ঢাকা, ২৪ জুন ২০২৪, সোমবার, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

ফুটবল বিশ্বকাপ

‘ছেলেটির আশপাশে শীর্ষ ক্লাবগুলো ঘোরাফেরা করবে এখন’

স্পোর্টস ডেস্ক
২০ ডিসেম্বর ২০২২, মঙ্গলবারmzamin

১৭ই জানুয়ারি ২০০১। মার্তা ও রাউল দম্পতির কোল আলোকিত করলো আরেকটি সন্তান। অভাবের সংসার। দিন আনতে পান্তা ফুরোয়। রাউল রং মিস্ত্রি। পেইন্টিং করে যা পান তাতে চলে না। মার্তা ক্লিনারের কাজ করেন। তারপরও আনন্দের উপলক্ষ পেলেন এই দম্পতি। রিভারপ্লেটের পাড়ভক্ত রাউলের প্রিয় খেলোয়াড় এনজো ফ্রান্সেসকোলি। তিনবারের কোপাজয়ী উরুগুইয়ান ফুটবলার ফ্রান্সেসকোলির সঙ্গে মিল রেখে তিনি সন্তানের নাম রাখলেন ‘এনজো ফার্নান্দেজ’।

বিজ্ঞাপন
সেই এনজো একুশ পেরিয়ে সবচেয়ে বড় উপহার এনে দিলেন পরিবারকে। আর্জেন্টিনাকে জেতালেন বিশ্বকাপ। সঙ্গে জিতলেন টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের খেতাব।
আশি ও নব্বইয়ের দশকে রিভারপ্লেটের হয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ফ্রান্সেসকোলি। এনজোর পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরুটাও সেখানেই। তবে ফুটবলের হাতেখড়িটা পারিবারিকভাবে। চার ভাইয়ের সঙ্গে খেলতে শুরু করেন এনজো। পাঁচ বছরে পা দেওয়ার আগেই স্থানীয় ক্লাব লা রেকোভা ডি সান মার্টিনে আলাদাভাবে নিজেকে চেনাতে সক্ষম হন তিনি। রিভারপ্লেটের স্কাউট পাবলো এস্কুইভেল প্রতিভার খোঁজে এসেছিলেন সান মার্টিনে। তার নজরে পড়েন এনজো। এস্কুইভেল বুঝেছিলেন এই ছেলেকে দিয়ে কিছু একটা হবে। ২০০৬ সালে রিভারপ্লেটে নাম লেখান এনজো। সেখানে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে চলতে থাকে তার প্রশিক্ষণ। ২০১৯ সালে মূল দলে অভিষেকের তিনবছর পর এনজোর নতুন ঠিকানা হয় পর্তুগালের বেনফিকা। তবে আগামী দলবদলেই হয়তো বড় কোনো ক্লাবে দেখা যেতে পারে এই মিডফিল্ডারকে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে উদীয়মান খেলোয়াড়দের মধ্যে আলোচনায় ছিলেন জুড বেলিংহাম, অরেলিয়েন চুয়ামেনি, জামাল মুসিয়ালা, গাভি, পেদ্রি, ভিনিসিউসরা। এনজোর সতীর্থ হুলিয়ান আলভারেজকেও নিয়ে কথা হয়েছে। আলভারেজ ৪ গোল করে আর্জেন্টিনাকে কাপ জিতিয়েছেন। ৭ ম্যাচে এনজোর গোল মাত্র একটি। কিন্তু মাঝমাঠে তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনা দলে এনে দেয় দারুণ ভারসাম্য। যার প্রভাব দেখা গেছে প্রতিটি ম্যাচেই।
এনজোকে নিয়ে সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা পাবলো জাবালেতা বলেন, ‘এনজো তার ব্যক্তিত্ব ও ক্লাস দেখিয়েছে। আমার মনে হয়, পরের গ্রীষ্মে সে আরও ভালো কোনো লীগে খেলবে। পরিপূর্ণ একজন মিডফিল্ডার। ট্যাকেল ভালো, বলে দক্ষ এবং পাসে কার্যকর।’ বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচে প্রায় ৮৯ শতাংশ সঠিক পাস দিয়েছেন এনজো। প্রতিপক্ষের অর্ধে তার একিউরেসি রেট ৮৪%। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা রিও ফান্ডিনান্ড এনজোর প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘তার আশপাশে শীর্ষ ক্লাবগুলো ঘোরাফেরা করবে এখন। এতটুকু বয়সী ছেলে এমন দারুণ ছন্দ দেখালো!’
২১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের বর্তমান মার্কেট ভ্যালু ৩৫ মিলিয়ন ইউরো। বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান তারকা হওয়ার পর তার দাম কোথায় গিয়ে ঠেকে সেটা বলা মুশকিল। শোনা যাচ্ছে, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি ও রিয়াল মাদ্রিদ এনজোকে পেতে রেসে নেমেছে। কাতারের সেরা আবিষ্কার এনজো শিগগিরই শীর্ষ কোনো ক্লাবে যোগ দেবেন। জীবন ধারা পাল্টে যাবে আরও। অথচ একটা সময় অর্থের অভাবে খেলাই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। ঘুরে দাঁড়ানোর এক একটি গল্প বোধহয় এভাবেই লিখে ফুটবল!

 

ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে আরও পড়ুন

   

ফুটবল বিশ্বকাপ সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status