ঢাকা, ২৫ জুন ২০২২, শনিবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

অর্থ-বাণিজ্য

বৈদ্যুতিক ক্যাবলসের মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার আহ্বান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার:
১১ জুন ২০২২, শনিবার

বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক ক্যাবলস শিল্পের বাজার ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই খাতে প্রবৃদ্ধি ৪০ শতাংশ। এই শিল্পখাতে শুল্ক, ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকির পরিমাণও অনেক। এসব সমাধানের উদ্যোগ হতাশাজনক। সরকারের উচিত এখনই এই সেক্টরকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়া। উৎপাদনকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির বৈদ্যুতিক ক্যাবলস, অভারহেড কন্টাক্টর, ট্রান্সমিটার এবং অন্যান্য সরাঞ্জাম যার প্রায় শতভাগ উৎপাদন ও যোগান দিয়ে থাকে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ক্যাবলস পণ্যের সঠিক মান যাচাই, বাছাই, পর্যালোচনা কোনোটাই হচ্ছে না। অন্যদিকে কাঁচামালের পরিমাণ, আমদানি শুল্ক এবং দরদাম পর্যবেক্ষণ না করার কারণে ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি নিরুপণের বিষয়টিতে বিরাট ঘাপলা রয়ে যাচ্ছে। এজন্য সরকারের আশাব্যঞ্জক কোনো পদক্ষেপ নেই।

বিজ্ঞাপন
 শুধু সঠিক পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে এই শিল্পখাতে অসম প্রতিযোগিতা ও একচ্ছত্র অধিপত্যবাদী গ্রুপের সৃষ্টি হতে চলেছে। বিশাল অঙ্কের ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা যেভাবে ইচ্ছা যা ইচ্ছা বানাচ্ছে। বৈদ্যুতিক ক্যাবলস বিভিন্ন সাইজের এবং বিভিন্ন গ্রেডের হয়ে থাকে। এরমধ্যে বেশি লাভ, দাম কম করতে উভয় কাঁচামালই ভাঙ্গাড়ি থেকে তৈরি করে থাকে অসাধু ব্যবসায়ীরা। আবার একটি ট্রেডিং গ্রুপ প্রতি বছর বিশাল অঙ্কের নিম্ন মানের ক্যাবলস আমদানি করে বাজার সয়লাব করে ফেলছে। এসবের নিয়ন্ত্রণ না হলে এই শিল্পে বিপর্যয় আসবে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। ক্যাবলস উৎপাদনকারী শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তারা এর কাঁচামাল অ্যালুমনিয়াম ক্যাথট ইনগট, কপার ক্যাথট ইনগট এবং প্লাস্টিক দানা সবই আমদানি করছে। কিন্তু খোঁজ নিলে দেখা যাবে এসব ক্ষেত্রে বিশাল ফাঁকি বিদ্যমান রয়েছে।  অভিযোগ রয়েছে, ক্যাবলস পণ্যের দাম কম রাখার জন্য দুটি পন্থা অবলম্বন করে অসাধু কোম্পানিগুলো। প্রথমত, আমদানি শুল্ক, ভ্যাট, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে; দ্বিতীয়ত লোকাল মার্কেট থেকে কম দামে স্ক্রাব বা ভাঙ্গাড়ি গলানো কপার কিনে সেসব দিয়ে ক্যাবলস বানায়। কাঁচামাল আমদানি করার ক্ষেত্রে কৌশলে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কের কাঁচামালের নাম-কোড ব্যবহার করে থাকে। আন্ডার ইনভয়েস করার কারণে শুল্ক কম পড়ে। কখানা কখনো জোগসাজস করেও এ ধরনের মিসডিক্লারেশন করে থাকে তারা।  সূত্র থেকে জানা যায়, ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি, টেন্ডার বিটে অংশগ্রহণ এবং নিম্নমানের স্ক্রাপ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাবলস বড় প্রতিষ্ঠান থেকেই বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন জন নকল করছে। আবার এদের মধ্যে জনপ্রিয় ব্রান্ডের ক্যাবলসই নকল হচ্ছে। সরকারের উচিত এখনই এই সেক্টরকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে, ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি তদারকি এবং এদের উৎপাদিত সরাঞ্জামসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়া।

অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অর্থ-বাণিজ্য থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com