ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ১ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

দেশ বিদেশ

যে কথা বলতে পারছেন না রুমানা

জাবেদ রহিম বিজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে
২৫ জুলাই ২০২২, সোমবার

অপমানের তীর ছোড়া হয়েছে বারবার। সেই ক্ষতের মধ্যে এলো বদলির আদেশ। এবার বিভাগীয় মামলা, কারণ দর্শাও নোটিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার-ভূমি (এসি-ল্যান্ড) সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক এই বিধি ব্যবস্থা আলোচিত নানা কারণে। 

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে গত ২০শে জুলাই আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হওয়ার তথ্য দেন। এর আগে গত ১২ই মে ওই উপজেলায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহ নির্মাণে ক্রুটি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে সুপারিশ পাঠান। 

এতে ওই উপজেলায় নির্মাণাধীন ১শ’টি গৃহের প্রতিটিতে গ্রেড বিমে নিম্নমানের রড এবং অধিক দূরত্বে রিং ব্যবহার করার মাধ্যমে অনিয়ম ও ত্রুটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়। ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সুপারিশের চিঠিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী, উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম সুমন, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক নিয়োগকৃত উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসাইন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম গৃহ নির্মাণ কাজ যথাযথ তদারকি না করে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতি করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। তবে তাদের কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। ইউএনও এবং এসি-ল্যান্ড বদলি হলেও পিআইও এবং প্রকৌশলীরা নিজনিজ কর্মস্থলেই রয়েছেন এখনো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার চট্টগ্রামের বাঘাইছড়ি এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম  বর্তমানে থানচিতে কর্মরত। 

জেলা প্রশাসনের শীর্ষ এক কর্মকর্তা গত ২৮শে এপ্রিল আখাউড়ায় আশ্রয়ণের ওইসব ঘর নির্মাণ সাইট পরিদর্শন করতে যান। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সে সময় সাততারা, খোলাপাড়া, চানপুর সাইটে চরম অপমানকর আচরণ করা হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি তথা উপজেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন
কর্মকর্তাদের আলাদা আলাদা করে দাঁড় করানো হয়। চানপুরে পিআইও এসি-ল্যান্ড এক সঙ্গে দাঁড়ানো ছিলেন। শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে জেলা থেকে যাওয়া একজন কর্মকর্তা তাদের পাশে দাঁড়ান। এটি দেখে শীর্ষ কর্মকর্তা তার সঙ্গী ওই কর্মকর্তাকে চোরদের পাশে কেন দাঁড়িয়েছে বলে ধমক দিয়ে সরে আসতে বলেন। মোগড়া ইউনিয়নের খোলাপাড়া সাইটে নারী কর্মকর্তার শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করে শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘মোটির ঘরের মোটি।’ তাকে লাথি মারার কথা বলেন। এসি-ল্যান্ড এবং পিআইওকে চোর, দুর্নীতিবাজ এবং ঘুষখোর বলে গালাগাল করেন। এসি-ল্যান্ডের কাছে জানতে চান তার ঘরে এসি আছে কিনা। বলেন, ‘তোর বাপ কী করে।’ ঘটনাস্থলেই জনসম্মুখে এ ধরনের আচরণের পরিসমাপ্তি ঘটেনি, ওই কর্মকর্তার মিলনায়তনে ভরা মিটিংয়ে, অফিস কক্ষে এবং বাংলোতে আপত্তিকর বাক্য প্রয়োগে বারবার অপমান-অপদস্থ করা হয় তাদের। যা শিষ্টাচারের সকল সীমা অতিক্রম করে বলে সূত্রগুলো জানায়। সূত্র জানায়, উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির একটি বৈঠকে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার তার বক্তব্য দেয়ার জন্যে মাইক্রোফোন অন করতে চাইলে সেটি অন হচ্ছিল না। এটি চালু করার জন্য ২-৩ বার চেষ্টার মুহূর্তে শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনার মাইক্রোফোন লাগবে না। এমন ব্যবস্থা করবো সারা বিশ্ব আপনাকে চিনবে। মাইক্রোফোন ছাড়াই বলেন।’ বৈঠক শেষে ওই কর্মকর্তার কক্ষে গেলে আবারো রুমানা আক্তারকে উদ্দেশ্যে করে বলতে থাকেন, বিশ্ব চোর। তার রুমে থাকা বাইরের অফিসারদের (সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী, ফোর লেনের প্রকল্প পরিচালক ও সমাজসেবা কর্মকর্তা) বলেন, ‘চোরের দিকে তাকিয়ে দেখেন।’ এরপর ২৯শে এপ্রিল তার বাংলোতে ডেকে নেন আখাউড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের। সেখানেও এসি-ল্যান্ড এবং পিআইও’র সামনে আরেক দফা অপমান করা হয় রুমানা আক্তারকে। লাথি মেরে গাছে উঠিয়ে দেয়ার কথা বলেন। কর্মকর্তারা পদস্থ কর্মকর্তার এই আচরণ নীরবে সহ্য করেন।

