ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৯ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

বিশ্বজমিন

গণতন্ত্রের দাবিতে উত্তাল সুদান, পুলিশের গুলিতে নিহত ৯

মানবজমিন ডেস্ক

(১ মাস আগে) ১ জুলাই ২০২২, শুক্রবার, ৭:২৩ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

গণতন্ত্রের দাবিতে উত্তাল সুদান। আফ্রিকার দেশটিতে রাস্তায় নেমে এসেছে লাখো মানুষ। বিক্ষোভ থামাতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের উপরে গুলি চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। এতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে ৭ জনকেই বুকে ও মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে সামরিক অভ্যুত্থানের পর এ ধরনের আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের গুলির মধ্য দিয়ে এ নিয়ে দেশটিতে মোট ১১১ গণতন্ত্রপন্থি নিহত হলো। এ খবর দিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
রাজধানী খার্তুম, ওমদুরমানসহ বেশ কয়েকটি শহরের রাজপথে হাজার হাজার মানুষ আন্দোলন করছেন। সেনাশাসকের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন তারা। টায়ার জ্বালিয়ে ও পাথর দিয়ে অবরোধ করছেন সড়ক।

বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার খার্তুমে বিশাল র‌্যালি নিয়ে প্রেসিডেন্টের বাসভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। এ সময়ই নির্বিচারে গুলি চলে তাদের উপরে। নিহতদের মধ্যে একজন কিশোরও রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
সুদানের বিভিন্ন অংশ থেকেই সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক মাসের মধ্যে এবারই সবথেকে বড় বিক্ষোভ দেখা গেলো সেখানে। তবে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বাধার মুখে পড়েন তারা। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিক্ষেপ করা হয় জলকামান, টিয়ার গ্যাস ও ফাঁকা গুলি। এতে ওমদুরমান শহরে ৪ জন, খার্তুমে ১ জন ও বাহরি শহরে ২ জন প্রাণ হারান। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে অনেকে। ঘটনার পরপরই দেশজুড়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ বিছিন্ন করে দেয়া হয়। বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় শহরের সংযোগ সড়কও বন্ধ করে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, আহতদের যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেখানেও টিয়ার গ্যাস হামলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আন্দোলনকারীরা রাজধানীতে জরো হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের থামাতে রাজধানীর সংযোগ সেতুগুলোতে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। সেখানেও সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। 
সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুতদের দলগুলো এক হয়ে ‘ফোর্সেস ফর ফ্রিডম এন্ড চেঞ্জ’ নামের একটি সংগঠন তৈরি করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে চায়। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ক্ষমতা দখল করে সেনা শাসনের অবসান ঘটানো। বৃহস্পতিবারের সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, প্রয়োজনে আমরা মরে যাব কিন্তু সেনাবাহিনীকে আমাদের শাসন করতে দেব না। 
১৯৮৯ সালের ৩০ জুন এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সুদানের ক্ষমতায় এসেছিল স্বৈরশাসক ওমর আল-বশির। এরপর দীর্ঘ তিন দশক তিনি সুদানের শাসক ছিলেন। সেই দিনকে মাথায় রেখেই ৩০ জুন দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। 
এদিকে অনলাইনে সরকারবিরোধী জনমত রুখতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে সুদানের সামরিক সরকার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি বেসরকারি টেলিকম কোম্পানি জানিয়েছে, তাদেরকে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এমনকি সুদানের অভ্যন্তরে ফোনালাপও করা যাচ্ছে না। এরমধ্যেই বিশাল সমাবেশের ডাক দেয় আন্দোলনকারীরা। 
সুদানের পরস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘের প্রতিনিধি ভল্কার পার্থেস সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান। অপরদিকে খার্তুমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে বেসামরিক নাগরিকের জীবন রক্ষার আহ্বান জানানো হয়।

বিশ্বজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বিশ্বজমিন থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশি আরও ৪ এজেন্সিকে অনুমোদনের সুপারিশ/ মালয়েশিয়ার মন্ত্রী বললেন- প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধেও কাজ হবে না

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status