দেশ বিদেশ
কলাতলীর ইসিএতে লুকোচুরিতে ফের শুরু অবৈধ ভবনের নির্মাণ
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে
২৫ মার্চ ২০২৫, মঙ্গলবারসেন্টমার্টিন ও সোনাদিয়া দ্বীপের ইসিএ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হলেও কক্সবাজারে বিভিন্ন স্থানে দেদারসে চলছে ভবন নির্মাণকাজ। বিশেষ করে পর্যটন জোন খ্যাত কলাতলীর সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ বন্ধের কঠোরতার লক্ষণ নেই। ফলে ইসিএ-তে স্থাপনা নির্মাণে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও তোয়াক্কা করছেন না লোভী ব্যবসায়ীরা। স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান (এসটিপি) বিহীন ভবন নির্মাণ হলেও তাদের পরিবেশ বিধ্বংসী কাজে বাধা দেয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করছে।
লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী ও আশপাশের বেলাভূমি তীরে থেমে থেমে চলা স্থাপনার বিষয়ে ‘উই ক্যান কক্সবাজার’- নামে একটি পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ে গত নভেম্বরে অভিযোগ দেয়। এতে ইসিএ আইন ও এসটিপি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের আন্তরিক কর্মতৎপরতা কামনা করে আবেদন দেয়ার পর কিছুদিন থেমেছিল নির্মাণ কাজ। কিন্তু ২৬শে মার্চ থেকে ঈদের টানা বন্ধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত নির্মাণ সম্পন্ন করতে আবারো তোড়জোড় করে কাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন উই ক্যান নেতৃবৃন্দ। রাতেও এসব স্থাপনায় চলছে নিরবচ্ছিন্ন কাজ। তথ্যমতে, সৈকত এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে ১৯৯৯ সালের ১৯শে এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এ গেজেট অনুযায়ী সৈকতের বেলাভূমির নির্দিষ্ট এলাকায় স্থাপনা নিষিদ্ধ। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা রিটের সূত্র ধরে ইসিএ’তে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এরপরও প্রশাসনকে ম্যানেজ কিংবা ফাঁকি দিয়ে উঠছে দালান।
অপরিকল্পিত স্থাপনা ও ভয়াবহ দূষণের ঝুঁকিতে পড়তে যাওয়া পর্যটন নগরীকে রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে গত নভেম্বরে আবেদন দেয় ‘উই ক্যান কক্সবাজার’- নামে একটি পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন। তারা ইসিএ আইন ও এসটিপি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের আন্তরিক কর্মতৎপরতা কামনা করেন। এটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ভবন নির্মাণকারীরা কিছুদিন হাত গুটিয়ে রাখে। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে আবারো পুরোদমে নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে একাধিক স্থাপনায়। উই ক্যান কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী ওমর ফারুক জয় বলেন, নীল জলরাশির জানালায় নির্মল প্রকৃতি উপভোগে কক্সবাজারে আসেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। অথচ অসচেতনতা ও আইন অমান্যের কারণে দূষিত হচ্ছে এখানকার পরিবেশ। যা পর্যটকদের মাঝে কক্সবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করছে। আগে যেমন-তেমন ভাবে ভবন উঠেগেছে ইসি এলাকায়। কিন্তু পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষার তাগিদে উচ্চ আদালত ইসিএতে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে নির্দেশনা দিলেও প্রশাসনিক নির্লিপ্ততায় তা কার্যকর হচ্ছে না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সভাপতি এইচএম এরশাদ বলেন, ইসিএতে স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞায় গেজেট ও আদালতের নির্দেশনা থাকলেও কলাতলীর ডিভাইন ইকো-রিসোর্টের পূর্বে লাগোয়া এবং মধ্যকলাতলীতে অসংখ্য স্থাপনা উঠছে। গত কয়েক মাস নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকলেও ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিকে টার্গেট করে আবারো ছাদ ঢালাইয়ের তোড়জোড় করছে ডিভাইন এলাকার নির্মিতব্য স্থাপনায়। গত এক-দু’দশক আগে গড়া হোটেলে এসটিপি নেই, কিন্তু প্রশাসনিক তদারকিহীনতায় চলমান সময়ে গড়ে ওঠা অবৈধ এসব স্থাপনাতেও হচ্ছে না এসটিপি। ফলে শহরের পরিবেশ সামনের দিনে আরও দূষিত হবে। ভয়াবহ দূষণে পড়ছে পর্যটন জোনও। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, পরিকল্পিত কক্সবাজার গড়তে মাস্টারপ্ল্যানকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আগে কি হয়েছে জানি না। তবে, এখন পরিচ্ছন্ন কক্সবাজার করতে যা দরকার তা-ই করা হবে। ঈদটা চলে যাক, যারা নির্দেশনা মানছে না- তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।