মাদারীপুর জেলা সদরের বাসিন্দা ৩৩ ব্যাচের রুমানা আক্তার আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন ২০২১ সালের ৫ই জুলাই। ১০ মাস ১৭ দিন চাকরির পর গত ২২শে মে বিদায় নেন এখান থেকে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ৬৫৩টি ঘর নির্মিত হচ্ছে আখাউড়ায়। এর মধ্যে ১ম পর্যায়ে ৪৫টি, ২য় পর্যায়ে ৬০৬টি এবং ৩য় পর্যায়ে ২টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। 

আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৬শ’ ঘর নির্মাণের দায়িত্ব ছিল ইউএনও রুমানা আক্তারের কাঁধে। তার যোগ দেয়ার আগে ৫০টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়। তিনি যোগদানের পর ৯টি স্পটে ২শ’ ঘর নির্মাণের কাজে হাত নেন। সবগুলো ঘরের কাজ একসঙ্গে দেখাও দুরূহ ছিল। যখন পরিদর্শনে গেছেন তখন সব ঠিকঠাক পেয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, ঠিকাদাররাই অনিয়ম করেছে। কাজের ফাঁকফোকর ঠিকাদার, পিআইও এবং ইঞ্জিনিয়ারই ভালো বোঝেন। রড বা রিং কোথায় কতো গ্যাপে হবে সেটি অন্যদের ধরার সুযোগ নেই। আর রডের বিমগুলো ঢালাই করা হয়েছে বিকালে বা সন্ধ্যার পর। ইউএনও’র বদলির খবরে আখাউড়ার সবশ্রেণির মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বাবুল তার ফেসবুকে পোস্টে বলেন, ‘জনবান্ধব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তারের বদলিতে আখাউড়াবাসী অত্যন্ত ব্যথিত ও দুঃখিত। উনি উপজেলাবাসীর জন্যে মনেপ্রাণে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সততা নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে বহু জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।’ জেলায় প্রথম পর্যায়ে ১০৯১টি ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ২য় পর্যায়ে ৩ হাজার ঘরের কাজ হাতে নেয়া হলেও সম্পন্ন হয় মাত্র ১৪৫২টি। আর তৃতীয় পর্যায়ের ১৭৩৯টি ঘরের মধ্যে ১১৯৯টি ঘরের উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলায় ঘর নির্মাণ কাজ চললেও শুধু আখাউড়াতে মাননিয়ন্ত্রণ যেভাবে দেখা হয়েছে অন্য কোথাও সেভাবে দেখা হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে। ব্যক্তি আক্রোশ এখানে কাজ করছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নারী কর্মকর্তাকে গৃহিণী বানিয়ে দেয়ার মন্তব্যও করেছেন ওই শীর্ষ কর্মকর্তা। এ বিষয়ে জানার জন্য জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফ আহমেদ রাসেলের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। 
 

পাঠকের মতামত

জেলার এই শির্ষ কর্মকর্তা যে অশালিন, অভদ্র ভাষা ব্যবহার করেন এটা সবারই জানা আছে কিন্রু কেউ বলে না। @Rajib khondokar সাহস করে মানবজমিন পাঠকের কাছে তুলে ধরল। হাত লম্বা করে ধন্যবাদ জানাই।

