ঢাকা, ১৯ জুন ২০২৪, বুধবার, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১২ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

রাজনীতি

উৎসবের ভোট ফিকে হলো যেভাবে

আবু হানিফ

(১ মাস আগে) ১৬ মে ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ৪:৫৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৬ অপরাহ্ন

mzamin

সর্বপ্রথম উপজেলা নির্বাচন হয়েছিল ১৯৮৫ সালে, দ্বিতীয় ধাপে হয়েছিল ১৯৯০ সালে, তবে ওই দু’ ধাপে কত শতাংশ ভোট পড়েছিলো তার সঠিক তথ্য জানা যায়নি। সংবাদ মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য হতে দেখা যায়, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এ নিয়ে চতুর্থবার উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে। ২০০৯ সালে তৃতীয় উপজেলা নির্বাচনে ভোট পড়েছিলো ৬৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এরপর ২০১৪ সালে চতুর্থ উপজেলা ভোটে ৬১ শতাংশ, সেখানে দলীয় প্রতীক ছিলো না এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালের পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনে গড়ে ৪১ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল, আর সেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক ছিলো।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না, এই অভিযোগে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। ২০১৮ সালেও দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়, ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন বিএনপির ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো এমন কথা নানান জায়গায় শোনা যায়, কিন্তু ২০১৮ সালে এই সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি আবারও প্রমাণ করলো যে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় এবং ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচন বর্জন সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো। 

২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ  সরকারের অধীনে করার দাবিতে গেল বছর বিএনপিসহ অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক দল মাঠে আন্দোলন করেছে। নির্বাচনের আগে হরতাল, অবরোধের মত কঠোর কর্মসূচি দিলেও সরকার কর্ণপাত করেনি। সেই আন্দোলন সরকার রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে দমন করেছে, এতে অনেকেই নিহত হয়, অসংখ্য মানুষ আহত হয়। এমনকি সেই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে করতে বিরোধী দলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে কারাগারে আটক করে, সেখানে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দও ছিলো।
২০২৪ সালে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সে নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল না এবং এই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক দেখাতে তারা ডামি প্রার্থী নামক এক ধরনের খেলার আয়োজন করে। জাতীয় নির্বাচন যখন জনগণ বর্জন করেছে তখন স্থানীয় নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে আওয়ামী লীগ তাদের পুরোনো সিদ্ধান্ত দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন সমালোচনা ছিল।

বিজ্ঞাপন
ধারণা ছিলো, এই দলীয় প্রতীক ব্যবহার স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় মেরুকরণ স্পষ্ট হলে এতে সংঘাত সহিংসতা বাড়তে পারে, এমনকি সামাজিক সম্পর্কে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ তখনও দলীয় প্রতীকের পক্ষে সাফায় গেয়েছে। এখন ২০২৪ সালে স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাদের পুরনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রমাণ করলো যে তাদের আগের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।

ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনকে অংশগ্রহণ দেখাতে তারা তাদের দলীয় প্রতীক তুলে দিয়েছে। ফলে নিজেদের মধ্যেই দামি প্রার্থীর আদলে নতুন একটি মডেলে নির্বাচন করছে। সেখানে যারা প্রার্থী হয়েছে তাদের সবাই আওয়ামী লীগ কিংবা তার অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের কোনো না কোনো পদধারী। তবে দুয়েক জায়গায় ব্যতিক্রম আছে।
ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয় ৮ই মে। সেখানে প্রথম ধাপে ইসির ভাষ্য অনুযায়ী ভোট পড়েছে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে ভোটের দিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করলে ইসির দেয়া তথ্য মিলাতে রীতিমতো ঘাম ঝড়াতে হবে।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০০৯  ও ২০১৪ সালে নির্বাচন দু’টিতে বিএনপি অংশ নিয়েছিল আর ওই দু’টি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক ছিলো না।  ২০১৯ ও ২০২৪ সালে বিএনপি দলীয়ভাবে এই নির্বাচন বর্জন করছে। ২০১৯ সালে প্রথমবার উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হয়।
যেই দু’টি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছিলো সেই দুটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছিলো না। সেখানে ২০০৯ ও ২০১৪ সালে ভোটের হার ছিলো ৬৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ ও ৬১ শতাংশ । ২০০৯ ও ২০১৪ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণে যে উৎসব ছিল, তার অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে ২০১৯ ও ২০২৪ সালে। 

বিএনপি যে দু’টি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল সেখানে ভোটের হার ছিল বেশি। পরের দু’টি নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্ররা অংশ নেয়নির বিধায় ভোটের হার কমে গেছে। 
স্বাভাবিকভাবে এখন প্রশ্ন উঠছে উৎসবমুখর নির্বাচন ফিকে হল কিভাবে, তার কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা গেছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপি ও তার মিত্ররা এই নির্বাচন বর্জন করেছে। এই নির্বাচন ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা নেই। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ অনুপস্থিত থাকায় জাতীয় নির্বাচন থেকে স্থানীয় নির্বাচন সব ধরনের ভোটেই মানুষ আগ্রহ হারিয়েছে। এছাড়া এখন নির্বাচনের মূল লড়াইটা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে, ফলে মানুষ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের বিকল্প কাউকে নির্বাচন করবে সেই সুযোগ নেই। এই নির্বাচনে দলীয় পেশীশক্তি ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ফল পরিবর্তন করা হয়। এখানে নিরপেক্ষ কেউ নির্বাচন করলে তাকে ভোট দিলে সেই ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে ভোটারদের মাঝে। এমনকি ফল পরিবর্তনেরও আশঙ্কা রয়েছে।

আবু হানিফ
উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক
গণঅধিকার পরিষদ
 

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

রাজনীতি সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status