ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২৪, শনিবার, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ মহরম ১৪৪৬ হিঃ

বিশ্বকাপ ম্যাগাজিন

সাম্বার দেশে বিশ্বকাপ: আনন্দ-বেদনার কাব্য

পরাগ আরমান, স্পোর্টস এডিটর, এটিএন বাংলা

(১ বছর আগে) ১৪ নভেম্বর ২০২২, সোমবার, ৫:৫৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৪:০০ অপরাহ্ন

mzamin

একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের চিরকালের আরাধ্য হলো বিশ্বকাপ কাভার করা। আর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল হলে তো কথাই নেই। সবার আগে লুফে নেবেন প্রস্তাব। বিশ্বকাপের বিশ্বমঞ্চে অন্তত একবার না গেলে বুঝাই যাবে না বিশ্বকাপের আবেদন। বিশ্বকাপ ফুটবলের মর্মার্থ। ব্রাজিলে বিশ্বকাপ! সব সময়ে মেলে না, মেলানো যায়ওনা। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে বিশ্বকাপের প্রথম আসর বসেছিল। বিশ্বকাপের স্বাগতিকের মর্যাদা পেতে ব্রাজিলের লেগেছিল পুরো ২০ বছর। এরমধ্যে অবশ্য ভালো দলের টাইটেল নামের সঙ্গে জুড়ে গেলেও বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা ছিল অধরাই। তখনো ব্রাজিল ভালো দল কিন্তু ট্রফি জেতা দল নয়।

বিজ্ঞাপন
তারা দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলে, মাঠের শিল্পের পসরা বসায়। কিন্তু গোল পায় না। তাদের ফুটবল শৈলী দর্শককে মুগ্ধ করে ঠিকই, দেশকে বিশ্বসেরার কোনো স্বীকৃতি এনে দেয় না। ব্রাজিলকে সবাই প্রতিভাবান আর সামর্থ্যবান দলের মর্যাদা দেন। ট্রফি জিততে না পারায় থাকেন সমালোচনামুখর। বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে আরও সময় লেগেছিল সাম্বার দেশের। 

 

 

১৯৩০ সালে উরুগুয়ে বিশ্বকাপে তো ব্রাজিল প্রথম রাউন্ডেই বিদায় হয়ে যায়। গ্রুপ পর্বের বাধাই পেরুতে পারেনি তারা। প্রথম ম্যাচে যুগোশ্লাভিয়ার কাছে হারই তাদেরকে বিদায় ঘণ্টা বাজায়। দ্বিতীয় ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে পরাজিত করলেও গ্রুপ পর্বের হার্ডলেই থমকে যায় সেলেসাওদের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান। ওই গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বের টিকিট পেয়েছিল যুগোশ্লাভিয়া। ১৯৩৪ সালে ইটালি বিশ্বকাপেও প্রথম পর্বেই থামে ব্রাজিল। এবার স্পেনে কাটা পড়ে তারা। ১৯৩৮ সালে ফ্রান্সে ১৬ দলের বিশ্বকাপ ফুটবলে তৃতীয় হয়েছিল ব্রাজিল। সেবার তারা স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সুইডেনকে পরাজিত করেছিল। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপ আয়োজনে বিঘœ। মাঝখান থেকে দু’টি বিশ্বকাপ উধাও। যুদ্ধের ভয়াবহতায় বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা কেউ চিন্তাও করেনি। ১৯৫০ বিশ্বকাপের চতুর্থ আসর। স্বাগতিক ব্রাজিল। নিজ দেশে বিশ্বকাপ জেতার সব আয়োজনই ঠিক ছিল ব্রাজিলের। টুর্নামেন্ট জুড়ে বরাবরের মতো দারুণ নৈপুণ্যও দেখায় তারা। চার দলের ফাইনাল লিগে, শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে জয় তো বটেই, ড্র করলেও চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আনন্দ-আয়োজন সম্পন্ন করে রাখে ব্রাজিল। শিরোপা উল্লাস করাটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। এমন সমীকরণের ম্যাচে, প্রথমে এগিয়ে থেকেও ২-১ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। আনন্দ নয়, কান্নাই সম্বল হয় সেলেসাওদের। সেই দুঃখ এখনো ভুলতে পারেনি তারা। ‘মারাকানা জো’ এখনো দুঃখের নদী হয়ে বয়ে বেরায় ব্রাজিলিয়ানদের মনে।

