ঢাকা, ৩০ নভেম্বর ২০২২, বুধবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

অর্থ-বাণিজ্য

হুন্ডির টাকা অবৈধ বলবো না, সেটি কালো টাকা: অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

(৩ মাস আগে) ৩ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ৫:০৩ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৩ অপরাহ্ন

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, যারা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা আনে তারা বিবেকের কাছে দায়ী থাকবেন। বুধবার ভার্চ্যুয়ালি অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

হুন্ডিতে না পাঠিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় অফিসিয়াল চ্যানেলে বিদেশ থেকে টাকা আসুক সেটা প্রত্যাশা করি। কারণ এটার যে সুফল সেটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। হুন্ডির মাধ্যমে যদি টাকা নিয়ে আসেন সেটিকে অবৈধ বলবো না, সেটি কালো টাকা। যারা সেই টাকা হুন্ডির মাধ্যমে নিয়ে আসেন, তারা সবসময় বিবেকের কাছে দায়ী থাকবেন। তাদের আস্তে আস্তে অনেক টাকা হয়ে গেলে সেটি কিন্তু রেকর্ড করতে পারছেন না, কারণ হুন্ডির টাকা। কখনও ইনকাম ট্যাক্স বা রেগুলেটরি অথরিটি এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জবাব দিতে পারবেন না।

হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর পরিমাণ বেড়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, হুন্ডি তো আছেই। এখনও হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পয়সা আসে। যাতে করে কম আসে সেটি নিরুৎসাহিত করতে আমরা তাদের সুফলটা বলছি। প্রধানমন্ত্রীও সেটি করছে।

বিজ্ঞাপন
রেমিট্যান্স আমাদের অন্যতম একটি খাত। আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যের পরে রেমিট্যান্স অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে এবং অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। আমি মনে করি এটি আমাদের জন্য ভালো লক্ষণ।

হুন্ডিতে কী পরিমাণ টাকা আসে সেটির কোনো পরিসংখ্যান আছে কিনা জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, আমার এ মুহূর্তে কোনো ধারণা নাই। আমি আগে একটি স্টাডি করে দেখেছিলাম, প্রায় কাছাকাছি অফিসিয়াল চ্যানেলে এসেছে ৫১ শতাংশ, আর হুন্ডিতে এসেছে ৪৯ শতাংশ। সেজন্য আমি মনে করি সেই ধারাবাহিকতা এখনও আছে। আমরা যদি অফিসিয়াল চ্যানেলে আনতে পারি। অর্থাৎ অফিসিয়াল চ্যানেল আনলে তো লস হচ্ছে না। তাদের জন্য প্রণোদনা না শুধু, স্বীকৃতিও দেয়া হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মও কিন্তু এটি সুন্দভাবে ভোগ করতে পারবে। এতে প্রশ্ন বা দায়বদ্ধ থাকবে না।

পাঠকের মতামত

প্রবাসীরা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ: ১. বিদেশ থেকে বৈধ ভাবে টাকা পাঠাইতে প্রেরককে বৈধ প্রবাসী হতে হয়। বৈধ ভাবে বিদেশ এসে বছর যাইতেই অবৈধ হয়ে যায় কেন? সেই খবর সরকার এবং দুতাবাস গুলো রাখেনা। ২. ব্যাংকের চাইতে হুন্ডিতে রেইট ভাল এবং ২/৩ ঘন্টার মধ্যেই পরিবারের কাছে টাকা পৌঁছে যায়। ৩. ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাইতে কাজ ছেড়ে পুরো একদিন সময় দিতে হয়, চার্জ দিতে হয় অর্থাৎ ঐদিন ছুটি নিতে হয় পক্ষান্তরে হুন্ডিতে পাঠাইতে ২ মিনিটের ফোন কলই যথেষ্ট। ৪. ২/৪ টাকা পাঠাইয়া পরিচিত হয়ে গেলে সম্পূর্ণ টাকা না দিয়াও বাকিতে টাকা পাঠানো যায়। ৫. বর্তমান বিকাশ হচ্ছে সাধারণ হুন্ডির বড় ভাই। ৫ থেকে ২০/২৫ হাজার টাকা প্রায় সকলেই বিকাশে পাঠায়। প্রত্যেক প্রবাসী মাসিক ঘর খরচ ২০/২৫ হাজার টাকাই পাঠাইয়া থাকেন। বিকাশ যারা করে এরা মূল হুন্ডি ওয়ালা থেকেই টাকা নিয়ে দেশে লোকেল বিকাশ করা অর্থাৎ বিদেশ থেকে বিকাশ হয়না, বিকাশ হয় দেশেই। নোট: বিদেশে রেয়াল দেরহাম দিনার বা ডলার নেয় বিনিময়ে বাংলাদেশে টাকা দেয় এর অর্থ হইল বাংলাদেশে টাকা দেয়ার জন্য হুন্ডি ওয়ালার এজেন্ট আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের ভেতর হুন্ডি ওয়ালার এজেন্ট নির্মূল করা যাবেনা ততক্ষণ পর্যন্ত কমিশনের লোভ দেখাইয়া লম্বা লম্বা বক্তৃতা দিয়া কিংবা ভয় দেখাইয়া হুন্ডি বন্ধ করা যাবেনা। ভারত বাংলাদেশ পাকিস্তান নেপাল শ্রীলঙ্কার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে মূল হুন্ডি ওয়ালা হচ্ছে ইন্ডিয়ান। বাংলাদেশীরা কালেকশন করে প্রতি রেয়াল দেরহাম বা দিনারে সামান্য কিছু লাভ করে ঐ ইন্ডিয়ান হুন্ডি ওয়ালার কাছে বিক্রি করে আর ইন্ডিয়ান সে বিভিন্ন দেশের কালোবাজারী বা পাচার কারীর কাছে ডলার ইউরো বা পাউন্ডে বিক্রি করে। বাংলাদেশে যতক্ষণ পর্যন্ত হুন্ডি ওয়ালা থেকে ডলার পাউন্ড ইউরো ক্রেতাকে চিহ্নিত করে নির্মূল করা যাবেনা ততক্ষণ পর্যন্ত হুন্ডি বন্ধ হবেনা।

