ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২৪, সোমবার, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ মহরম ১৪৪৬ হিঃ

দেশ বিদেশ

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সিন্ডিকেট গ্রেপ্তার ১২

স্টাফ রিপোর্টার
১৫ জুন ২০২৪, শনিবার

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ট্রেনের ৫০০ টিকিটসহ ১২ জন কালোবাজারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সোহেল রানা (২৭), মাহবুবুর রহমান (২৮), মো. বকুল হোসেন (২৫), মো. শিপন আহমেদ (২৯), মো. আরিফ (৩৮), শাহাদাত হোসেন (৩৫), মো. মনির (২৫), শিপন চন্দ্র দাস (৩৫), মনির আহমেদ (৩০), রাজা মোল্লা (২৬)। অভিযানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ট্রেনের বিপুল পরিমাণ টিকিট, ১০টি মোবাইল ফোন, ১০টি সিমকার্ডসহ কালোবাজারির বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের বেসরকারি ট্রেনের বিক্রয় প্রতিনিধিও রয়েছেন। গতকাল রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশনের প্ল্যাটফরমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল মো. ফিরোজ কবীর।
তিনি বলেন, এসব টিকিট অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কালোবাজারিরা কেটেছে। অবৈধভাবে কাটা এসব টিকিট পরবর্তী সময়ে চড়া দামে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। সোহেল ও আরিফুল নামে দুটি চক্র ঠাকুরগাঁও ও ঢাকা থেকে কালোবাজারি পরিচালনা করতো। ঢাকার কমলাপুর ও আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখানে দুই ধরনের চক্র কাজ করে।

বিজ্ঞাপন
এক ধরনের চক্র অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হলে তা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে কেটে রাখতো। পরে ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে চড়া দামে বিক্রি করে। সফট কপি পাঠিয়ে বিকাশ বা নগদে টাকা বুঝে নেয়। এই চক্রের দুজনকে মৌচাক মোড়ের আশপাশের এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের একজনের নাম মানিক ও আরেকজন বকুল। তারা জানায়, মানিক মূলত সোহেল নামে একজন ও ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থানকারী আবু, রায়হান ও আনিস নামে আরও একজনের সঙ্গে কালোবাজারি ব্যবসায়ে আসে। তাদের থেকে আগামী ১০ দিনের টিকিট পাওয়া যায়। এগুলোর হার্ডকপি ও সফটকপি রয়েছে। এরমধ্যে দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেসের টিকিট ৩ হাজার টাকা করে বিক্রি করছে।
ফিরোজ কবীর বলেন, মানিক ও বকুলের মাধ্যমে আনিস ও রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। রায়হান একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে। সেখানে ভুয়া সিম ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অনেকগুলো টিকিট একসঙ্গে কেটে নেয়ার দায়িত্ব সে পালন করে। এদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। সেখানে চাহিদা ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আর ঢাকাতে যারা অবস্থান করছে তারাও একই কাজ করে আসছিল। রায়হান ও আনিস টিকিট পাঠাতো সোহেল ও মানিকের কাছে। আর মানিক ও বকুল ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করতো। আমরা যে টিকিট পেয়েছি এখানে সেগুলো আগামী ১০ দিনের টিকিট। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বেসরকারি ট্রেনের বুকিং সহকারীর কাজ করে আরিফুল ইসলাম। আরিফও একটি চক্র চালায়। 
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব আরও জানায়, টিকিট কালোবাজারি চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় সকল ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট বুকিংয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে যুক্ত হয়ে টিকিট কালোবাজারি করে আসছে। বিশেষ করে ঈদ, পূজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ ছুটির দিনকে উপলক্ষ করে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা বিভিন্ন কারসাজির মাধ্যমে সাধারণ সময়ের তুলনায় অধিক সংখ্যক টিকিট সংগ্রহ করতো। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্টেশনের অসাধু কর্মচারী ও টিকিট কাউন্টারম্যানদের মাধ্যমে আনুমানিক প্রায় ২-৩ হাজার রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারির মাধ্যমে বিক্রি করতো। তারা আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বের চাইতেও অধিক সংখ্যক টিকিট সংগ্রহের জন্য পরিকল্পনা করছিল বলে জানা যায়। তিনি বলেন, টিকিট বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ বাকি বিক্রয়কারী সহযোগীদের মাঝে ভাগাভাগি হতো। এই অর্থ কখনো তারা নগদ হাতে হাতে বুঝিয়ে দিতো আবার কখনো মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে লেনদেন করতো বলে জানা যায়। সিন্ডিকেটের প্রত্যেক সদস্য অবৈধভাবে ট্রেনের টিকিট বিক্রি করে প্রতি মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা উপার্জন করতো বলে জানা যায়। এভাবেই পরস্পরের যোগসাজশে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশব্যাপী ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

 

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

দেশ বিদেশ সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status