদ্ধে যে ধরনের অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ যা কিছু আছে সেটা দিয়ে বহুবার তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব এবং এটা কোর্ট রুমে করে দেখাবো, ইনশাআল্লাহ। আমাদের সাক্ষ্যপ্রমাণগুলো অকাট্য। প্রত্যক্ষদর্শী, ভিকটিম, যারা একদম ময়দানে থেকে সম্মুখ সারিতে লড়াই করেছেন তারা এসে সাক্ষ্য দেবেন। এই সাক্ষ্য হবে এতটাই অকাট্য যে, এখান থেকে কাউকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ আইনের মধ্যে আর থাকবে না। সুতরাং আমরা সাকসেসফুলি তাদের বিরুদ্ধে অপরাধগুলো প্রমাণ করতে পারবো।

বণিক বার্তা

‘রফতানিতে উচ্চশুল্কের মুখোমুখি হতে হবে পোশাক জুতাসহ অনেক পণ্যকে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর শুল্ক আরোপের হার ৩৭ শতাংশ, যার আওতায় রয়েছে তৈরি পোশাক, জুতাসহ আরো অনেক পণ্য। দেশটিতে বাংলাদেশের মোট রফতানি অর্থমূল্যের ৮৭ শতাংশই তৈরি পোশাক। ফলে এ পণ্যটির ওপরই নতুন শুল্কের বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা। এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শুরু করে একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

আমেরিকা থেকে পণ্য আমদানিতে যে দেশ যতটা শুল্ক আরোপ করে থাকে, সেই দেশের পণ্যে উপযুক্ত হারে রেসিপ্রোকাল বা পাল্টা শুল্ক আরোপের কথা বলে আসছিলেন ট্রাম্প। ২ এপ্রিল ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকাল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সমবেতদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প। দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, ‘চীন মুদ্রা কারসাজিসহ বাণিজ্যবাধা—সব মিলিয়ে মার্কিন পণ্যে ৬৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে; যুক্তরাষ্ট্র করবে তার প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ। সব দেশের বেলায় কম-বেশি এ নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় বিপর্যস্ত হওয়ার কিছু নেই। সব দেশের পণ্যে গড়ে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘নাগরিকত্ব ছাড়লে এনআইডি বাতিল, ভোটও থাকবে না’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তাৎক্ষণিক বাতিল করা হবে। ভোটার তালিকা থেকেও তাঁদের নাম তাৎক্ষণিক বাদ দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে ১৮ মার্চের সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে তথ্যের কোনো ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। ১৯ মার্চ করা সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে এ সিদ্ধান্ত কবে থেকে কার্যকর, হবে তা বলা হয়নি।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (পরিচালনা) ও ইসির উপসচিব (নির্বাচন সহায়তা ও সমন্বয়) এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন।

এ পর্যন্ত কতজন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন বা ইতিমধ্যে কতজনের এনআইডি বাতিল করা হয়েছে—এ প্রশ্নে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর আজকের পত্রিকাকে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

দেশ রূপান্তর

‘নির্বাচনী রোডম্যাপের দাবি জোরালো করবে দলগুলো’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ধোঁয়াশা রয়েছে। বিভিন্ন দলের মধ্যে নির্বাচনের ইস্যুতে ঐকমত্যের অভাবও দেখা গেছে। মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘এ বছর (২০২৫) ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।’

এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অস্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাস, কিন্তু এখনো কোনো রোডম্যাপ প্রকাশিত হয়নি। আমরা স্পষ্ট রোডম্যাপ এবং দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি।’ অন্যদিকে, নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘সংস্কার ও বিচার ছাড়া নির্বাচন হলে সেটি মেনে নেওয়া হবে না।’

এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে নতুন একটি দাবির কথা উঠে এসেছে, যেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুকে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চল) এই দাবি করেন। তার মতে, ‘ড. ইউনূসকে পাঁচ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাক্সক্ষা আজীবন থাকবে।’ সর্বশেষ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ শেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন মুসল্লিদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলেন তখনো এই দাবির পুনরাবৃত্তি ঘটে অনেক উপস্থিতজনের মুখে।

ডেইলি স্টার

দ্য ডেইলি স্টারের প্রথম পাতার খবর ‘Yunus-Modi meet: Restoring mutual trust key objective’ অর্থাৎ ‘ইউনূস-মোদী বৈঠকে পারস্পরিক আস্থা পুনরুদ্ধারই মূল লক্ষ্য’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের মূল লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের উদ্দেশ্য।

এই বৈঠকটি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হবে। দেশটির স্থানীয় সময় ১২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে এবং প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট চলবে। বৈঠকে দুদেশের সম্পর্কের সব দিক আলোচনা হবে, তবে প্রধানত পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং আস্থা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন সর্বাধিক পঠিত

   
Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status