ধান ভানতে শিবের গীত হয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে আবারো বিশ্বকাপের আয়োজক হয়েছিল ব্রাজিল। পুরো ৬৪ বছর পর আবারো বিশ্বকাপের আসর বসেছিল সাম্বার দেশ ব্রাজিলে। আগেই বলা হয়েছে, একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের আরাধ্য থাকে বিশ্বকাপ কাভার করা। ব্রাজিল বিশ্বকাপ কাভার করার পরিকল্পনা হয়ে যায় ২০০৬ সালেই। বাকি ছিল শুধু ক্ষণগণনা। যে করেই হোক, ব্রাজিলে বিশ্বকাপ ফুটবল কাভার করা লাগবেই যেন ধনুর্ভঙ্গ পণ। কী কারণে এই ধনুর্ভঙ্গ পণ, সে আরেক গল্প অন্য একদিন করা যাবে। তবে ব্রাজিল আর বিশ্বকাপ চাইলেই যেকোনো দিন মেলানো যাবে না। ব্রাজিলে হয়তো যাওযা যাবে। কিংবা ব্রাজিল হয়তো বিশ্বকাপের হেক্সাও জিতে ফেলবে। কিন্তু তারা বিশ্বকাপের স্বাগতিক হবে আবার কবে! তখন কি আর জীবিত থাকবো? নাকি জীবিত থাকলেও কি, ব্রাজিল বিশ্বকাপ কাভার করার মতো শক্তি-সামর্থ্য, মন-মানসিকতা থাকবে? সম্ভবের চেয়ে এক্ষেত্রে অসম্ভবের পাল্লাটাই বেশি। তাছাড়া এমনিতেই ৬৪ বছর পর স্বাগতিক হয়েছে ব্রাজিল। ততদিন আর বেঁচে থাকা বোধহয় সম্ভব নয়। বাস্তবতা অন্তত: সেটাই বলে। যাই হোক না কেন, সাম্বার দেশ ব্রাজিল আর বিশ্বকাপের স্বাগতিকতা পাওয়াটা আর দেখে যাওয়া হবে না। এই সব বিবেচনায় তাই অনেক আগেই ব্রাজিল বিশ্বকাপ কাভার করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আর এই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করেছিল আমার কর্মস্থান এটিএন বাংলা এবং আমাদের ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি (বিএসপিএ)। স্বপ্নপূরণে এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছেই অশেষ কৃতজ্ঞতা আমার। 

ব্রাজিলে ছিল বিশ্বকাপের ২০তম আসর। দক্ষিণ আমেরিকায় পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ আসর বসেছিল। ৩১টি দেশ বাছাইপর্ব পেরিয়ে এসে স্বাগতিক ব্রাজিলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামে, ১২ই জুন থেকে ১৩ই জুলাই পর্যন্ত। বিশ্বকাপের ৬৪টি ম্যাচ হয়েছিল ১২টি শহরে। ব্রাজিলের যতো নামিদামি ফুটবলার তাদের বেশির ভাগেরই জন্ম সাও পাওলোতে। তবে স্থানীয়রা এর উচ্চারণ করে ‘সাম্পাওলো’ বলে। কিছুই চিনি না জানিও না তেমন ব্রাজিল সম্পর্কে। তবে বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য ‘বেস ক্যাম্প’ বানালাম সেই সাম্পাওলোকেই। এই শহরেই সবকিছু রেখে অন্য শহরে ছোট্ট একটি লাগেজ নিয়ে শুধু নিউজ কাভার করা। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাইরে কিছুই না। যেগুলো না হলে নয়, শুধু সেগুলোই সঙ্গে নেয়া। বাকি সব হোটেলের স্টোর রুমে জমা রেখে চলে যাওয়া। অবশ্য সাও পাওলো যেয়ে শুরুতে দুটো দিন থেকেছিলাম বাঙালিদের বাসায়। নানাবিধ কারণে আর তাদের ওখানে দু’দিনের বেশি থাকা হয়ে ওঠেনি। সোজা হোটেলে উঠি গিয়ে। আসার সময় বলে এসেছিলাম, অফিস কোনো বাসায় থাকতে দিতে চায় না। তবে সুমন ভাই খুব অভিমান করেছিলেন। তারা আত্মার আত্মীয় হয়ে উঠেছিলেন মাত্র দু’দিনেই। অবশ্য বাংলাদেশে ফেরত এসেও যোগাযোগটা ছিল তাদের সঙ্গে।

