ঢাকা, ২ জুলাই ২০২২, শনিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১ জিলহজ্জ ১৪৪৩ হিঃ

দেশ বিদেশ

নৌকা ছাড়া তাদের বিকল্প নেই

স্টাফ রিপোর্টার
২৪ জুন ২০২২, শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনেও দেশের জনগণ নৌকাকে বেছে নেবে- এমন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের যা কিছু অর্জন তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে। বিএনপির হৃদয়ে তো পাকিস্তান, এরা দেশের ভালো চাইবে না এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে। দেশবাসীও জানে নৌকা আওয়ামী লীগের প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক- সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তাই নৌকা ছাড়া তাদের বিকল্প নেই, গতি নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য নয় বরং মানুষের ভাগ্য গড়তে। জন্মলগ্ন থেকেই সেই আদর্শ নিয়েই রাজনীতি করে যাচ্ছে। নেতৃত্বশূন্য দল বিএনপি নির্বাচন করবে আর জনগণ ভোট দেবে কি দেখে? বাংলাদেশের মানুষ এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। বিএনপি কথা বানানো এবং মিথ্যা বলার কারখানা মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এবং তার স্ত্রী খালেদা জিয়া যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘হত্যার সঙ্গে জড়িত’, তাদের ছেলে তারেক রহমান তা প্রমাণ করেছে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সমর্থন দিয়ে। 

আজকে তাদের কথার মধ্য দিয়ে এরাই যে ১৫ই আগস্টে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বা চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত, জিয়া-খালেদা-তারেক জিয়া সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে, ৭৫-এর হাতিয়ারকে সমর্থন দিয়ে অর্থাৎ খুনিদের সমর্থন দিয়ে। কারণ এই খুনিদের বিচারের হাত থেকে মুক্ত করেছিল জিয়াউর রহমান এবং তাদেরকে পুরস্কৃত করেছিল ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স দিয়ে, সেটা আইনে পরিণত করেছিল জিয়াউর রহমান এবং এদেরকে দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল। গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, রাজশাহীর সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও আবু আহমেদ মন্নাফী। গণভবন প্রান্ত থেকে সভা পরিচালনা করেন দলটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।   বিএনপি দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না বিএনপি দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দেশটা আমাদের। 

আমি যতটুকু চিনি-জানি, দেশের মানুষ, মানুষের কল্যাণ আওয়ামী লীগ যতটা বুঝবে, অন্যরা তা বোঝে না। বুঝবে কি করে? বিএনপির হৃদয়ে তো থাকে পাকিস্তান। তাদের মনেই আছে পাকিস্তান। ‘দিল মে পেয়ারে পাকিস্তান’। সারাক্ষণ গুন গুন করে ওই গানই গায়। ‘হায় মেরে জান, পেয়ারে মান, আখো কি তারা, আসমান কি চান, মেরে জান পাকিস্তান’- এই হলো খালেদা জিয়ার কথা। কাজেই এই যাদের মানসিকতা তারা তো বাংলাদেশের কোনো ভালো চাইবে না- এটা খুব স্বাভাবিক। এটা নিয়ে আপনাদের এতো দুঃখ, চিন্তা করার কিছু নেই। তিনি বলেন, ওদের (বিএনপি) কথা যত না বলা যায় ততই ভালো। কারণ ওরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করে না। বরং এগুলো সবগুলোকে গাট্টি বেঁধে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিলেই ভালো হয়। পাকিস্তানে এখন যে অবস্থা, ওখানেই তারা ভালো থাকবে। এখনো লাহোরে সোনার দোকানে খালেদা জিয়ার বড় ছবি আছে। ওই দোকানের সোনার গয়না তার খুব প্রিয়। তাদের মানসিকতা ওইদিকেই। আমাদের বাংলাদেশের জন্য না। 

তবে এটাও ঠিক এদের জন্ম তো বাংলাদেশে না। না জিয়ার জন্ম বাংলাদেশ, না খালেদা জিয়ার জন্ম। কারো জন্মই বাংলাদেশে না। তিনি আরও বলেন, আমার বাবা ছিলেন এই দেশের। আমার জন্মও এই মাটিতে। কাজেই মাটির টান আলাদা। এখানে আমাদের নাড়ির টান। কাজেই এদেশের মানুষের ভাগ্য গড়াটাই আমাদের লক্ষ্য। সেজন্যই আমরা কাজ করি। আওয়ামী লীগের আদর্শই হচ্ছে জনগণের সেবা করা।  জিয়ার লাশ কোথায় গেছে কেউ পায়নি  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি শুনলাম- খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়া স্লোগান দেয় ‘পঁচাত্তরের পরাজিত শক্তি’। এর মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণ করেছে তার বাপ যে পাকিস্তানের দালাল ছিল, তার মাও পাকিস্তানি দালাল হিসেবেই ছিল। এই বাংলাদেশের স্বাধীনতাটাকে সম্পূর্ণরূপে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। আদর্শগুলো একে একে মুছে ফেলে দিয়েছিল। ইতিহাস মুছে ফেলে দিয়েছিল। জাতির পিতার নামটাও মুছে ফেলেছিল। কাজেই এটা খুব স্বাভাবিক। তারা তো ওই স্লোগান দেবেই। তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনাদের পদলেহন করে চলাটাই তো তাদের অভ্যাস। তারা তো স্বাধীনতার চেতনাতেই বিশ্বাস করে না। স্বাধীন জাতি হিসেবে যে একটা মর্যাদা আছে, এটাই তাদের পছন্দ না। তারা পরাধীন থাকতেই পছন্দ করে। পাকিস্তানিদের পায়ের লাথি-ঝাঁটাটাও তাদের ভালো লাগতো মনে হয়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। এটা মনে করেই এদের করুণা করতে হবে। কিন্তু এরা চক্রান্তকারী-ষড়যন্ত্রকারী, সেটাও মনে রাখতে হবে। 

