শেষের পাতা
ঈ দ যা ত্রা
যাত্রীর চাপ কম
মোহাম্মদ রায়হান
২৮ মার্চ ২০২৫, শুক্রবার
ঈদযাত্রায় নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। সড়ক, রেল, নদী পথে যার যার মতো করে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি থাকায় এবার বরাবরের মতো চাপ দেখা যাচ্ছে না। গতকাল শেষ কর্মদিবসে অনেকে অফিস করে বাড়ির পথ ধরেছেন। এতে বিকালে রাজধানীতে ছিল যানজট। এছাড়া কিছু মহাসড়কেও যানজট দেখা গেছে।
সায়েদাবাদ বাস কাউন্টারে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাসমুহের বাসের টিকেট বিক্রি হয়ে থাকে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট বিভাগের জেলা সমূহের। গাবতলী থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা সমূহের বাসের টিকেট বিক্রি হয়। বৃহস্পতিবার সরজমিন সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, স্ট্যান্ডে যাত্রীদের ভিড় খুব একটা নেই। গাবতলী বাস টার্মিনালে বৃহপতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত যাত্রীদের তেমন চাপ পড়েনি। প্রতিটি কাউন্টার থেকে যাত্রীদের ডাকা হচ্ছে। যেসব যাত্রীরা আসছেন, তারাও বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে দেখেশুনে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। বাস টার্মিনালেও নেই সেই ভিড়।
বাস কাউন্টারের টিকেট বিক্রেতারা বলছে, প্রতি বছর ঈদের মৌসুমে ঠিক এ সময়ে যাত্রীতে ভরপুর থাকতো বাস কাউন্টার। যাত্রীদের ভিড়ে পা রাখার জায়গা হতো না কাউন্টারে। কিন্তু এবার ঈদ একদম ঘনিয়ে এলেও মিলছে না আশানুরূপ যাত্রী। অনেক বাসেই খালি সিট নিয়ে রাজধানী থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো পরিবহনে যাত্রী না থাকায় বাতিল করে দিচ্ছেন যাত্রা। টিকেট বিক্রেতাদের ভাষ্যমতে, যাত্রী কম থাকার উল্লেখযোগ্য কারণ এইবছর ঈদে লম্বা ছুটি। লম্বা ছুটি পাওয়ায় যাত্রীরা সুবিধাজনক পরিবহনে সময় ভাগ করে ঢাকা ত্যাগ করছেন। ফলে একসাথে ভিড় লাগছে না কাউন্টারগুলোতে। এদিকে, ঈদুল ফিতরের আগে বৃহস্পতিবার শেষ অফিস করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ থেকে শুরু হচ্ছে টানা নয়দিনের সরকারি ছুটি। ৫ই এপ্রিল পর্যন্ত টানা ছুটি কাটাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি ছুটি শুরু হলে হয়তো বাড়বে যাত্রী, এতে চাপ বাড়তে পারে কাউন্টারগুলোতে।
সায়েদাবাদ সৌদিয়া বাস কাউন্টারের মো. ইবরাহিম বলেন, এ বছর এমন কেন হচ্ছে বলতে পারছিন না। একদমই যাত্রী নেই। আমরা বাস নামিয়ে রাখছি। আজকেও ভিড় হওয়ার কথা, তাই গাড়ি প্রস্তুত রাখছি। কিন্তু আমাদের বাসের সিট এখনো খালি। এখন থেকে যে বাস ছাড়ছে (চট্টগ্রাম) বাসগুলোতে সিট খালি রয়ে যাচ্ছে। অন্য বছর এমন হয় না। হানিফ এন্টারপাইজের মো. আরিফ বলেন, এবার লং টাইম ছুটি, তাই যাত্রীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে। আগে যাত্রীরা একটা নির্দিষ্ট দিনে একসঙ্গে চলে আসতো সবাই। কিন্তু এবার আগে-পরে করে যাচ্ছেন। আমাদের কাউন্টার থেকে যে বাসগুলো ছাড়ছে, মোটামুটি সিট ফিলআপ হয়ে যাচ্ছে। মাঝে-মধ্যে দু’-একটা খালি থাকছে। কিন্তু যাত্রীর চাপটা পড়ছে না।
শ্যামলী পরিবহনের জাহিদ বলেন, আমরা ভেবেছিলাম আজকে দুপুর থেকে কাউন্টারগুলোতে পা ফেলার জায়গাও থাকবে না। কিন্তু কাউন্টার একদম ফাঁকা। আমাদের কিছু বাসের যাত্রা বাতিলই করে দিয়েছি। যাত্রী ২/৪ জন দিয়ে কি বাস চালানো যায়? কাপ্তাই বাস গেছে মাত্র ৮ জন যাত্রী নিয়ে। ট্রেনেও ভালো সার্ভিস দিচ্ছে, তাই মানুষ ট্রেনে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। ঈদকে ঘিরে বাস কাউন্টারগুলোতে যে ভিড়-ভাট্টা থাকার কথা তা বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দেখা যায়নি। লাল- সবুজ’র কর্মচারী ইবরাহিম বলেন, এবার এখনো চাপ পড়েনি। কিছু কিছু বাস ৫/৬ দিন বসে আছে, যাত্রী হবে সে আশায়। কিন্তু এখনও ওইরকম হচ্ছে না। হবে হয়তো শুক্রবার থেকে। ইকোনো বাস কাউন্টারের টিকেট বিক্রেতা বলেন, আমার ধারণা আজ-কাল থেকে ভিড় বাড়বে। যেহেতু বৃহস্পতিবার অফিস-আদালতের শেষদিন। আমাদের এখানকার যাত্রী সারা বছর অন্যান্য সময়ে যেরকম থাকে তেমনই। বরং আমাদের গাড়িতে ৫-১০ সিট খালি রেখেই বাস চলে যাচ্ছে।
গাবতলী ঈগল পরিবহনের শরীফ আহমেদ বলেন, খুলনার জন্য বিকালে একটি গাড়ি রেডি করেছিলাম। মাত্র ১০ জন যাত্রী পেয়েছি। এখনো ঈদের যাত্রীর চাপ পড়েনি। যাত্রীর অভাবে পরে গাড়ির যাত্রা বন্ধ করা হয়। যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে । রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি এবং রাত ১২টার দিকে আরেকটি বাস খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। ২৮ তারিখ থেকে ঈদের যাত্রীর চাপ পড়বে হয়তো।
পাঠকের মতামত
ঈদের ছুটি : ৯ দিন। সুতরাং বাস ট্রেন লঞ্চ টার্মিনালের অবস্থা ভালো হবে কি করে। যমুনা রেলসেতু পদ্মা ব্রিজ তো রয়েছেই। পকেট হাতড়ে টাকা নিবে। বুঝতে পারবেন। সময় হলেই।
যাএী না হওয়ার একটি কারণ হচ্ছে, এলাকায় আমিলিগ পরিচিতি, কিন্তু ঢাকায় থাকে, তারা গ্রামের বাড়িতে যাবে না, এদের সংখ্যা কিন্তু কম নয়, হাসিনা পালানোর ১/২ বছর আগে দেশের জনগণের বিশাল একটা অংশ আমিলিগার হয়ে গিয়েছিল। কারণ আমিলিগ হলেই ৭ খুন মাফ, যা খুশি তা করা যেত। এলাকার গুলোও দেশের বিভিন্ন জায়গায় গা ঢাকা দিয়ে আছে, বহু আমিলিগার ইনডিয়ায় চলে গেছে।