স্বাগতিকদের সাত গোল খাওয়াকেই ব্রাজিল বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা কিংবা অঘটন মনে করে থাকেন সবাই। গোল খাওয়া কিংবা দেয়া- এটা তো খেলার অংশই। আমার মনেহয় প্রযুক্তির ব্যবহার ব্রাজিল বিশ্বকাপকে সবচেয়ে আলাদাভাবে চিহ্নিত করবে। ভূতুরে গোল এড়াতে এই বিশ্বকাপেই প্রথম ব্যবহার করা হয় গোললাইন টেকনোলজি। অবশ্য ২০১৩ সালে কনফেডারেশন্স কাপে এই টেকনোলজির সফল ব্যবহার বিশ্বকাপে অনুপ্রাণিত করে। গোললাইন বরাবর ৭টি ক্যামেরা বসানো, যাতে পুঙ্খানুপুঙ্খ ধরা পড়বে বলের গতিবিধি। আর সাতটি ক্যামেরা বসানো ছিল বিভিন্ন কোণে। যাতে আরও সুক্ষ্মভাবে নির্ণয় করা যায় বলের অবস্থান। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স আর হন্ডুরাসের মধ্যকার ম্যাচে প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল গোললাইন টেকনোলজি। করিম বেনজেমার দ্বিতীয় গোলটি গোল লাইন অতিক্রম হয়েছে কি হয়নি তা দেখা হয় গোললাইন টেকনোলজির মাধ্যমে। মনিটরে দেখে পরে রেফারি সিদ্ধান্ত দেন সেটি গোল। এটার পাশাপাশি ভ্যানিশিং স্প্রেও প্রথম ব্যবহার হয় ব্রাজিল বিশ্বকাপে। ১০ গজ দূরের ফ্রিকিক মারার জন্য রেফারিরা জায়গা চিহ্নিত সময় এই ভ্যানেশিং স্প্রে ব্যবহার করেন। আর ব্যবহারের মাত্র এক মিনিটের মাথায় তা মিলিয়ে যায়। এইসব কারণে ব্রাজিল বিশ্বকাপ টেকনোলজির বিশ্বকাপ হিসেবেও পরিচিতি পায়। 

নিজের প্রথম বিশ্বকাপ কাভার করা। আনন্দ আর উত্তেজনায় একাকার। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ব্রাজিল আর ক্রোয়েশিয়া মুখোমুখি। ভেন্যু অ্যারেনা ডি সাও পাওলো। মানে করিন্থিয়ান্স স্টেডিয়াম। বিশ্বকাপের আমেজে পুরোই ঝকঝকে। ৬৩ হাজারেরও বেশি ধারণক্ষমতা স্টেডিয়ামের। এত বড় স্টেডিয়াম প্রথম দেখা। ‘যা দেখি নতুন লাগে’ অবস্থা আমার। গ্যালারি যেন হলুদের বন্যা। যেদিকে চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। যেন হলুদেও আগুন লেগেছে গ্যালারিতে। ক্রোয়েশিয়ার সমর্থক যে ছিল না তেমনটা নয়। তুলনায় এতটাই কম যে বলার মতো নয়। রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেলো ম্যাচ। বল নিয়ে খেলোয়াড়দের প্রতিপক্ষের জালের দিকে ছোটাছুটি।

বলাই তো হয়নি, খেলা শুরুর আগে দারুণ এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্রাজিল। ছয়শ’জনের বেশি নৃত্যশিল্পী তাদের নাচের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন প্রকৃতি, মাটি-মানুষ আর ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসা। পিটবুল, জেনিফার লোপেজদের ‘উই আর ওয়ান’ গান দিয়ে শেষ হয় দেড় ঘণ্টার মনোমুগ্ধকর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। খেলতে নেমে শুরুতেই মার্সেলোর আত্মঘাতি গোল। পিছিয়ে পড়ে সেলেসাওরা। কয়েক মিনিটের জন্য স্তব্ধ সাও পাওলো অ্যারেনা। শেষ পর্যন্ত নেইমারের জোড়া গোলের পর অস্কারের  কল্যাণে ৩-১ গোলের জয় পায় ব্রাজিল। 

 

 