নইলে এদেশে অগ্নি সন্ত্রাস, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা, ১৯টা ক্যু, হাজার হাজার সেনাবাহিনীর সৈনিক-অফিসারকে হত্যা করেছে। কতো পরিবার লাশটাতো পায়নি। জিয়াউর রহমান তাদের হত্যা করেছে, তাদের লাশ কেউ পায়নি। সব লাশ গুম হয়েছে। তারা কখনো জানতেও পারেনি কি অপরাধ তাদের, তারা জানতেও পারেনি তাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের লাশগুলো কোথায়? পঁচাত্তরের পর যখন জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল তখন থেকে দেশের গুম-খুন শুরু হয়। খালেদা জিয়া এসেও আমাদের কতো নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। এরশাদের আমলেও আমাদের নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছে।  তারেককে আসতে দেয়া হয় না এটা মিথ্যা  প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির এক নেতা বলেছেন তারেক জিয়াকে নাকি আসতে দেয়া হয় না! এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। ২০০৭ সালে তারেক জিয়া তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়েছিল সে আর রাজনীতি করবে না। এই শর্তে সে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বিদেশে পাড়ি জমায়। বিএনপি নেতাদের এটা তো ভুলে যাওয়ার কথা না। এটা লিখে দিয়ে সে কিন্তু চলে যায়। কাজেই তাকে তো কেউ বিতাড়িত করেনি। স্বেচ্ছায় চলে গিয়ে আর সেই ফিরে আসেনি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতার যদি ফিরে আসার সাহস না থাকে, সে আবার নেতৃত্ব দেয় কীভাবে? আমাকেও তো বাধা দিয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। মাডার কেস দিয়েছিল, ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে দেশে এসেছিলাম। মামলা মোকাবিলা করেছিলাম। আমি জোর করে দেশে ফিরে এসেছি।

 এরপর আমাকে কারাবন্দি করেছে। আমি জানি রাজনীতি করি কারাবন্দি হতেই হবে। কিন্তু আমাকে তো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান গ্রেনেড মেরে হত্যাও করতে চেয়েছে। কোটালীপাড়ায় বিশাল বোমা সেটাতেও কী তাদের হাত ছিল না। বারবার হত্যার চেষ্টা এরাই তো করেছে। তাদের মুখ থেকে এত বড় কথা কীভাবে আসে? পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আজকে পদ্মা সেতু নিয়ে তারা কথা তুলেছে। সেখানে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল বিশ্বব্যাংক। খালেদা জিয়ার আমলে সিদ্দিরগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্টে দুর্নীতির দায়ে বিশ্বব্যাংক কিন্তু অর্থ বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এটা বের করেছিল যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খালেদা জিয়া ছেলেরা অর্থ ঘুষ নিয়েছিল। ঢাকা ময়মনসিং রোড করার সময়ে দুর্নীতির দায়ে বিশ্বব্যাংক সড়কে অর্থ বন্ধ করেছিল। তাদের চরিত্রই এই। তারা বিদেশে যে টাকা পাচার করেছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই টাকা কিছু অংশ ফেরত এনেছি। এরপরও তাদের মুখ থেকে এত বড় কথা কীভাবে আসে? তবে মিথ্যা কথা বানানো এবং মিথ্যা কথা বলার একটি কারখানা যদি থেকে থাকে সেটা হচ্ছে বিএনপি।  এখানে বসে তারা মায়াকান্না করে যাচ্ছে  চলমান সিলেটসহ বিভিন্নস্থানে ভয়াবহ বন্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বন্যা হয়েছে। 

বন্যায় বিএনপির কোনো নেতা কেউ কোনো সাহায্য দিয়েছে? দেয়নি। ঢাকায় বসে বসে নানা কথা বলে বেড়াচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনেক দুর্গম এলাকায় যাচ্ছে। যেখানে যারা কেউ পৌঁছাতে পারছে না সেখানেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে। উদ্ধার কাজ করে যাচ্ছে, প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে কাজ করে যাচ্ছে। সেটা নিয়েও তাদের আবার সমালোচনা। যারা বন্যাভাসিদের জন্য কিছুই করতে পারেনি, কিন্তু এখানে বসে তারা মায়াকান্না করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ প্রশাসন সবাই একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত তাদের উদ্ধার করা, চিকিৎসা দেয়া তাদের মধ্যে খাদ্য দেয়া কোথাও এতটুকু গাফিলতি নেই। বন্যা এটা প্রাকৃতিক কারণে আমাদের দেশে আসবেই, হয়েছে, হচ্ছে এবং হবেই। তাই বলে আমাদের যে এতো বড় অর্জন (পদ্মা সেতু) যেটার বিশ্বব্যাংকের করা দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। কানাডার আদালতের রায়েও বলা হয়েছে, অভিযোগ মিথ্যা, এখানে কোনো দুর্নীতিই হয়নি। ২৫শে মার্চ পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে জনগণ উপলব্ধি করেছে, সরকার জনগণের সেবক। ২০০৯ থেকে আমরা সরকার গঠন করেছি। জনগণ বারবার আমাদের ভোট দিয়েছে। সেই ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা বারবার এসেছি। একটা দীর্ঘ সময় হাতে পেয়েছি। তাই আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে।

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com