ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, শুক্রবার, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১২ শাবান ১৪৪৫ হিঃ

বিশ্বজমিন

যুদ্ধের বর্ষপূর্তিতে বড় আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া

মানবজমিন ডেস্ক

(১ বছর আগে) ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪৪ অপরাহ্ন

mzamin

রাশিয়া এখন একটি বড় ধরণের আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউক্রেন। আগামী ২৪শে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে এই আক্রমণ শুরু হবে। ওই দিন রাশিয়ার সামরিক অভিযানের এক বছর পূর্ণ হবে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেকসি রেজনিকোভ বলেন, মস্কো এখন হাজার হাজার সেনাকে প্রস্তুত করছে এবং নতুন কিছু করার পরিকল্পনা করছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়, আগামী ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার ‘ডিফেন্ডার অব দ্য ফাদারল্যান্ড’ দিবস। এই দিনকে সামনে রেখেও ইউক্রেনে নতুন আক্রমণ শুরু করতে পারে মস্কো। ২০২৩ শুরু হওয়ার পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে স্থির থাকা ফ্রন্টলাইন সচল হয়ে উঠেছে। রুশ সেনারা প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা দখল করছে। গুরুত্বপূর্ণ শহর সোলেদার দখল করেছে। আরেক শহর উগলেদারেও প্রবেশ করেছে রাশিয়ার সেনারা।

বিজ্ঞাপন
ইউক্রেন যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণকারী বলা হচ্ছে দনেতস্কের বাখমুত শহরকে। এই শহরটিরও তিন দিকে ঘিরে ফেলেছে রাশিয়া। তবে ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন এখনও ভেঙে পড়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। অগ্রসর হলেও রাশিয়া যে পরিমাণ সেনা পাঠিয়েছে ইউক্রেনে, তা দিয়ে রাতারাতি শহরের পর শহর দখল করে নেয়া সম্ভব নয়। ইউক্রেনের আশঙ্কা, এই সমস্যা দূর করতে আরও হাজার হাজার সেনা পাঠাতে চলেছে মস্কো। তারা এরইমধ্যে সেই খবর পেয়েছে ইউক্রেনও। 

রেজনিকভ বলেন, মস্কো এই নতুন আক্রমণের জন্য ৫ লাখ সেনা মোতায়েন করবে। গত সেপ্টেম্বর মাসেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তিন লাখ সেনা মোবিলাইজেশনের ঘোষণা দেন। তাদের অর্ধেক এখনও প্রশিক্ষণরত অবস্থায় আছে এবং অল্প সেনারাই ফ্রন্ট লাইনে যুদ্ধ করছে। তবে শীগগিরই এই রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ শেষ হবে এবং তারা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করবে। 

তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলছেন, রাশিয়া উপরে উপরে তিন লাখ বললেও তারা মূলত পাঁচ লাখ সেনা মোবিলাইজ করছে। আমরা যখন সীমান্তের দিকে তাকাই তখন দেখি সেনার সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি। সামনেই বসন্ত কালে শুরু হতে পারে রাশিয়ার এই নতুন আক্রমণ। গত বছরের একই সময় ইউক্রেনের বিশাল ভূখণ্ড দখলে নিয়েছিল রুশ সেনারা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ বলেছে, মস্কো এখন ‘নিষ্পত্তিমূলক’ সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালাতে পারে। 

রেজনিকভ বলেছেন, ইউক্রেন এখন ফ্রন্টলাইন স্থির করার চেষ্টা করছে এবং পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমার বিশ্বাস, ২০২৩ সাল হবে ইউক্রেনের জন্য সামরিক বিজয়ের বছর। সর্বশেষ মাসগুলোতে ইউক্রেনের সেনারা যে উদ্যোম পেয়েছে তা নষ্ট হতে দিতে চান না তিনি। তবে ন্যাটো প্রধান জেন্স স্টল্টেনবার্গ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইউক্রেনে পুতিনের পরিকল্পনা অনেক বড় যা শুধুমাত্র পূর্বাঞ্চলে সামরিক বিজয়ে সীমাবদ্ধ হবে না। রাশিয়া এখন নতুন নতুন অস্ত্র, গোলা পাচ্ছে, উৎপাদন বাড়িয়ে চলেছে তারা। ইরান ও উত্তর কোরিয়া থেকেও অস্ত্র আনছে তারা। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রেসিডেন্ট পুতিন এখনও তার উদ্দেশ্যে কোনো পরিবর্তন আনেননি। তিনি এখনও ইউক্রেনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান। ফলে আমাদের দীর্ঘ সংঘাতের প্রস্তুতি নিতে হবে। 

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে থামাতে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে দ্রুত আধুনিক অস্ত্র চায় ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, রাশিয়ার ‘সন্ত্রাসবাদ’ থামানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে তাদেরকে হারিয়ে দেয়া। এজন্য আমাদের ট্যাংক, যুদ্ধবিমান এবং দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দরকার। সম্প্রতি ইউক্রেনকে আধুনিক ট্যাংক দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও বৃটেন। অন্য ন্যাটো দেশগুলোও একই ধারায় ট্যাংক পাঠাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে যুদ্ধবিমানের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।

বিশ্বজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status