জাকির
২৭ জুলাই ২০২২, বুধবার, ৩:০৬ পূর্বাহ্ন

সম্প্রতি হাইকোর্ট একজন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন, তার ভাষা একজন মাস্তানের চেয়েও খারাপ। কিন্তু এই জেলার শির্ষ কর্মকর্তার ভাষার কাছে তো মাস্তানের ভাষা দুধভাত।

Rajib khondokar
২৭ জুলাই ২০২২, বুধবার, ২:২৩ পূর্বাহ্ন

এই শীর্ষ কর্মকর্তার (পদ কি বুঝতে পারছি না) মত আমলারাই ডুবিয়েছে দেশকে।

rasel
২৭ জুলাই ২০২২, বুধবার, ১:৩০ পূর্বাহ্ন

ওই শীর্ষ কর্মকর্তার যে আচরণ, ভাষা এটা কোন কর্মকর্তার দূরের কথা মানুষের হতে পারে না। এই কর্মকর্তার স্বপদে থাকাটা দেশের জন্য বিপদজনক!

শামসির খান
২৬ জুলাই ২০২২, মঙ্গলবার, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

যে কোন প্রকল্পের তদারকি বা মান ঠিক রাখার দয়ীত্বে থাকে প্রকৌশলী এবং তার বিভাগের কর্মচারী । কিন্তু এখানে তাদের জিজ্ঞেস করা উচিত নয় কি? তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করছি

মাহমুদ
২৬ জুলাই ২০২২, মঙ্গলবার, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

ওই শীর্ষ কর্মকর্তাকেও বিচারের আওতায় আনা হোক।

মতিন আহমেদ
২৫ জুলাই ২০২২, সোমবার, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

আচ্ছা যারা ঠিকাদার ছিল তাদের কিছু হল না কেন?

.
২৪ জুলাই ২০২২, রবিবার, ১১:৫৫ অপরাহ্ন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে সারাদেশে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আখাউড়া উপজেলা ঘর নির্মান কাজের দ্বায়িত্ব অবহেলার জন্য ইউএনও ও এসিল্যান্ড এই দুই অফিসারকে বদলি করা হয়েছে! আখাউড়ার জ্ঞানী গুণী ও বিভিন্ন মাধ্যমের লেখকদের নিকট আমার কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানার খুব ইচ্ছে হয়, ১. এসব ঘর নির্মানে কাজ গুলো যারা করছে বা যে ঠিকাদাররা কাজের মান খারাপ করেছে উনাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্হা নেওয়া হয়েছে কিনা? ২. মাঠ পর্যায়ে যাদের কাজের তদারকি করার দ্বায়িত্ব ছিল সহকারী প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) এবং এই কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্হা নেওয়া হয়নি কেন? ৩. একজন ইউএনও ও এসিল্যান্ড ২-৩শত ঘর নির্মানের সময় প্রতিটি ঘরের সামনে বসে থাকার সময় সুযোগ কি আছে? উনারা যদি এই কাজে সারাক্ষণ বসে থাকে তাহলে অন্যঅন্য উপজেলার বিভিন্ন সেবা থেকে কি জনগণ বঞ্চিত হবে না? দ্বায়িত্ব যদি শুধু ইউএনও ও এসিল্যান্ড এর হয়ে থাকে তাহলে জেলা থেকে অফিস আদেশের মাধ্যমে মাঠে পর্যায়ে কাজের মান তদারকি করার জন্য কেন ইঞ্জিনিয়ারকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল? ৪. ইউএনও ও এসিল্যান্ড এর দ্বায়িত্ব অবহেলা হয়ে থাকলে অন্যদের কি ছিল না চরম দ্বায়িত্ব অবহেলা ? আইন কি সবার জন্য সমান নয়? ৫. কোন অনিয়মের সঠিক তদন্ত করতে হলে নিজ দপ্তরের তদন্তের বাইরে বিচারিক তদন্ত বা অন্য কোন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করলে কি প্রকৃত সঠিক ঘটনাটি আরো বেশী বেড়িয়ে আসতো না? ৬. ঘর নির্মানের জন্য ক্রয়কৃত একটি জায়গায় উচু নিচু টিলা থাকায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ঘর নির্মানের উপযোগী করে সমতল করে দেওয়ার জন্য। সেখানে তারা মাটি কাটতে গিয়ে কিছু অংশে গর্ত করে ফেলেছিল তা ইউএনও এর দৃষ্টিতে আসার পর সমতলের কাজ উনি নিজেই বন্ধ করে দেয় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সেই গুলো পুনরায় সংস্কার করার জন্য নির্দেশ দেয়। কয়েক দিন পর সে জায়গায় সংস্কার কাজ শুরু হলে ডিসি অফিস থেকে এসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়! এখানে ইউএনও এসিল্যন্ড এর কি দোষ ছিল? এছাড়া সংস্কারের সময় কেন জরিমানা! ৭. অপরদিকে ঘর নির্মান কাজের যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা তখনই পূণরায় সংস্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং মেরামত করা হয়েছে। টাকার বিষয়ে যারা না বুঝে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দোষারোপ করছেন, আপনাদের জানা থাকা দরকার ঘর নির্মান সমাপ্ত না হলে এই টাকা উত্তোলন করার কোন সুযোগ নাই। এরপরও বলেছি তাদের যদি দূর্নীতি বা দ্বায়িত্বের অবহেলা হয়ে থাকে তাহলে দূর্নীতি নামক গাছের মাঝ থেকে কেটে নয়, নির্মূল করলে দূর্নীতি নামক সম্পূর্ণ গাছটি তুলে ফেলতে হবে। এই কাজে যারা জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে আর কবে ব্যবস্হা নেওয়া হবে সেটি দেখার অপেক্ষা রইলাম। আর একই অপরাধে বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা কেন আগে পরে হবে? ঘর নির্মান নিয়ে আমাদের বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামতা ও লেখালেখি দেখেছি। কেউ তেল মেরেছে ছোট কর্তার, কেউ মেরেছে বড় কর্তার! কেউ মেরেছে দলীয় নেতার! অন্যদিকে অনেকে চোর বলে অভিযুক্ত করেছে এক জনপ্রতিনিধিকে! এই ঘর নির্মান কাজে লেখালেখি করে আসলে আমরা কে কাকে খুশি করছি? উচিত কথা বলার মানুষ এখন খোঁজে পাওয়া বড় কঠিন! এই বিষয়ে লেখা আপলোড করার ইচ্ছে ছিল না। আমার আপলোড করা ভিডিওটি নাকি একটি পক্ষের হয়েছে, তাই না বলা কথা গুলো পরিস্কার করে দিলাম। বুঝলে বুঝ পাতা না বুঝলে তেজ পাতা! মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগ। ০১৭১১৯৭৯০১১

