ঢাকা, ২২ মে ২০২৪, বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিঃ

দেশ বিদেশ

মধুখালীতে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
২৫ এপ্রিল ২০২৪, বৃহস্পতিবার

দুই শ্রমিক নিহতের ঘটনায় ফরিদপুরের মধুখালীতে পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় কতো জনকে আসামি করা হয়েছে তা পুলিশ বলেনি। তবে এ মামলায় অনেককেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে যাদেরকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাবে তাদের আসামি করে আদালতে পাঠানো হবে। এদিকে তদন্ত শেষে মামলায় কতোজনকে আসামি করা হবে তা সকলকে জানানো হবে বলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমদাদ হোসেন জানান। 
গতরাতে ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলম জানান, ঐ দিন পঞ্চপল্লী বারোয়ারি মন্দিরে নির্মাণ শ্রমিক আগুন দিয়েছে- এমন কোনো তথ্য তারা পান নাই। সন্দেহের বশে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার ৭/৮ হাজার মানুষ তাদেরকে মন্দিরের পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। আহত করে আরও ৭ শ্রমিককে। 
খবর পেয়ে পুলিশ এসে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এসময় ঐ এলাকাটিতে পুলিশের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হন। টানা সাড়ে ৮ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। 
ঘটনাটির দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর থেকে পুলিশের ডিআইজি মারুফ হোসেন, ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এলাকাটি পরিদর্শন করছেন। দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
কয়েকটি গোষ্ঠী ফেসবুকে মধুখালীতে মানববন্ধনের ডাক দিলেও রাতে তা তুলে নেয়। সকালে দেখা যায় মানববন্ধনে শত শত লোক অংশ নিয়েছে। মানববন্ধন শেষে তারা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ৭/৮ হাজার লোক সমবেত হয়ে ডুমাইনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঘোপঘাট এলাকায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এরপর মধুখালী থেকে ঘোপঘাট এলাকা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন লাগিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দু’পক্ষের সংঘর্ষে অনেক পুলিশ আহত হয়। ৩ বিক্ষোভকারীও আহত হয়। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধুখালী থানার এস আই শংকর কুমার পুলিশ এসল্ট মামলা করে। নিহত দুই শ্রমিকের পিতা শাজাহান একটি হত্যা মামলা করেন। অপরদিকে তপতি নামের এক গৃহকর্মী মন্দিরে আগুনের ঘটনায় মামলা করে। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত ১২ জনকে পুলিশ আটক করেছে। আটককৃতরা হলো উজ্জ্বল কুমার মল্লিক, তপন কুমার মল্লিক, প্রসেজিৎ সরকার, সুজয় বিশ্বাস, টুটুল চন্দ্র মণ্ডল, কনক বিশ্বাস, বিনয় সাহা, গোবিন্দ সরকার ও অনয় ভাদুরী। এদের মধ্যে চারজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুজিবুল হকের নেতৃত্বে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি সার্বক্ষণিক এলাকায় থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়াও আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ফরিদপুর এক আসনের এমপি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান নিহত দুই শ্রমিকের পিতামাতার সঙ্গে মতবিনিময় ও ঘটনাস্থল পঞ্চপল্লীর মন্দির পরিদর্শন শেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি সভায় মিলিত হবেন।

 

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

দেশ বিদেশ সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status