ঢাকা, ২৬ জুন ২০২২, রবিবার, ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৫ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

অর্থ-বাণিজ্য

সাক্ষাৎকার

কৃষকের আয় বাড়াতে কৃষিযন্ত্রের বিকল্প নেই

৫ জুন ২০২২, রবিবার

কৃষিকে মূলধারার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে সম্পৃক্ত করে ব্যবসা পরিচালনা করার বিষয়টি দেশে প্রথমবারের মতো দেখিয়েছে এসিআই লিমিটেড। চাষ থেকে শুরু করে ফসল বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উপকরণই দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু ফসলই নয়, মাছ ও গবাদিপশুর ক্ষেত্রেও একই সেবা রয়েছে বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানের। অন্যদিকে আধুনিক, উদ্ভাবনী ও কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে দেশের কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে এসিআই। প্রতিষ্ঠানটির সফলতা গল্পের মূল কারিগর এসিআই এগ্রোবিজনেসের প্রেসিডেন্ট ও এসিআই মোটরস্‌-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফা হ আনসারী। তার কর্মপরিকল্পনা, দূরদর্শিতায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটাচ্ছে এসিআই এগ্রোবিজনেস ও মোটরস্‌। মানবজমিনের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের গল্প। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. আল-আমিন

কৃষি যান্ত্রিকীকরণে এসিআই কি ধরনের কাজ করছে?
কৃষি যান্ত্রিকীকরণে এসিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অধিকাংশ কৃষিজমি চাষ হয় এসিআইয়ের ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলারের মতো চাষের যন্ত্র দিয়ে। এ ছাড়া হারভেস্টার, কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ট্রান্সপ্ল্যান্টার- এগুলো এসিআইয়ের হাত ধরে বাংলাদেশে এসেছে।

বিজ্ঞাপন
বৈশ্বিকভাবেই এসিআই কৃষিযন্ত্র সরবরাহে একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান।

জাপানের কৃষিযন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইয়ানমার ও এসিআই মোটরস যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে কম্বাইন্ড হারভেস্টার তৈরির কারখানা স্থাপনের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। দেশের কৃষির উন্নয়নে এটি কতটুকু ভূমিকা রাখবে?
দেশে ইয়ানমার ব্র্যান্ডের কম্বাইন্ড হারভেস্টার অনেক জনপ্রিয় এবং চাহিদাও বেশি। এটিকে বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয়ভাবে কম্বাইন্ড হারভেস্টার তৈরি ও সংযোজন করার উদ্যোগ নিয়েছে ইয়ানমার ও এসিআই মোটরস। ২০২৪ সালের শুরুতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে যাওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। স্থানীয়ভাবে কম্বাইন্ড হারভেস্টার তৈরি ও সংযোজন করা হলে স্বল্প মূল্যে কৃষকদের হাতে ইয়ানমার কম্বাইন্ড হারভেস্টার তুলে দেয়া সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন। ফসলের উৎপাদন খরচ সাশ্রয় হবে। 

দেশের কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ সম্প্রসারণের গুরুত্ব কতটুকুু?
দেশে বাণিজ্যিকভাবে সবজি উৎপাদনে যান্ত্রিকীকরণ প্রচলন হলে কম খরচে উৎপাদনের পাশাপাশি মানও নিশ্চিত করা যাবে। ভুট্টায় যান্ত্রিকীকরণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভুট্টার সেচ ও লাগানো থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ব্যয় কমাতে পারি। মাছের প্রক্রিয়াকরণেও যান্ত্রিকীরণের সুযোগ আছে।হ্যাচারিগুলোও এখন অনেকটাই ম্যাকানাইজড। গবাদিপশুতে যান্ত্রিকীকরণ প্রাথমিক ধাপে আছে। বিশেষ করে মিল্কিংয়ের জন্য যান্ত্রিকীকরণ খুবই দরকার। দুধ পরিবহনেও যান্ত্রিকীকরণের সুযোগ রয়েছে। পোস্ট-হারভেস্ট লস কমিয়ে আনার জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিভিন্ন শস্যের যে অপচয় হচ্ছে সেটি রোধ করতে হলে কৃষিযন্ত্রের সম্প্রসারণ করতে হবে। 

যান্ত্রিকীকরণে কৃষকের উপকার কি? এতে কি উৎপাদন খরচ কমে?
কৃষি যন্ত্রপাতি এখন অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে। এর কারণ কৃষিতে শ্রমিক সংকট। ফসল রোপণ ও কাটা সময়মতো করতে হয়। তাই যান্ত্রিকীকরণ না হলে কৃষিকাজ করা কঠিন। যন্ত্রের খরচ অনেক কম। তাতে উৎপাদন খরচও কম পড়ে। তরুণদের কৃষিতে আগ্রহী করতে যান্ত্রিকীকরণ জরুরি। এছাড়া কৃষকের মুনাফা বাড়াতে কৃষিযন্ত্রের বিকল্প নেই।

কৃষক ও ভোক্তার স্বার্থ কীভাবে সমন্বয় করা সম্ভব?
কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করেই ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকও ভোক্তা। এ দু’টি শ্রেণির মধ্যে ভারসাম্য আনতে হলে কৃষক পর্যায়ে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে হবে।এজন্য যন্ত্রের ব্যবহার যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি কৃষককে দক্ষ করে তুলতে হবে। কৃষিজ উপকরণের দাম সহনীয় রাখতে পর্যাপ্ত ভর্তুকির ব্যবস্থা রাখতে হবে। উৎপাদন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিপণন ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

 

 

অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অর্থ-বাণিজ্য থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com