শাজিদ
৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, রবিবার, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

Illegal way money transfer is crime and unfortunately our govt is directly involved and that is the main reason our country cannot stop this kind of crime . Common people are not involved. Only govt and their party people are involved and that is the reason right now they are rich in our society

Tanweir
১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১:৪৬ পূর্বাহ্ন

আমি প্রবাসে আছি দীর্ঘদিন। এমনকি দুই তিন বছর বাংলাদেশে সোনা আনার কাজও করেছি। আমাদের সোনা ব্যবসায়ীদের পুরোটাকাটাই হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হয়। তখন হুন্ডির লেনদেন কে আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হত। একটা দেশের জন্য ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসা কত দরকার তা শ্রীলংকাকে দেখে বুঝলাম। আমাদের মন্ত্রীদের উলটা পাল্টা কথা না বলে প্রবাসীদের কাছে অনুরোধ করা উচিৎ সকল প্রবাসী যেন বৈধ পথে টাকা পাঠায়। যা দেশকে বাচাতে পারে দেউলিয়া হতে। দেশ দেউলিয়া হলে দেশের জনগনের কোন দাম নেই।

rafiq
১৫ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ১২:৪২ অপরাহ্ন

'' হুন্ডির টাকা অবৈধ না'' , ভাইয়েরা চিন্তা করুন, এই হল আমাদের তথাকথিত অর্থমন্ত্রী ।

Rakib
৮ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ৯:২৫ অপরাহ্ন

সরকার যখন সস্তা বেতনে মধ্যপ্রাচ্চে কর্মি পাঠায়,সেই বেতনে তাদের খাবার খেতেই হিমসিম খেতে হয়।তারা নিরুপায় হয়ে বাহিরে বিভিন্ন মাধ্যমে ওভারটাইম হিসাবে কাজ করে,এটাকে আমরা বৈধ বললেও এখানকার সরকার এটাকে তাদের আইন লংঘন বলে ধরে দেশে পাঠিয়ে দেয়।আমাদের সরকার কোন ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত নেয় নাই।বাহিরে কাজ করে বেতনের পরের টাকাটা ব্যাংকে পাঠাতে গেলেই এই দেশের আইনের নজরে পড়ে যাই।জবাবদিহি করতে হবে এত টাকা কোথায় পেলাম?যদি বলি কোম্পানির কাজের পড়ে অন্য কোথাও অভারটাইম কাজ করে ইনকাম করেছি।তখন শুরু হবে এ দেশের আইনে বিচার।তো হুন্ডি করবে না তো কি করবে,নাকি এদেশের পুলিশের মার খাবে?আশা করি এমন বিষয় নিয়ে মানবজমিন কে একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করার অনুরোধ করছি।আমরা বেতনের বাইরের টাকা টা ব্যাংকে পাঠাতে পারিনা।আইনে আমাদের হাত পা বাধা।আমি অবশ্য ব্যাংকে পাঠাই, বেতন কমতো তাই।সত্য টা বলার চেষ্টা করলাম।ধন্যবাদ।

Afzal Ahmed
৩ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ১০:৪০ অপরাহ্ন

জনাব-আমরা কোনোদিন হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাইনা, তবুও বলতে হয় আপনি কি ভাবে বলেন হুন্ডির মাধ্যমে যদি টাকা নিয়ে আসেন সেটিকে অবৈধ বলবো না, সেটি কালো টাকা। আপনারা কি ভাবে ক্ষমতায় আছেন সেটা অবৈধ কালো দুটোই, অন্যকে বলেন টাকা হুন্ডির মাধ্যমে নিয়ে পাঠালে, তারা সবসময় বিবেকের কাছে দায়ী থাকবেন। আপনারা কি বিবেকের কাছে দায়ী নয়, প্রবাসীরা এয়ারপোর্টে মাথা করে মালামাল নিয়ে বাহিরে আসতে হয়, প্রবাসীদের টাকা আপনারা এসি রুমে বসে আছেন।

N.Huda
৩ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ৭:২৪ পূর্বাহ্ন

অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অর্থ-বাণিজ্য থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status