ঢাকা, ১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৩ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

অর্থ-বাণিজ্য

বড় প্রকল্পের ঋণ পরিশোধে ২০২৪ সালেই বড় ধাক্কা আসছে: দেবপ্রিয়

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

(৩ সপ্তাহ আগে) ২১ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৪:৪৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৮ অপরাহ্ন

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, দেশের ২০টি মেগাপ্রকল্পের ঋণ পরিশোধে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসছে। আর ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ যাবে রাশিয়া, জাপান ও চীনের কাছে। সেই চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে এখনই আন্তজার্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি পরিকল্পনা প্রয়োজন। আর এখন থেকে প্রস্তুতি না নিলে অর্থনৈতিক বিপর্যয় আসার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশের ২০টি বড় প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনলাইনে অনুষ্ঠিত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বিদেশি দায়দেনা পরিশোধ করা হয় ১.১ শতাংশের মতো। ২০২৬ সাল নাগাদ তা দ্বিগুণ হতে পারে। এই হার ২ শতাংশের পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। তখন বাংলাদেশ সমস্যায় পড়বে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আসলে নির্ভর করবে ওই সময়ে দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতি কেমন থাকে, অর্থনীতি কতটা সুসংহত থাকে, তার ওপর।

দেবপ্রিয় বলেন, বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে রাশিয়া, চীন ও জাপানকেই বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তার মধ্যে চীনের ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বেশ কম।

দেশের ২০টি বড় প্রকল্প বিশ্লেষণ করেন দেবপ্রিয ভট্টাচার্য। এসব প্রকল্পের তালিকার অন্যতম হলো- পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ ইত্যাদি।

বিজ্ঞাপন
এসব প্রকল্পে প্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ বিদেশি ঋণ।

এসব বিষয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বড় প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে একধরনের জাতীয় ঐকমত্য আছে। বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যায় বলে রাজনীতিবিদেরা এতে আগ্রহ দেখান।

ওই ২০টি প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চলতি দশকে সব কটি শেষ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। প্রকল্প বাস্তবায়নে একধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা শুরুকে ভালো দিক হিসেবে অভিহিত করেছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার হোক আর সাড়ে চার বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি ডলার হোক-আইএমএফের কাছে অর্থ নেয়ার প্রয়োজন আছে। এর ফলে মধ্য মেয়াদে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। বিদেশি বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীরা এক ধরনের আস্থা পাবেন। তারা মনে করেন, বাংলাদেশকে এক ধরনের পরিবীক্ষণ ও নজরদারিতে রাখছে আইএমএফ। তিনি এই প্রসঙ্গে সংকটে পড়া শ্রীলঙ্কার আইএমএফের অর্থ না নেয়ার সিদ্ধান্তের উদাহরণটি তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, প্রয়োজন থাকলে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেয়া হবে। এ মুহূর্তে বিদেশি ঋণের প্রয়োজন নেই।

পাঠকের মতামত

"এর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ বিদেশি ঋণ।" নিজের টাকায় পদ্মা সেতু!!!

sattar
২২ জুলাই ২০২২, শুক্রবার, ১০:০৩ অপরাহ্ন

ব্রিজ পাতাল রেল পাতাল সেতু মেট্রো রেল তৈরি করা কোন উন্নয়ন প্রকল্প হতে পারে না । প্রকৃতপক্ষে একটি দেশের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প হল বড় ছোট বড় শিল্প কারখানা তৈরি করা ও কৃষি উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা ও কর্মসংস্থান তৈরীর প্রকল্প নেয়া দীর্ঘমেয়াদি ভাবে। আসলে বড় বড় দেশগুলো আমাদেরকে এই সমস্ত মেগা প্রকল্পের নামে তাদের দেশের গাড়ি গুলো চালানোর ও বিক্রি করার জন্য এই রাস্তাগুলো ও ব্রিজগুলো তৈরি করাচ্ছে । এগুলো সবই রাজনীতিবিদদের ধোঁকাবাজি, জনগণের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয় ।আমাদের দেশে কি গাড়ি তৈরি করার বড় বড় ফেক্টরি আছে ?যে আমরা গাড়ি চালানোর জন্যএত বড় বড় ব্রিজ ও রাস্তা তৈরি করছি । এতে করে আমাদের নদীপথ নষ্ট হচ্ছে ও আমাদের নিজস্ব কারখানা শিপ ইয়ার্ড যেখানে ছোট বড় লঞ্চ, স্টিমার ,পানি জাহাজ তৈরি হচ্ছে । আমাদের গ্রামে গঞ্জে নৌকা তৈরীর যে শিল্প ছিল তাও ধ্বংস হয়ে মানুষ বেকার হয়ে যাবে। মোটের উপর দেশের শুধু ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে হয় ।

Adv.N.I.Bhuiyan
২২ জুলাই ২০২২, শুক্রবার, ১:০৪ অপরাহ্ন

আইএমএফ এর কাছে ঋন নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ারও আগো সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন দরকার। মানুষকে সেতু, টানেল দেখিয়ে পাগল করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে। লোকদেখানো পাতাল রেল করতে গিয়ে দেশটাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার কোন কারন নেই। উন্নয়ন স্লোগান দিতে দিতে ভোটচুরি করলে মানুষ উন্নয়ন মনে রাখবে চোরই বলবে।

MS
২১ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

ড. দেবপ্রিয় ভারত বা ক্যানাডায় অবসরে গেলে ভাল হয়।

shiblik
২১ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৭:৩৭ অপরাহ্ন

বেশি করে ঋণ নিয়ে ঘী খা

বাহাউদ্দীন বাবলু
২১ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৭:০৯ অপরাহ্ন

পাতাল রেল আর দরকার নাই।

Bablu
২১ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৬:১৯ পূর্বাহ্ন

অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অর্থ-বাণিজ্য থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status