ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০২২, সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

দেশ বিদেশ

অভিনব কৌশলে সংসদ লাইব্রেরি কর্মকর্তার টাকা উত্তোলন

কাজী সোহাগ
৩ অক্টোবর ২০২২, সোমবার

১৫ দিনের শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি নিয়েছিলেন তিনি। এ জন্য সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা থেকে টাকা তুলেছেন ৫৫ হাজার ১১০ টাকা। কিন্তু তিনি ছুটি কাটাননি। একই সময় তিনি অফিস করার তথ্য দিয়ে ওভারটাইম তোলেন ১১ হাজার টাকা। পরে ওভারটাইমের সঙ্গে ২৮শে সেপ্টেম্বর তার অ্যাকাউন্টে খাবার বিল হিসেবে যোগ হয় আরও তিন হাজার ২৯০ টাকা। এভাবে সরকারের তহবিল থেকে অনৈতিকভাবে টাকা তুলেছেন সংসদ সচিবালয়ের উপ-পরিচালক (গ্রন্থাগার) বেগম জেব-উন-নেছা। একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৭ই আগস্ট উপ-পরিচালক জেব-উন-নেছা ১৫ দিনের শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটির আবেদন করেন। এ প্রেক্ষিতে ১৯শে আগস্ট থেকে ২রা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি মঞ্জুর হয়। ওই ছুটি কাটাতে তিনি সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা থেকে ৫৫ হাজার ১১০ টাকা তোলেন।

বিজ্ঞাপন
সংসদ অধিবেশনের সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ওভারটাইম বিল পেয়ে থাকেন। ওই বিল পেতে ছুটিতে না গিয়ে তিনি ১১ দিনের বিপরীতে ১১ হাজার টাকা ওভারটাইম বিল তোলেন। ১লা আগস্ট থেকে ৩১শে আগস্টের মধ্যে যারা অতিরিক্ত কাজ করেছেন তাদের ওভারটাইম দেয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তার ছুটি পাস হলে তিনি কোনো ধরনের ওভারটাইম বিল পাবেন না। কিন্তু জেব-উন-নেছা ছুটির তথ্য গোপন রেখে বাড়তি টাকা তোলেন। এ প্রসঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখার দায়িত্বে থাকা সহকারী সচিব আলমগীর হোসেন মানবজমিনকে বলেন, যদি কোনো কর্মকর্তার ছুটি মঞ্জুর হয় তাহলে তিনি অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা নিতে পারবেন না। তিনি ওই সময়টা ছুটিতে আছেন বলে গণ্য হবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে যদি ছুটি নেয়ার পরও অফিস করতে হয় সেটা তিনি করতে পারেন। কিন্তু ওভারটাইম তুলতে পারেন না। তিনি বলেন, অতীতে অডিট করতে গিয়ে এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ধরা পড়ে। পরে যারা অতিরিক্ত টাকা নিয়েছিলেন তাদের সেই টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। আমাদের এখানে ১৪শ’ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। কে কখন ছুটিতে যাচ্ছেন তা আমাদের পক্ষে মনিটরিং করা সম্ভব না। তাই সংসদ সচিবালয়ের সব শাখা ও প্রত্যেক স্টাফকে এ বিষয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিলÑ কেউ যদি ছুটিতে থাকেন তা যেন আমাদেরকে জানানো হয়। জেব-উন-নেছা যদি তথ্য গোপন করে টাকা তুলে থাকেন তাহলে তিনি অন্যায় করেছেন। এটা তিনি করতে পারেন না। এক প্রশ্নে তিনি জানান, এ ধরনের অপরাধের কোনো শাস্তি নেই। যে টাকা তিনি তুলেছেন তা ফেরত দেয়াটাই শাস্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। এ প্রসঙ্গে জেব-উন-নেছার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠালেও কোনো উত্তর তিনি দেননি।        

 

পাঠকের মতামত

শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা পাওয়া যায় কিন্তু ছুটিতো পাওয়া যায় না। সাংবাদিক সাহেব সরকারি দপ্তর সমুহে তদন্ত করে সঠিক নিউজ বের করার বিনীত অনুরোধ রইলো।

আজাদ আবদুল্যাহ শহিদ
৩ অক্টোবর ২০২২, সোমবার, ৯:৩০ পূর্বাহ্ন

এধরনের চোর বাটপারদের সংসদ সচিবালয় থেকে বের করে দেওয়া উচিৎ।

Md.Muraduzzaman Chy
৩ অক্টোবর ২০২২, সোমবার, ৬:৫০ পূর্বাহ্ন

After reading all the big corruption and scam news it’s like complete waste of time for the readers. I stopped after reading 25% and thinking where is the full time big corrupt and scammer.

Hasan Khan
২ অক্টোবর ২০২২, রবিবার, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

Taderke monitoring korar jonne - shudhu matro 1400 employee na 1,40,000 employee o jodi hoy tahole o eta oshomovober kisui na amake dyikto din. Apni paren na, seta apnoar byrthota, hoyto apni kono quotay job peyesen tai - un-qualified. Govt should suspend you first then Jebun nesa.

Rasmat
২ অক্টোবর ২০২২, রবিবার, ১১:৩৬ অপরাহ্ন

We have around 4000 employee. We can manage their payroll very easily. You can't because you are a govt. employee as well as a stupid employee.

Md. Mushfikur rahman
২ অক্টোবর ২০২২, রবিবার, ৮:৪১ অপরাহ্ন

ছুটির তথ্য গোপন করে অনৈতিকভাবে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা তোলা অপরাধ না হলে এমন দূঃকর্ম রোধ করা অসম্ভব। ওত পেতে থাকা অসৎ কর্মকর্তাগন এমন সুযোগ কখনোই হাত ছাড়া করতে চাইবেন না। সুতরাং দরকার হলো আইন ও বিধি পরিবর্তন করে এমন অনৈতিক সুবিধা রহিত করা।

মোহাম্মদ হারুন আল রশ
২ অক্টোবর ২০২২, রবিবার, ৮:২৫ অপরাহ্ন

অসততার শাস্তি যদি শুধু টাকা ফেরত নেয়া হয়, তা হলে আর বলার কিছু নেই। বাংলাদেশে না ডিজিটালের জোয়ার বইছে। ১৮০০ কর্মকর্তা/কর্মচারীর কে কে ছূটিতে আছেন, এটা ডিজিটালি জানা যাচ্ছেনা কেন?

Khaja
২ অক্টোবর ২০২২, রবিবার, ৫:৩৩ অপরাহ্ন

যে সচিবালয়ে দেশের আইন কানুন তৈরীকরে আর তাদের বেলায় অপরাধের শাস্তি নাই, বুজা যায় সেখানে কি পরিমান অপরাধ হচ্ছে. অপরাধের দায়ে শাস্তির বিধান রাখা হয়নি, তাই সেখানে চুরি চামারি বা অরো অনৈতিক ঘটনা ঘটেছে যা প্রকাশ্য আসছেনা।

Faiz Ahmed
২ অক্টোবর ২০২২, রবিবার, ৪:০৯ অপরাহ্ন

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status