ঢাকা, ২৫ জুন ২০২২, শনিবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

অর্থ-বাণিজ্য

বাদাম বিক্রেতা জাকারিয়ার মুখে চিন্তার ভাঁজ

নাইম হাসান
১২ জুন ২০২২, রবিবার

নীলক্ষেত, শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রায়ই বাদাম বিক্রি করতে দেখা যায় জাকারিয়াকে। ১৮ বছরের যুবক দারিদ্র্যের কশাঘাতে পঞ্চম শ্রেণির পর আর লেখাপড়া করতে পারেননি। জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছেন বাদাম বিক্রির মতো ক্ষুদ্র ব্যবসা। রাজধানীতে এক বছর যাবত এভাবে ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করছেন জাকারিয়া। এর আগে তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফুটপাথে কসমেটিক্সের ব্যবসা করতেন। বর্তমানে থাকেন রাজধানীর নাখালপাড়ায় একটি ব্যাচেলর বাসায়। জাকারিয়া মানবজমিনকে বলেন, আমার গ্রামের বাড়িতে বাবা, মা ও এক ছোটো ভাই আছে। বাবা ছোটো ব্যবসা করেন। ছোটো ভাই ক্লাস নাইনে পড়ে। ওর পুরো খরচ আমি চালাই।

বিজ্ঞাপন
বাদাম বিক্রি করে দিনে প্রায় ৫০০ টাকা আয় হয়। প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা হাতে থাকে। সেখান থেকে বাসায় ১২ হাজার টাকা পাঠাই। কোনোভাবে থাকা-খাওয়া দিয়ে আমি ৩ হাজার টাকায় চলি। আগে গ্রামে কসমেটিক্সের ব্যবসা করতাম। ওখানে দিনে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা পেতাম। করোনার মধ্যে এই ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ হয়। তাই বাধ্য হয়ে ঢাকায় এসেছি। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আগের মতো বেশি পরিমাণে বাদাম বিক্রি হয় না বলে জানান জাকারিয়া। বলেন, আগের মতো ক্রেতারা বাদাম কিনতে চায় না। বাজারে এখন সবকিছুর দাম চড়া। আগে যে বাদাম ১০০ টাকায় কিনতাম এখন তা ১৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাদাম বিক্রির কাগজের দামও প্রতি কেজি ঠুঙিতে ২০ টাকা করে বেড়েছে। বেশি দাম দিয়ে কেনায় বাদামের পরিমাণে কম দিতে হচ্ছে। আগে ২০ টাকায় যে পরিমাণে বাদাম দিতাম এখন তার থেকে অনেক কম দিতে হচ্ছে। কি করবো বলেন, আমাদের তো লাভ করতে হবে। সবকিছুর দাম যে বেড়েছে এটা কেউ বোঝে না। দিনে ৩ থেকে সাড়ে তিন কেজি ভাজা বাদাম নিয়ে আসি। আগে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা লাভ হলেও এখন দৈনিক ৫০০ টাকা হয়। সে হিসাবে মাসে আয় হতো ২১ থেকে ২৪ হাজার টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধিতে এই বাজারে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। জাকারিয়া আরও বলেন, সকাল থেকে (এখন ২টা পর্যন্ত) পাউরুটি খেয়ে আছি। এখন তো দুপুর হয়ে গেছে। আগে ৪০০ টাকা কামাইলে মাছ-মাংসসহ অনেক সবজি কেনা যেত। এখন যে পরিস্থিতি এক মাসের কামাই দিয়েও মাছ কেন সবজিও কেনা যায় না।

অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অর্থ-বাণিজ্য থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com