ঢাকা, ১৭ মে ২০২২, মঙ্গলবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

অর্থ-বাণিজ্য

ব্যয় কমাতে বিদেশ সফর বন্ধ: অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

(৬ দিন আগে) ১১ মে ২০২২, বুধবার, ৪:১১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৪:২১ অপরাহ্ন

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, যেসব উন্নয়ন প্রকল্প এখনই বাস্তবায়ন জরুরি নয়, সেগুলো ছয় মাস বা আরও পরে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কারণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অস্বাভাবিক সময় চলছে। এই সময়ে অহেতুক ব্যয় করতে চাচ্ছে না সরকার। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ে সরকার সতর্ক। এজন্য বিলাসী পণ্যের আমদানিও যাতে কম হয় সে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সময় প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন যে সফরগুলো হচ্ছে সেগুলো আগেকার অনুমোদন নেয়া। বর্তমান নিতান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নতুন করে বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন না দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে আপাতত বিদেশ সফর আর নয়।

সাংবাদিকরা অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বিলাসী পণ্যে এলসি মার্জিন বাড়িয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে লাগাম টানার ইঙ্গিত আছে। সরকার কি কোনো কারণে শঙ্কিত? জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি সহজ

বিজ্ঞাপন
সময় যখন কঠিন, সিদ্ধান্ত কঠিন নিতে হবে। বর্তমানে বিশ্বের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। বিশ্বের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। যতদিন বহির্বিশ্বে অস্থিরতা থাকবে ততদিন এ ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে কঠিন মানে এমন নয় যে সবকিছু বন্ধ করে ফেলা হবে। বিলাসপণ্য পরে কেনা যাবে। যেসব প্রকল্পের সাথে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের বিষয় রয়েছে এবং এখনই বাস্তবায়ন জরুরি নয় সেগুলো পরে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার এই অস্বাভাবিক সময়টি ম্যানেজ করার জন্য যা করার তাই করছে। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ কবে শেষ হবে তা স্পষ্ট নয়। এই যুদ্ধ সারাবিশ্বে প্রভাব ফেলেছে।

জিডিপি'র প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদদের সংশয় বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জিডিপির হিসাব মেলাতে গেলে যেখান থেকে এই হিসাব করা হয়েছে তাদের সঙ্গে সংশয়বাদিদের বসতে হবে। তবে জিডিপির হিসাব যেভাবে করা হয়, সেভাবেই করা হয়েছে। কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে কোনো সন্দেহও নেই।

তিনি বলেন, সব কাজে সব সময় সন্দেহ করার দরকার নেই। সবাই এদেশের মানুষ। দেশের ভালো সকলেই চায়। সরকার যে তথ্য প্রকাশ করেছে সেগুলো জনগণের জন্যই প্রকাশ করেছে। ফলে জিডিপির হিসাব কিভাবে করা হয়েছে তাও প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সন্দেহকারী বিশ্বব্যাংক, আইএমএফও সরকারের তথ্যে আপত্তি করে না। বরং সরকারের সঙ্গে একমত।

পাঠকের মতামত

সুন্দর উদ্যোগ, সরকারি কর্মচারীরা সরকারি কাজের কথা বলে বিদেশে এসে বাংলাদেশীদর কাছে এসে সব কিছুই ফ্রি খায়, ঐ দিকে সরকারের মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। কিছু দিন আগেও রমজান মাসে সরকারি আট জনের একটি দল তুর্কিতে এসে আট দিন ছিল ওদের কোন কাজাই ছিল না সেখানে শুধু মানুষকে দেখানোর জন্য যে সরকার আমাদেরকে প্রশিক্ষণের জন্য তুর্কী পাঠিয়েছে। ভুয়া প্রশিক্ষণের নাম দিয়ে সারা দিন gold Marketing এ ভেস্ত ছিল।

সুলতান
১৪ মে ২০২২, শনিবার, ৯:২১ অপরাহ্ন

উদ‍্যোগটা খারাপ নয়। তবে দেশের অর্থ সাশ্রয় করার আরও অনেক উদ‍্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন ক, এমপি - মন্ত্রীগণকে এক বছর বেতন - ভাতা অর্ধেক দেওয়া যেতে পারে। খ, তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি নাহলে অফিস - আদালতে এসি না চালিয়ে ফ‍্যান দিয়ে কাজ সারা যেতে পারে। গ, দশ - বিশ টাকার পথ অতিক্রম করতে অনেক সময় সরকারি কর্মকর্তাগণ শ'দেড়ক টাকার তেল খরচ করে থাকেন। এক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে লোকাল যানবাহন ব‍্যবহার করা যেতে পারে। ঘ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ সমূহ দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকরী উদ‍্যোগ নেয়ে যেতে পারে।

রুহুল আমীন যাক্কার
১১ মে ২০২২, বুধবার, ৫:২৮ পূর্বাহ্ন

I think this is wise decision. Thanks lot to honorable Prime Minister & also request pls you give direction to all Concern People of Ministry for reducing unnecessary Expenditure.

showkat
১১ মে ২০২২, বুধবার, ৫:২৫ পূর্বাহ্ন

বিলাসবহুল গাড়ি ও প্রসাধন সামগ্রী আমদানি বন্ধ করা হোক। প্রকল্প ব্যয়ে নয়ছয় বন্ধ করা হোক। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা হোক। প্রকল্পের অযাচিত বাড়তি বাজেট প্রত্যাহার করা হোক। বিদেশে সফরের সাথে বিদেশি ঋণের লাগাম টেনে ধরা হোক। বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা হোক। সর্বোপরি সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রী এমপিদের সম্পদের হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক।

আবুল কাসেম
১১ মে ২০২২, বুধবার, ৫:২৫ পূর্বাহ্ন

খুবই ভালো সিদ্ধান্ত সাধুবাদ জানাই।

সোনা মিয়া
১১ মে ২০২২, বুধবার, ৫:১৭ পূর্বাহ্ন

শুধু বিদেশ ভ্রমণ বা বিলাসী পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করলে হবে বলে আমি মনে করি না, সেই সাথে সরকারি কাজ কর্মে দূর্নীতি যাতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামন যাই সে দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া দরকার।

Munir Ahmed
১১ মে ২০২২, বুধবার, ৪:৩৩ পূর্বাহ্ন

That's is good decision. Entire world is under shaking moment. Govt. should ban unnecessary imports and rise import duty on goods not very much essential. Millions of tourist going to India take away huge foreign currency from Bangladesh. Travel to India (except valid medical reasons) should be discouraged and travel tax to India must be increased.... so that less people go there.

Ziaul Monsur
১১ মে ২০২২, বুধবার, ৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

চোরের মায়ের বড় গলা!!!

তোফায়েল
১১ মে ২০২২, বুধবার, ৩:৩১ পূর্বাহ্ন

Indeed a heralding decision. Congratulations.

nasir uddin
১১ মে ২০২২, বুধবার, ৩:২৬ পূর্বাহ্ন

অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com