জয়-পরাজয়ের চেয়ে সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল আমার কাছে নতুন মনের নতুন প্রাণের কতো মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে পারা। কতো নতুন নতুন জিনিস দেখা। ফুটবল নিয়ে পৃথিবীজুড়ে মানুষের যে উন্মাদনা বিশ্বকাপের আসরে না গেলে কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। আর ব্রাজিলিয়ানরা সবার চেয়ে বেশি পাঁচবার যে বিশ্বকাপ জিতেছে, তার কারণ হলো ওরা খেলাটাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। একজন ব্রাজিলিয়ানের চেয়ে ফুটবল অন্ত্যপ্রাণ কেউ আজো নজরে আসেনি। ছোট্ট একটা ঘটনার কথা বলি, বিশ্বকাপ খেলা কাভার করতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যখনই গেছি, একটা কমন দৃশ্য সব জায়গাতেই দেখা গেছে। তা হলো, যানবাহন যখনই কোনো ট্রাফিক সিগন্যালে থেমেছে তখনই কেউ না কেউ গাড়ি থেকে নেমে বল নিয়ে জাগলিং শুরু করেছে রাস্তায়। সিগনাল শেষে আবার তারা যানবাহনে চড়ে চলে গেছেন নিজ গন্তব্যে। খেলাটিকে যারা এতটা ভালোবাসেন পাঁচবার জেতা তো তাদের জন্য একেবারে কম। ব্যক্তিগতভাবে আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। ম্যারাডোনা যে নেশা লাগিয়ে গেছেন চোখে-মুখে সেই নেশা এই জীবনে আর কাটবার নয়। তবু বলছি, ফুটবলই যাদের কালচার সেই ব্রাজিলের তো আরও পাঁচবার বিশ্বসেরা হওয়ার কথা। 

বারবার নাগালে এসেও তাদের হাত থেকে ফসকে যায় বিশ্বকাপ শিরোপা। ১৯৫০ সালে ড্র করলেও চ্যাম্পিয়ন, মারাকানা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের বিপক্ষে শুরুতে এগিয়ে থেকেও শিরোপা জিততে পারেনি ব্রাজিল। তার ৬৪ বছর পর বেলো হরিজন্তের মিনেইরো স্টেডিয়ামে, সেমিফাইনালের ম্যাচে যেনো স্বাগতিকদের নিয়ে ছেলেখেলা করলো জার্মানি। কালোমানিক পেলের সামনে সাম্বা ফুটবলকে যেন একেবারে মাটিতে নিয়ে আসে জার্মানরা। মারাকানাতে তো তবু লড়াই হয়েছিল, মিনেইরোতে হয় আত্মসমর্পণ! খেলার প্রথমার্ধ শেষের আগেই গ্যালারির হলুদ বন্যা মøান। স্রোতের মতে বেরিয়ে আসতে থাকে মাঠের বাইরে। যেন মান বাঁচাতে পালিয়ে বাঁচা। চোটের কারণে সেরা তারকা নেইমারের খেলতে না পারার শোক ব্রাজিলিয়ানদের কাছে এতটাই বেশি ছিল যে তারা মাঠে নেমে ডিফেন্স করতেই ভুলে যায়। তা না হলে, ২৯ মিনিটেই কোনো দল ৫ গোল হজম করে। তাও আবার ব্রাজিলের মতো দল! বলা যেতে পারে, অতিরিক্ত আবগেই ডেভিড লুইজ-থিয়াগো সিলভাদের ডুবিয়েছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এর আগে ৭-১ গোলে কোনো দল হারেনি। তাও আবার এমন একটি দল, যারা কিনা বিশ্বকাপের ফেভারিট, কাপ জিততে চাইছে!

সেই সব দুঃস্মৃতি পেছনে ফেলে দরোজায় কড়া নাড়ছে আরও একটি বিশ্বকাপ। মাঠ এবং মাঠের বাইরে এবারো মেতে উঠবেন ফুটবল ভক্তরা। মাঠের বাইরের কথা এ কারণেই বলছি যে, ফুটবল আনন্দ থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হন, তার জন্য ফ্যান ফেস্টের আয়োজন করে থাকে ফিফা। ২০১০ সাল থেকে চালু হয়েছে ফ্যান ফেস্ট। ব্রাজিলের ১২টি ভেন্যুতেই ছিল এই ফ্যান ফেস্ট। খেলা চলাকালে যে সকল দর্শক-সমর্থক টিকিট না পেয়ে মাঠে যেতে পারেননি তারা এই ফ্যান ফেস্টে এসে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা উপভোগ করবেন। ফিফা এই ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। ফ্যান ফেস্টে খেলা দেখার আনন্দ গ্যালারিতে বসে উপভোগের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। সামনে আরেকটি বিশ্বকাপ। এমনি ক্ষণে ব্রাজিল বিশ্বকাপের দিনগুলো আবারো মনের মাঝে উঁকি দিয়ে জানান দিলো ফুটবলানন্দে মেতে ওঠার দিন এসেছে আবার। উপভোগের প্রস্তুতি দরকার।  

বিশ্বকাপ ম্যাগাজিন থেকে আরও পড়ুন

   

বিশ্বকাপ ম্যাগাজিন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status