ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০২২, সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

দেশ বিদেশ

বিআরটি প্রকল্প

ফ্লাইওভারের একাংশ খুলবে অক্টোবরে

নূরে আলম জিকু
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার

ঢাকা-গাজীপুর রোডে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ। এতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই লেগে থাকছে যানজট। একই সঙ্গে টঙ্গী ব্রিজের কাজ চলমান থাকায় এই পথের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রায় এক যুগ ধরে চলা বিআরটি প্রকল্পে দুর্ভোগ থেকে অবশেষে কিছুটা অবসান পাচ্ছে গাজীপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা। ঢাকা- গাজীপুর রুটে যানজট কমাতে আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের ২ দশমিক ২ কিলোমিটার খুলে দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে সড়ক ও মহাসড়ক। টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে উত্তরা হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত ফ্লাইওভার খুলে দিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ও ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগকে চিঠি দিয়েছে সড়ক বিভাগ। ফ্লাইওভারটি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। বিআরটি কর্তৃপক্ষ উদ্বোধনের সময়সীমা চেয়ে মন্ত্রীর অনুমতি চেয়েছেন। এ ছাড়া আগামী বছরের ডিসেম্বরে ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার বিআরটি প্রকল্পটি পুরোপুরি খুলে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত ফ্লাইওভারের ৬ লেনের মধ্যে দুই লেন আগামী সপ্তাহে চালু হবে। এর ফলে ঢাকামুখী গণপরিবহনগুলো এই অংশ ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে চলাচল করতে পারবে। দীর্ঘদিন টঙ্গী ব্রিজকে কেন্দ্র করে যে যানজট ও দুর্ভোগ সৃষ্টি হতো তার অবসান ঘটবে। 

ফ্লাইওভারটি খুলে দেয়ার আগে সব ধরনের নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ও ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ। ফ্লাইওভার খুলে দেয়ার পর টঙ্গী ব্রিজের কাজ পুরোদমে চলবে।  সে সময় দুই লেনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি অপসারণ করে সেখানে পাঁচ লেনের নতুন সেতু নির্মাণ করবে সেতু বিভাগ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- এতে ঢাকা উত্তরের যানজট অনেকাংশ কমে আসবে। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী মানবজমিনকে বলেন, বিআরটি প্রকল্প চালু করতে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। তবে যানজটের কথা বিবেচনা করে টঙ্গী ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়া ফ্লাইওভারের একাংশ খুলে দেয়া হবে শিগগিরই। এই বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ও ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে আমরা চিঠি দিয়েছি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করবেন। এ জন্য মন্ত্রীর দেয়া সময় অনুযায়ী যেকোনো সময় ফ্লাইওভারটি খুলে দেয়া হবে। আমরা আশা করি ফ্লাইওভারের একাংশ খুলে দেয়া হলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের যানজট কমে আসবে। মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।  জানা যায়, ঢাকা ও গাজীপুর এলাকার যানজট নিরসনে ‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট) অনুমোদন পায় ২০১২ সালের ২০শে নভেম্বর। 

তখন এ প্রজেক্টে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের শেষদিকে কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে ২০২২ সালেও এই কাজ সমাপ্ত হয়নি। গত ১০ বছরে প্রকল্প এগিয়েছে মাত্র ৮০ শতাংশ। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায়। চলতি বছরের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার সংশোধিত সময়কাল নির্ধারণ করা হলেও সেই সময় অতিবাহিত হয়েছে। এখনো প্রায় ২০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। তবে বাকি কাজ শেষ করতে ২০২৩  সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আগামী আরও এক বছরে কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।  রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর। প্রতিদিনই লেগে থাকে তীব্র যানজট। কখনো সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে যানবাহন। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন লাখ লাখ যাত্রী। বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ‘বিআরটি’ প্রকল্পের কাজ চলছে প্রধান সড়কের উপর। মূল সড়কের উপরে ও পাশে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। 

ঘটেছে প্রাণহানিও। এদিকে বিআরটি’র ৪ বছরের প্রকল্প শেষ হয়নি ১০ বছরেও। এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। বিআরটি চালু হলে এর সুফল মিলবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ হচ্ছে না। প্রতিটি প্রকল্পে সময়ক্ষেপণ করে বাজেট বাড়ানো হচ্ছে। ব্যস্ততম সড়কে যেকোনো উন্নয়ন কাজ শুরু হলে মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়ে। তবে বিআরটি’র এ প্রকল্পটি গত ৫/৬ বছর ধরে মানুষকে বেশি ভোগান্তিতে ফেলেছে। অপরিকল্পিতভাবে কাজ চলায় প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। মানা হচ্ছে না নিয়মনীতি। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রকল্পের যথাযথ পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কটি বিআরটি’র জন্য উপযুক্ত নয়। ফলে বিআরটি চালু হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে। তেমন সুফলও মিলবে না।

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status