ঢাকা, ১৭ মে ২০২২, মঙ্গলবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

দেশ বিদেশ

এসিডে ঝলসে চোখ হারাচ্ছে শিশু সূর্য

স্টাফ রিপোর্টার
১৪ মে ২০২২, শনিবার

সাড়ে তিন মাসের শিশু সূর্য। এসিডে ঝলছে গেছে পুরো মুখ। হারাতে বসেছে এক চোখের আলো। কি দোষ ছিল তার? এমনই প্রশ্ন সূর্যের মা বীনা রানীর। বগুড়ার গাবতলী থানার তেলিহাতা গ্রামে শিশু সূর্যকে কে বা কারা কেমিক্যালে ঝলসে দিয়েছে। গত ৬ই মে কেমিক্যাল বার্নে দগ্ধ হয়ে শিশু সূর্য তার মা বীনা রানী ও দাদিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও জাতীয় প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধ শিশুর মা বীনা রানী বলেন, শিশুটির মুখমণ্ডল ও চোখ আক্রান্ত হয়েছে। তাকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। 
এর আগে গত ৫ই মে রাতে বগুড়ায় জানালা দিয়ে দুর্বৃত্তের ছোড়া এসিডে ঘুমন্ত অবস্থায় দগ্ধ হয় শিশুসহ পরিবারের তিনজন। পরদিন শুক্রবার তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। গ্রামে নিজেদের বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন তারা

বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে ঘরের জানালা দিয়ে দুর্বৃত্তরা বাইরে থেকে এসিড জাতীয় পদার্থ ছুড়ে মারে।
বীনা রানী বলেন, তিন মাসের সন্তান সূর্য কোলে বসে চিৎকার করে কাঁদছে। ছেলের কান্না দেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আমার ছেলের কি দোষ? কেন আমার শিশু ছেলেকে এসিড মারলো! আমার এবং আমাদের পরিবারের তো কোনো শত্রু নেই। কেউ যদি শত্রুতা করেও এমন করে থাকে- তাহলে আমাকে মারতো। আমার নাবালক সন্তানকে কেন মারলো? শিশুটির বাবা সাগর বলেন, ছেলের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। ওর কান্না এবং কষ্টে বুক ফেটে যায়। আমাদের সঙ্গে জানা মতে কারোর শত্রুতা নেই। বাড়ির সামনে আমাদের কর্মকারের দোকান রয়েছে। আমরা পরিশ্রম করে খাই। দেড় বছর আগে লালমনিরহাটের বীনা রানীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। আমার স্ত্রীরও কোনো শত্রু ছিল না। ঘটনার পর পরই গাবতলী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। আশা করছি, শিগগিরই পুলিশ খুঁজে বের করবে কারা এসিড ছুড়েছে। তিনি বলেন, সূর্যের দাদি দিপালী রানী ও সূর্যকে নিয়ে রাস্তার পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এসিড ছুড়ে মারে। এ সময় আমার আর শাশুড়ির শরীরের কাপড় ছিঁড়ে যায়। তখন সূর্য চিৎকার করে ওঠে। আলো জ্বালিয়ে দেখি, ওর চোখ, মুখ এসিডে ঝলসে গেছে। তখন পাশের কক্ষ থেকে ছুটে আসে সূর্যের বাবা সাগর ও চাচা আনন্দ। দ্রুত সূর্যের চাচা বাইরে দেখতে যায়। কিন্তু সেখানে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই কাজ করে এত দ্রুত কেউ পালাতে পারে না। আমাদের বাড়ির আশেপাশের কেউ এই কাজ করেছে। সেদিন রাতে আমাদের চিৎকারে সর্বপ্রথম সাগরের এক দুঃসম্পর্কের আত্মীয় অজয় আমাদের বাড়িতে আসে। তার বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে একটু দূরে। তার এত দ্রুত আমাদের বাড়িতে আসার কথা না। কিন্তু তার সঙ্গে তো আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। তাই সন্দেহ করতে পারছি না।
শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এসএম আইউব হোসেন বলেন, গত ৬ই মে কেমিক্যাল বার্নে দগ্ধ হয়ে এক শিশু, তার মা ও দাদি ইনস্টিটিউটে এসেছে। শিশুটির মুখমণ্ডল ও চোখ আক্রান্ত হয়েছে। তাকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মা ও দাদির হাত সামান্য ঝলসে গেছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শিশুর অবস্থা আগের থেকে একটু উন্নতির দিকে। ভালোভাবে সুস্থ হতে অনেক সময় লাগবে। দুই চোখই আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ডান চোখে বেশি সমস্যা। শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেলের চক্ষু বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুটিকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। বার্ন ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এসিড সন্ত্রাসের শিকার শিশুটির তিন মাস বয়স। শিশুটির ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। শিশুর ডান চোখ নিয়ে খুবই সন্দিহান। ছোট শিশুর চামড়া খুবই পাতলা। চোখের পাপড়িও ঝলসে গেছে। তবে মুখের দাগগুলো পুরোপুরি সারানো সম্ভব না।

 

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com