Mohammad Shariful Is
২৪ জুলাই ২০২২, রবিবার, ১১:২৫ অপরাহ্ন

আসলে সাবেক ইউএনও মহোদয়ের ও দায়িত্ব ছিলো সঠিকভাবে কাজের তদারকি করা। আমরা প্রায়শই দেখি সরকারি বিভিন্ন কাজে ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদাররা মিলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সেক্ষেত্রে অবশ্যই দায়িত্বশীল হওয়ায় ইউএনও কে কাজের মান যাচাই করা দরকার ছিলো!! আর প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাজের গাফিলতির জন্য তার অধস্তনদের সাথে ঘৃণ্য আচরণ করতে পারেন না।অবশ্যই তার-ও শাস্তি হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

সৈয়দ ফারুক হাসান ফুয়
২৪ জুলাই ২০২২, রবিবার, ১০:৫২ অপরাহ্ন

যেই কর্মকর্তা অসভ্য আচরণ করেছেন উনি নিজে জানেন কি কাজ সঠিক হচ্ছে কি না সেটা দেখার দায়িত্ব মূলত সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর আর প্রকল্প প্রধান তত্ত্বাবধান করবেন অন্যান্যরা ঠিকভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করছেন কি না। এক্ষেত্রে অপরাধ করেছে প্রকৌশলী এবং ঠিকাদার,ঠিকাদারকে কি কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে নেয়া হয়েছে কোনো ব্যাবস্থা? নিশ্চয়ই না,আখাউড়া বলে কথা। সর্বোপরি ঐ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করেছেন তারও শাস্তি পাওয়া উচিত। ইউএনও র উচিত ঐ উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া।

Ad Swapan
২৪ জুলাই ২০২২, রবিবার, ৯:৩৪ অপরাহ্ন

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status