ঢাকা, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, মঙ্গলবার, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

অর্থ-বাণিজ্য

সোনা-রূপা বিক্রিতে ভ্যাট কমানোর দাবি বাজুসের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

(২ সপ্তাহ আগে) ৩ এপ্রিল ২০২৪, বুধবার, ৭:৩৪ অপরাহ্ন

mzamin

সোনা ও রূপা এবং সোনা-রূপার অংলকার বিক্রির ক্ষেত্রে ভ্যাট হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে সোনা খাত থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আহরণ করতে পারবে। একইসঙ্গ বাজেট উপলক্ষে আরও ১৪টি দাবি জানিয়েছে সোনা ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটি।

বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে বাজুস কার্যালয়ে আয়োজিত প্রাক-বাজেট (২০২৪-২৫) সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায়, বাজুসের উপদেষ্টা রুহুল আমিন রাসেল, বাজুসের সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান, বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশনের চেয়ারম্যান ও কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশনের সদস্য সচিব ও কার্যনির্বাহী সদস্য পবন কুমার আগরওয়াল, বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপন্টের সদস্য সচিব তাসনিম নাজ মোনা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাজুসের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশনের চেয়ারম্যান ও কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে জুয়েলারি ব্যবসার ক্ষেত্রে সোনা, সোনার অলংকার, রূপা বা রূপার অলংকার বিক্রির ক্ষেত্রে আরোপিত ভ্যাট হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হোক। এতে সোনা খাত থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পারবে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের বিনিময় মূল্যের কারণে ১১.৬৬৪ গ্রাম (১ ভরি) সোনার অলংকার কিনতে ভ্যাট ও মজুরিসহ ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৫০ টাকা লাগে। তিনি বলেন, ভারতে এই খাতে ৩ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। বাংলাদেশের অলংকার শিল্পের অপার সম্ভাবনা আছে। ভ্যাট আহরণে আগামী দিনে সরকারের একটি বড় খাত হতে পারে জুয়েলারি শিল্প। এক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছে সহনীয় আকারে ভ্যাট নির্ধারণ করা জরুরি।

এছাড়া দেশে বছরে ৭৩ হাজার কোটি টাকার সোনা চোরাচালান হয় বলে জানিয়েছে বাজুস।

বিজ্ঞাপন
চোরাচালান এবং অতিরিক্ত করের জন্য প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার স্থানীয় সোনার বাজার দেশের অর্থনীতিতে যথাযথ অবদান রাখতে পারছে না বলেও মনে করে সংগঠনটি।
সোনা পরিশোধনাগার শিল্প এবং সোনার অলংকার জন্য আমদানি করা কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতিতে ১০ বছরের জন্য কর অবকাশের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে বাজুস আরও যেসব দাবি উপস্থাপন করে সেগুলো হলো, যত দ্রুত সম্ভব নিবন্ধন করা সব জুয়েলারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন বিতরণ করতে হবে। অপরিশোধিত স্বর্ণ আকরিকের ক্ষেত্রে আরোপিত সিডি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে আমদানি শুল্ক শর্তসাপেক্ষে আইআরসি-ধারী এবং ভ্যাট কমপ্লায়েন্ট শিল্পের ক্ষেত্রে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শুধু জুয়েলারি খাতের জন্যে রেয়াতি হারে ১ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে। আংশিক পরিশোধিত সোনার ক্ষেত্রে সিডি ১০ শতাংশের পরিবর্তে আইআরসি ধারী এবং ভ্যাট কমপ্লায়েন্ট শিল্পের জন্য শুল্ক হার ৫ শতাংশ করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সোনা পরিশোধনাগার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে সোনার বর্জ্য ব্যবহারের জন্য প্রস্তাবিত শুল্ক হার সিডি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করতে হবে। সেই সঙ্গে বর্তমানে বলবৎ থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ এটি এবং ৫ শতাংশ এআইটি রহিত করতে হবে। হীরা কাটিং এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান দ্বারা আমদানি করা রাফ ডায়মন্ডের সিডি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করতে হবে, এসডি ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্যে নিয়ে আসতে হবে, ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করতে হবে, এটি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করতে হবে। সেই সঙ্গে ৫ শতাংশ এআইটি এবং ৩ শতাংশ আরডি রহিত করতে হবে।

ল্যাব গ্রাউন ডায়মন্ডের সিডি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং এটি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সেইসঙ্গে বৈধপথে মসৃন হীরা আমদানিতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান দ্বারা আমদানি করা মসৃন হীরা ৪০ শতাংশ ভ্যালু এডিশন করার শর্তে এসডি ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

বৈধভাবে সোনার বার, সোনার অলংকার, সোনার কয়েন রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে কমপক্ষে ২০ শতাংশ ভ্যালু এডিশন করা শর্তে রপ্তানিকারকদের মোট ভ্যালু এডিশনের ৫০ শতাংশ আর্থিক প্রণোদনা দেয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সেই সঙ্গে এইচএস কোর্ডভিত্তিক অস্বাভাবিক শুল্ক হার হ্রাস করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে শুল্ক হার সমন্বয়সহ এসআরও সুবিধা প্রদান করার দাবি তাদের।

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০২২ ধারা-১২৬ক অর্থ আইন, ২০১৯ (২০১৯ সালের ১০নং আইন) এর ১০২ ধারাবলে, চোরাচালান প্রতিরোধ করতে গিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষসহ সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উদ্ধার করা সোনার মোট পরিমাণের ২৫ শতাংশ উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যদের পুরস্কার হিসেবে দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাজুস।

বাজুস জানায়, অসম শুল্ক-কর কাঠামো, প্রাথমিক কাঁচামাল ও মেশিনারিজ আমদানিতে কালক্ষেপণ ও অতিরিক্ত শুল্ক ব্যয়, সঠিক নীতিমালার অভাব এই খাতকে দেশীয় অর্থনীতি থেকে পেছনে ঠেলে দিচ্ছে। এসব বিবেচনা করে বাজুস প্রাক বাজেট আলোচনায় প্রস্তাবগুলো দিয়েছে।

পাঠকের মতামত

এক কিলো চিনিতে যেখানে ভোক্তা ৬৭৳ ভ্যাট দিচ্ছে সেখানে স্বর্ণে ৫% ভ্যাট দিতে সমস্যা কোথায়। তাছাড়া স্বর্ণ কোন নিত্যপণ্য নয়।

মিলন আজাদ
৪ এপ্রিল ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

অর্থ-বাণিজ্য সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status